শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৩০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হলো যাদের

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৮, রবিবার ০৪:৪৬ পিএম

যাচাই-বাছাইয়ে মনোনয়ন বাতিল হলো যাদের

ঢাকা : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রোববার (২ ডিসেম্বর) থেকে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে। সব হিসাব-নিকাশ শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ ডিসেম্বরে।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে যাদের মনোনয়ন বাতিল হলো-

ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল : ঢাকা: ফেনী-১ আসনের বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল। রোববার (২ ডিসেম্বর) দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান সংশ্লিষ্ট রির্টানিং কর্মকর্তা।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশে প্রার্থী হতে আগ্রহী ৩ হাজার ৬৫ জনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। যার অংশ হিসেবে ফেনী-১ আসনে খালেদা জিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের বিশেষ করে বিরোধী জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান শরিক বিএনপির অনেকে প্রার্থী হয়েছেন মাথায় মামলার ঝুলি নিয়ে। দলের নেতাদের অনেকেই মামলা জটিলতায় আছেন। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয় এটি সাধারণ ভোটার এবং প্রার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে।

জটিলতার কারণে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে এ শঙ্কায় বিরোধী জোট প্রায় সব আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে ঝুঁকি আছে এমন আসনে আওয়ামী লীগও একাধিক প্রার্থী দিয়েছে। বিশেষ করে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে যারা প্রার্থী হয়েছেন তারা প্রার্থী থাকতে পারছেন কিনা এ নিয়ে আলোচনা রয়েছে।

ঋণখেলাপি রেজা কিবরিয়ার মনোনয়ন বাতিল : সিটি ব্যাংক থেকে ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে হবিগঞ্জ-১ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী শাহ এএম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (২ ডিসেম্বর) দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মাহমুদুল কবির মুরাদ এ ঘোষণা দেন।

২০০১ সালের নির্বাচনে হবিগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত হন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া।  ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে গ্রেনেড হামলায় তিনিসহ ৫ জন নিহত হন।

সম্প্রতি তার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম তথা ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করার জন্য হবিগঞ্জ-১ আসনের দলীয় মনোনয়ন এবং পরে সরকারি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে জেলা রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দেন।

এ ছাড়া একই আসনে আরও ৫ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন- স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান এমপি আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল হান্নান, ইসলামী ফ্রন্টের জুবায়ের আহমেদ, ইসলামিক ফ্রন্টের বদরপুর রেজা সেলিম ও ইসলামী আন্দোলনের আবু হানিফ আহমদ হোসেন।

যে কারণে স্থগিত হলো আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন : ঋণখেলাপির অভিযোগে ঢাকা-৯ আসনে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন স্থগিত করেছে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তাকে এম আলী আজম। এ আসনে মোট ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিলো। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে দুইটি ও সাতটি বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ফরিদ উদ্দীন ও শফিকুল আলী মুকুল পাহাড়ির। বৈধ করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাবের হোসেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের মানিক মিয়া, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মাহফুজা আক্তার, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের শফিউল্লা চৌধুরী, বিএনপির হাবিবুর রশিদ ও মুসলীম লীগের আবদুল মোতালেবের।

কে এম আলী আজম জানান, ঋণখেলাপির অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী আফরোজা আব্বাসের মনোনয়ন স্থগিত করা হয়েছে। ২ ঘণ্টা পর তার মনোনয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রিটার্নিং কর্মকর্তা। যদিও তার পক্ষে কোর্ট আদেশ তুলে ধরেছেন তার স্বামী মির্জা আব্বাস।

কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) ৪ ও টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম এই নেতা নির্বাচন করতে পারবে না।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় এ দুইটি আসনে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম।

আজ রোববার সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ তথ্য জানানো হয়।

আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ২৮ নভেম্বর মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিল। আজ ২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাই, প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে ১০ ডিসেম্বর।

গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বাতিল : পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মাওলা রনির মনোনয়ন বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় রনির মনোনয়নপত্র বাতিল। রোববার দুপুর ১২টায় পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় এ ঘোষণা দেয়া হয়। এছাড়া বিএনপি মনোনীত অপর প্রার্থী মো. শাহজাহান খান ঋণ খেলাপী হওয়ায় তার মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

তবে বিএনপি থেকে মনোনীত অপর প্রার্থী হাসান মামুনের মনোনয়ন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা আগামী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরারব আপিল করতে পারবেন বলে জানান জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা ও দশমিনা) আসনে বিএনপি থেকে মোট ৩ জন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল।

এ আসনে মোট ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন দাখিল করলেও তাদের মধ্যে দুই জন ছাড়া বাকি সবার মনোনয়নপত্র বৌধ বলে গৃহীত হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালী-১ আসনে ১২ জনের মধ্যে ৪ জন এবং পটুয়াখালী-২ আসন থেকে ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়েছে।

ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়ন বাতিল : কুড়িগ্রাম-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমরান এইচ সরকারের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটারের তালিকায় ত্রুটি থাকায় রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসক মোছা. সুলতানা পারভীন মনোনয়নপত্রটি বাতিল করেন। তবে ইমরান এইচ সরকার জানিয়েছেন, এর বিপরীতে কাগজ পাওয়ার পর তিনি আপিল করবেন।

এছাড়া কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে তথ্য গোপনের অভিযোগে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী জাকির হোসেনের মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে। কুড়িগ্রামের মোট চারটি আসনে ৫৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এদের মধ্যে ১৯ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

জানা গেছে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনেই ১৩ জনের ও কুড়িগ্রাম-৩ আসনে ঋণ খেলাপের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী আব্দুল খোলেকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। এছাড়া কুড়িগ্রাম-২ আসনে ৪ জন ও কুড়িগ্রাম-১ আসনে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল : আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলমের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। রোববার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নন্দীগ্রাম উপজেলা নির্বাচন অফিসার আশরাফ হোসেন। আশরাফ হোসেন বলেন, ‘কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে মনোনয়ন নিলে তাকে তার নির্বাচনী এলাকার মোট ভোটারের ১ শতাংশের স্বাক্ষর লাগে। তবে হিরো আলম ভোটারদের স্বাক্ষর-সম্বলিত যে তালিকা জমা দিয়েছেন তা যাচাই করা দেখা গেছে, তিনি ভুয়া ভোটারদের তালিকা জমা দিয়েছেন।’

জাতীয় পার্টির (জাপা) মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন আশরাফুল ইসলাম আলম ওরফে হিরো আলম। বুধবার (২৮ নভেম্বর) বগুড়া-৪ (কাহালু-নন্দীগ্রাম) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নন্দীগ্রাম উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও মোছা. শারমিন আখতারের কাছে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তিনি।

খোকার ছেলে ইশরাকের মনোনয়ন বাতিল : বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ফলে তিনি নির্বাচন করতে পারবেন না।

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের শুরুর দিনে আজ রোববার সকালে ঢাকা বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। এ সময় জানানো হয় ঋণখেলাপির কারণে ইশরাকের মনোনয়ন বাতিল করা হল।

ইশরাক ঢাকা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। গত বুধবার ঢাকা-৬ আসনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হো‌সেন।

এ সময় প্রকৌশলী ইশরাক বলেন, দল মনোনয়ন দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ। ঢাকা-৬ আসনটি আমি ধানের শীষকে উপহার দেয়ার চেষ্টা করব।

প্রকৌশলী ইশরাক হোসেনের বাবা সাদেক হোসেন খোকা অবিভক্ত ঢাকার মেয়র ছিলেন। তিনি ঢাকা-৬ আসন থেকে নির্বাচন করার কথা ছিল। একাধিক মামলায় সাজা পেয়ে খোকা এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন।

ঢাকা বিভাগের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র বলছে, ঢাকা-৬ আসনে ১৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে ইশরাক রয়েছেন।

ঢাকার ১৫ আসনে ২১৩ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত তিনটি আসনের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর ঘোষণা চলছে।

গত ৮ নভেম্বর নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। পুনঃতফসিল অনুযায়ী, আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ। নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার ৯ ডিসেম্বর। আর প্রতীক বরাদ্দ হবে ১০ ডিসেম্বর।

সেই সাবিরা সুলতানা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না : যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সাবিরা সুলতানার দণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের ওপর চেম্বার কোর্টের স্থগিতাদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ বিষয়ে উভয়পক্ষে শুনানি করে চেম্বার কোর্টের দেয়া স্থগিতাদেশ চলমান রাখে। আদালত আদেশে বলেন, “স্ট্যা টু কন্টিনিউ”।

এর আগে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান সাবিরা সুলতানাকে নিম্ন আদালতের দেয়া ছয় বছরের সাজা ও দন্ড গত বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর স্থগিত করেছিল হাইকোর্টের একটি একক বেঞ্চ। রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদকের আবেদনে চেম্বার কোর্ট গতকাল শনিবার তা স্থগিত করে শুনানির জন্য আজ আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ধার্য করে আদেশ দেয়। সে অনুযায়ি আজ শুনানি হয়।

দুদকের আইনজীবী খুরশীদ আলম খান জানান, সাবিরা সুলতানার দণ্ড স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ স্থগিত করে চেম্বার কোর্টের দেয়া আদেশ আপিল বিভাগও বহাল রখেছে। সর্বোচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের ফলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাবিরার অংশ নেয়ার সুযোগ থাকল না। ফলে দুই বছরের বেশি দণ্ডিতদের নির্বাচন করার সূযোগ থাকল না।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন এটর্নি জেনালে মাহবুবে আলম। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মুরাদ রেজা ও অতিরিক্ত এটর্নি জেনারেল মোমতাজ উদ্দিন ফকির। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী খুরশিদ আলম খান ও এডভোকেট এবিএম বায়েজিদ। সাবিরার পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী এজে মোহাম্মদ আলী , এম আমিনুল ইসলাম।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আজকের আদেশের ফলে সাবিরা সুলতানার নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ আর থাকল না। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, শুধু সাবিরা সুলতানাই নয়, এটা সংবিধানের বিধান। দুই বছরের বেশি দণ্ডিত কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় চলতি বছর ১২ জুলাই সাবিরা সুলতানাকে দুটি ধারায় তিন বছর করে মোট ৬ বছরের সাজা দেয় ঢাকার একটি বিশেষ জজ আদালত। যশোর-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া সাবিরা ওই সাজা ও দণ্ড স্থগিতের আবেদন করলে বিচারপতি মো. রইস উদ্দিনের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ গত বৃহস্পতিবার ২৯ নভেম্বর তা মঞ্জুর করে।

এর আগে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ বলেছিল, দুই বছরের বেশি দণ্ড ও সাজা হলে আপিল করেও কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। এ আদেশ আপিল বিভাগও বহাল রাখে। দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত বিএনপির পাঁচ নেতার দণ্ড ও সাজা স্থগিতের আবেদন খারিজ করে বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত একটি হাইকোর্ট বেঞ্চ এ পর্যবেক্ষণ দেয়। ফলে আবেদনকারী পাঁচ বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া, মো. মসিউর রহমান ও মো. আবদুল ওহাবের নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে বলে মত দিয়েছিলেন দুদকের আইনজীবী।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়ন বাতিল : রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনে বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আমিনুল হকসহ আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

যাচাই-বাছাইকালে রোববার সকালে তার মনোনয়পত্র বাতিল করেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম আবদুল কাদের। রিটার্নিং অফিসার জানান, তথ্য গোপনের অভিযোগে প্রার্থী ব্যারিস্টার আমিনুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

ব্যারিস্টার আমিনুল হকের সমর্থক ও গোদাগাড়ী পৌর বিএনপির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে সমর্থনকারী হিসেবে তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। মনোনয়নপত্রে তার মামলাসংক্রান্ত ফটোকপি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু কমিশনের নির্দেশমতো সার্টিফায়েড বা সত্যায়িত কপি না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

তারা আশা করছেন সার্টিফায়েড কপি দাখিল করে মনোনয়ন ফিরে পাবেন। এদিকে একই আসনে ব্যারিস্টার আমিনুল হকের স্ত্রী আভা হকের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

এদিকে রাজশাহী-১ আসনে ১২ প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে আটজনের মনোনয়নপত্র বাতিল হল। এখন সেখানে চারজনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ আসনে টানা তিন মেয়াদে সংসদ সদস্য ছিলেন ব্যারিস্টার আমিনুল হক।

জানা গেছে, রাজশাহী-১ আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ১২ প্রার্থী। তারা হলেন-আওয়ামী লীগের ওমর ফারুক চৌধুরী, বিএনপির ব্যারিস্টার আমিনুল হক, তার স্ত্রী আভা হক, শাহাদাত হোসেন, ওয়ার্কার্স পার্টির রফিকুল ইসলাম পিয়ারুল, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল মান্নান, বাসদের আলফাজ হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত আমির মুজিবুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাহ উদ্দিন বিশ্বাস, সাইদুর রহমান, শহিদুল কবির শিবলী ও সুজা উদ্দিন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার দফতর থেকে জানা গেছে, বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলবে। রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে এবার মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন ৬৭ জন। এর মধ্যে ২৪ জন বাদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন ৪৩ প্রার্থী।

এমপি আওয়ালের মনোনয়নপত্র বাতিল : ক্ষ্মীপুর-১ আসনের বর্তমান এমপি এবং জাকের পার্টির প্রার্থী এম এ আওয়ালের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহাবুব আলমর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল।

এছাড়া লক্ষ্মীপুর-২ আসনে বিকল্পধারার মহাসচিব শাহ আহম্মদ বাদলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। রবিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় এগুলো বাতিল করা হয়।

জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে,  ঋণখেলাপি হওয়ায় এম এ আওয়াল এবং মাহাবুব আলমের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আর ১৯ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল বাকি থাকার কারণে লক্ষ্মীপুর-২ আসনে শাহ আহম্মদ বাদলের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রসঙ্গে আউয়ালের অভিযোগ,  ‘আমার ১২ ব্যাংকে ১২ কোটি টাকার ঋণ ছিল। এই ঋণের ব্যাপারে হাইকোর্টে স্টে ছিল। হাইকোর্টের কাগজপত্র নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসার পথে নৌকার প্রার্থী আনোয়ার খানের সমর্থক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ কারণে আমার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আমি এই বিষয়ে আপিল করবো। আনোয়ার খানের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহজাহান জানান, এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ঋণখেলাপি রুহুল আমি হওলাদারের মনোনয়ন বাতিল: পটুয়াখালী-১ আসনে ঋণখেলাপির অভিযোগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

রোববার (২ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দরবার হলে মনোনয়নপত্র বাছাইকালে জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী এ মনোনয়নপত্র বাতিল করেন।

তবে, তিনি আগামী তিনদিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বরাবর আপিল করতে পারবেন বলে জেলা রিটার্নিং অফিসার জানিয়েছেন।

মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে পটুয়াখালী-১ (সদর-মির্জাগঞ্জ-দুমকি) আসনে ১২ জনের মধ্যে ৫ জন, পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসন থেকে ১০ জনের মধ্যে ৩ জনের এবং পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে ৭ জনের মধ্যে ২ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, পটুয়াখালী-৩ আসনে বিএনপি থেকে তিনজন প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছিল। এ তিনজনের মধ্যে হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকায় গোলাম মাওলা রনির এবং ঋন খেলাপী হওয়ায় মো. শাহজাহান খানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। এর ফলে এ আসনে বিএনপির হাসান মামুন এখন একমাত্র প্রার্থী রয়েছেন।

উল্লেখ্য, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৪ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে তরিকত ফেডারেশন থেকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন এম এ আওয়াল। এবার তরিকত ফেডারেশন থেকে মহাজোটের প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় দল বদল করে জাকের পার্টির প্রার্থী হয়েছেন তিনি।

• রংপুর-১ (গঙ্গাচড়া ও আংশিক সিটি) আসনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আসাদুজ্জামান বাবলুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে দেয়া পদত্যাগপত্র জমা দিলেও গেজেট প্রকাশিত না হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

• বাগেরহাটের ৪টি সংসদীয় আসনে মহাজোট, ঐক্যফ্রন্ট ও বিভিন্ন দলসহ সর্বমোট ২৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার। বাগেরহাট-১ আসনে ঋণ খেলাপের দায়ে জাতীয় পার্টির আহমেদ জোবায়েরের এবং বাগেরহাট-২ আসনে একই দলের প্রার্থী শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের মনোনয়নপত্র ত্রুটিপূর্ণ থাকায় তা বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া বাগেরহাট-৪ আসনে মো. আমিনুল ইসলাম খানের (এনপিপি) মনোনয়নপত্রে ত্রুটির জন্য তা বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার।

সোনালীনিউজ/এমটিআই