শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

যাদের ওপর জাকাত ফরজ 

 ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, রবিবার ১২:১১ পিএম

যাদের ওপর জাকাত ফরজ 

ঢাকা: প্রত্যেক মুসলমানকে যেমন জাকাত ফরজ হওয়ার বিষয় সম্পর্কে বিশ্বাস করতে হবে, ঠিক তেমনিভাবে যার ওপর জাকাত ফরজ তাকে তা নিয়মিত পরিশোধও করতে হবে। নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক সকল মুসলিম নর-নারীর ওপর জাকাত প্রদান করা ফরজ।

নোনো ব্যক্তি নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার পর চাঁদের হিসাবে পরিপূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হলে তার ওপর পূর্ববর্তী বছরের জাকাত প্রদান করা ফরজ। অবশ্য যদি কনো ব্যক্তি জাকাতের নিসাবের মালিক হওয়ার পাশাপাশি ঋণগ্রস্ত হয়,তবে ঋণ বাদ দিয়ে নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর জাকাত ফরজ হবে। জাকাত ফরজ হওয়ার পর যদি কোনো ব্যক্তি জাকাত প্রদান না করে অর্থ-সম্পদ খরচ করে ফেলে তাহলেও তার পূর্বের জাকাত দিতে হবে।

জাকাতের নিসাব:
রূপা ৫৯৫ গ্রাম (৫২.৫০ভরি) কিংবা স্বর্ণ ৮৫ গ্রাম (৭.৫০ ভরি) অথবা স্বর্ণ বা রুপা যে কোনো একটির নিসাবের মূল্য পরিমাণ অর্থ-সম্পদ বা ব্যবসায়িক সামগ্রীকে জাকাতের নিসাব বলে।

কোনো ব্যক্তির মৌলিক প্রয়োজন পূরণের পর যদি নিসাব পরিমাণ সম্পদ তার মালিকানায় থাকে এবং চন্দ্র মাসের হিসাবে এক বৎসর তার মালিকানায় স্থায়ী থাকে তাহলে তার ওপর এ সম্পদ থেকে চল্লিশ ভাগের এক ভাগ জাকাত রুপে প্রদান করা ফরজ। মনে রাখতে হবে বছরের শুরু ও শেষে এ নিসাব বিদ্যমান থাকা জরুরি। বছরের মাঝখানে এ নিসাব পূর্ণ না থাকলেও জাকাত প্রদান করতে হবে। সম্পদের প্রত্যেকটি অংশের ওপর এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয় বরং শুধু নিসাব পরিমাণের ওপর বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত। 

অতএব, বছরের শুরুতে শুধু নিসাব পরিমাণ অর্থ-সম্পদ থাকলেও বছরের শেষে যদি সম্পদের পরিমাণ বেশি হয় তাহলে ওই বেশি পরিমাণের ওপর জাকাত প্রদান করতে হবে। বছরের যে কোন অংশে অধিক সম্পদ যোগ হলে তা পূর্ণ এক বছর অতিবাহিত হওয়া শর্ত নয়। জাকাত ফরজ হওয়ার ক্ষেত্রে মূল নিসাবের ওপর বছর অতিক্রম করা শর্ত। জাকাত, জাকাতুল ফিতর, কোরবানী এবং হজ এ সকল শরীয়তের বিধান সম্পদের মালিকানার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

জাকাত বহির্ভুত সম্পদ:
জমি, বাড়ী-ঘর, দালান, দোকানঘর, কারখানা, কারখানার যন্ত্রপাতি, কলকব্জা, যন্ত্রাংশ, কাজের যন্ত্র, হাতিয়ার, অফিসের আসবাবপত্র ও সরঞ্জাম, যানবাহনের গাড়ী, নৌকা, লঞ্চ , জাহাজ, বিমান ইত্যাদি, যানবাহন বা চলাচলের অথবা চাষাবাদের পশু, ব্যবহারিক গাড়ী, ব্যবহারিক কাপড়-চোপড়, ঘরের আসবাবপত্র ও সরঞ্জামাদি, নিত্য-নৈমিত্তিক ব্যবহার্য সামগ্রী, গৃহ-পালিত পাখি, হাঁস-মুরগী ইত্যাদির যাকাত হয় না। ঋণ পরিশোধের জন্য জমাকৃত অর্থের ওপর জাকাত হয় না। শস্য ও গবাদি পশুর জাকাত পরিশোধ করার পর ওই শস্য বা গবাদি পশু বিক্রিকরে নগদ অর্থ প্রাপ্ত হলে ওই প্রাপ্ত অর্থের ওপর একই বছরে জাকাত দিতে হবে না। কারণ একই সম্পদের একই বছরে দুইবার জাকাত হয় না। চলবে...

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই