বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

যখন নফল নামাজ পড়া মাকরুহ

ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ জুন ২০১৯, বুধবার ০১:৪১ পিএম

যখন নফল নামাজ পড়া মাকরুহ

ঢাকা: দিন-রাত মিলিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়া ফরজ। এর বাইরে একজন মুসলিম যত খুশি ব্যক্তিগত নফল নামাজ আদায় করতে পারে, যার কোনো সীমারেখা নির্ধারিত নেই। কিন্তু প্রতি ২৪ ঘণ্টায় এমন কিছু সময় আছে যখন নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। নিচে এ সময়গুলো নিয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হলো—

১. ফজরের ওয়াক্ত শুরু হওয়ার পর থেকে ফরজ নামাজের আগপর্যন্ত ফজরের দুই রাকাত নামাজ ছাড়া অন্য কোনো নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। হজরত হাফসা (রা.) বলেন, ‘ফজরের ওয়াক্ত শুরু হলে রসুল (সা.) সংক্ষিপ্ত দুই রাকাত নামাজ ছাড়া আর কোনো নামাজ পড়তেন না।’ তবে এ সময় কাজা নামাজ পড়া যাবে।

২. মাগরিবের নামাজের পূর্বক্ষণে। ফিকহে হানাফি এবং ফিকহে মালেকীর মতে, মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার পর ফরজ নামাজের আগে কোনো নফল নামাজ পড়া জায়েজ নয়। অবশ্য ফিকহে শাফেয়ি মতে, এ সময় দুই রাকাত নামাজ পড়া সুন্নতে গাইয়ে মুয়াক্কাদা। আর ফিকহে হাম্বলি মতে, এ সময় দুই রাকাত নামাজ পড়া জায়েজ আছে বটে তবে তা সুন্নাত নয়।

৩. ইমাম খুতবা দেওয়ার জন্য নিজের জায়গা থেকে উঠে দাঁড়ালে। এ সময় কোনো নফল নামাজ পড়া জায়েজ নয়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার দিন ইমাম সাহেব খুতবা দেওয়ার সময় যদি তুমি তোমার পাশের লোককে বল ‘চুপ কর’ তাহলেও তুমি অনর্থক কাজ করলে।’ (সুবুলুস সালাম ২/৫০) ফিকহে শাফেয়ি ও হাম্বলি মতে, যদি ইমামের সঙ্গে তাকবিরে উলা ছুটে যাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে এ সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়ার অবকাশ আছে। তবে শুধু নামাজের ওয়াজিবগুলো আদায়ের মাধ্যমে তা সংক্ষিপ্ত সময়ে শেষ করতে হবে।

৪. ঈদের নামাজের আগে ও পরে ঘরে ও ঈদগাহে এবং নামাজের পরে শুধু ঈদগাহে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, ‘রসুল (সা.) ঈদের দিন দুই রাকাত নামাজ পড়েছেন। তার আগে ও পরে কোনো নামাজ পড়েননি।’ (সুবুলুস সালাম ২/৬৬)

৫. ফরজ নামাজের ইকামত দেওয়ার সময়। ফিকহে হানাফি মতে, এ সময় সব ধরনের নফল নামাজ পড়া মাকরুহ। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘ফরজ নামাজের ইকামত দেওয়া হলে আর কোনো নামাজ পড়ার সুযোগ নেই।’ তবে ফজরের সুন্নতের ক্ষেত্রে এর একটু ব্যতিক্রম আছে। কারো যদি তাশাহুদে শরিক হওয়ার মাধ্যমেও জামাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাহলে জামাত শুরু হলেও ফজরের দুই রাকাত সুন্নাত নামাজ পড়া যাবে।

৬. যদি ফরজ নামাজের সময় খুবই অল্প থাকে, যখন সুন্নাত পড়তে গেলে যথাসময়ে আর ফরজ পড়া যাবে না, তখনো ফরজ ছাড়া ভিন্ন কোনো সুন্নাত নফল পড়া মাকরুহ।

৭. আরাফার দিন জোহর ও আসরের মাঝে এবং আসরের পরে, মুজদালিফায় মাগরিব ও এশার মাঝে এবং এশার পরে নফল নামাজ পড়া মাকরুহ।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই