শনিবার, ২০ জুলাই, ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ক্ষুব্ধ

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

মাসুদ রানা, ময়মনসিংহ | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ জুন ২০১৯, শনিবার ০২:৩৫ পিএম

ময়মনসিংহ স্বাস্থ্য বিভাগে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ

ময়মনসিংহ : ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন ডা. একে এম আব্দুর রব এবং জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শামসুল আলমের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে খোদ সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের ভুক্তভোগী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।  

অভিযোগের সত্যতা বিষয়ে ময়মনসিংহের বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: আবুল কাসেম জানান, দ্বায়িত্ব গ্রহনের পর লোকমুখে এসব ঘটনা শুনেছি। কিন্তু লিখিত কোন অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে অবহিত করা হবে বলেও এই কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

সূত্রমতে, ময়মনসিংহে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্মরত সিভিল সার্জন ডা. এ কে এম আব্দুর রব বিগত কয়েক মাস পূর্বে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালন করেন। দ্বায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে বদলী বানিজ্যের অভিযোগ উঠে। তাঁর এ ধরনের কর্মকান্ডে প্রত্যক্ষ মদদ যোগিয়েছেন জেলা স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শামসুল আলম। মূলত তার মাধ্যমেই বদলী বাণিজ্য, পদোন্নতি ও নিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রমে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন খোদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

তাদের ভাষ্যমতে, জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, হোটেল, রেস্টুরেন্ট, ক্লিনিক, ডায়াগোনস্টিক সেন্টার, ভোগ্য পন্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায় করেন জেলা স্যানিরটারী ইন্সপেক্টর শামসুল আলম। মোবাইল কোর্টের ভয় দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট মালিকদের মাসোয়ারা দিতে বাধ্য করা হয় বলেও অভিযোগ একাধিক সূত্রের। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ডায়াগোস্টিক সেন্টার থেকে অফিস সহকারী ইমরান মেহেদী হাসানের মাধ্যমে নিয়মিত টাকা সংগ্রহ করাও অভিযোগ রয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলার বাসিন্দা আ: মোতালেব জানান, চাকরীতে যোগদানের আগে সিভিল সার্জন অফিসে মেডিকেল সার্টিফিকেট নিতে গেলে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা দিতে হয় সংশ্লিষ্টদের। এবং তাদের নির্ধারিত ডায়াগোনস্টিক বা ক্লিনিক থেকে করানো হয় ব্যায় বহুল পরীক্ষা-নিরীক্ষা।

সিভিল সার্জন অফিস সূত্র জানায়, উপজেলা পর্যায়ে স্টোর কিপার ও ফার্মাসিষ্টদের পরিবহন বিলের ১২ লাখ টাকা নিয়ম বর্হিভূতভাবে উত্তোলন করে নয়ছয়ের মাধ্যমে তা আত্মসস্বাৎ করা হয়েছে। এছাড়াও অফিস খরচের নামে ভুয়া বিল ভাউচার, বিআরটিএর অনুমোদন ছাড়াই জীপ গাড়ি মেরামতের নামে সরকারি টাকা আত্মসাৎ অভিযোগ র্দীঘদিনের। তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে ঘটনার সত্যতা মিলবে বলেও দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের।      

তবে এসব বিষয়ে স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শামসুল আলম দাবি করেন, দ্বায়িত্ব পালনকালে যাদের স্বার্থ নষ্ট হয়েছে। তারাই অভিযোগ করতে পারে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানের সাথে আমার লেনদেনের ঘটনা নেই। এসব মিথ্যা অভিযোগ।  

সূত্রমতে, চলতি বছরের ৩০শে মার্চ নগরীর চরপাড়া এলাকায় স্বাস্থ্য বিভাগের একটি বিভাগীয় টিম সরেজমিন পরিদর্শন করলে মেয়াদোর্ত্তীন রক্ত, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, প্রয়োজনীয় যন্ত্র সংকট, অভিজ্ঞ ডাক্তার এবং নার্স ও প্যাথলজিষ্ট না থাকাসহ দৃশ্যমান নানা অনিয়মের কারনে মিতা ক্লিনিক, পপুলার মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার, পপুলার হেলথ কেয়ার, ডেল্টা ডায়াগনোষ্টিক সেন্টার, আল মদিনা প্যাথলজি, স্পন্দন হাসপাতাল, জননী নাসিং হোম, ডেল্টা হেলথ কেয়ার এবং হক প্যাথলজি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু অনিয়ম হাতেনাতে পেয়েও রহস্যজনক কারনে পরবর্তী সময়ে ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন না করে জেলা সিভিল সার্জন স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাদের ত্রুটিবিচ্যুতি সংশোধের জন্য ১৫ দিনের সময় নির্ধারণ করে নোটিশ প্রদান করেন। কিন্তু বেঁধে দেয়া সময় পেরিয়ে গেলেও ডেল্টা হেলথ কেয়ার, পপুলার হেলথ ক্লিনিক এবং পপুলার মেডিকেল সার্ভিস সেন্টার লিখিত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও বাকিদের নামমাত্র নোটিশ করেই অভিযোগ ধামাচাপা দেয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মোটা অংকের আর্থিক লেনদেনে ওইসব প্রতিকষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েও ব্যবস্থা নেয়নি সিভিল সার্জন ডা: একেএম. আবদুর রব। একই ভাবে চলতি বছরের স্বাস্থ্য সপ্তাহে প্রায় শতাধিক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অনুষ্ঠান পালনের নামে মোটা দাগের টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে।

এসব বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা: একেএম. আবদুর রব জানান, নিয়ম মেনেই অভিযুক্ত ৯ প্রতিষ্ঠানকে প্রথম দফায় সংশোধনের নোটিশ এবং দ্বিতীয় দফায় বন্ধ করার নোটিশ দেয়া হয়েছে। এবং জেলা প্রশাসনকে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ওইসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রনের জন্য লিখিত ভাবে অবহিত করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, বদলীয় বাণিজ্যের অভিযোগ সঠিক নয়। সরকারের মন্ত্রী,এমপিদের ডিওলেটার এবং সুপারিশের কারনে মানবিক দিক বিবেচনায় তাদের বদলী করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি মর্মে লিখিত ডকুমেন্ট সংরক্ষিত আছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই