বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

যুবলীগের ‘রূপরেখা’ জানা যাবে আজ

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ অক্টোবর ২০১৯, রবিবার ০২:০৮ পিএম

যুবলীগের ‘রূপরেখা’ জানা যাবে আজ

ঢাকা : চলমান ‘শুদ্ধি অভিযানে’ সবচেয়ে বেশি ঝড়-ঝাপটার মুখোমুখি হওয়ার পাশাপাশি সংগঠনের ভবিষ্যৎ নিয়েও চরম দুশ্চিন্তায় আছেন যুবলীগের নীতিনির্ধারকরা।

শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ার যেসব তথ্য সংবাদমাধ্যমে এসেছে, এতে পুরো সংগঠনকে সংস্কারের লক্ষ্যে আমূল বদলে দেওয়ার দাবি উঠেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী এ সংগঠনের আগামীর নেতৃত্বে কাদের প্রাধান্য দেওয়া হবে, গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোর বেলায় বয়সসীমা কত হতে পারে, আগের মতো শীর্ষ নেতাদের প্রভাব-বলয়ে সংগঠন আটকে থাকবে কি না, লক্ষ্য ও আদর্শ বাস্তবায়নে সামনের দিনগুলোতে নেতৃত্বের অবস্থান কেমন হতে হবে বা সংগঠনটির ‘ভবিষ্যৎ রূপরেখা’ কেমন হবে, সেসব বিষয়ে রোববার (২০ অক্টোবর) স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে অনুষ্ঠেয় এক বৈঠক থেকে বিতর্কমুক্ত ও পরিচ্ছন্ন ভবিষ্যতের যুবলীগের দিকনির্দেশনাও পাওয়া যাবে বলে ধারণা করছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতারা।

শুদ্ধি অভিযানের মতো বড় ধাক্কা ও নানা বিতর্কের মধ্যে কেমন হতে পারে যুবলীগের আগামী কমিটি, কী হতে পারে ভবিষ্যৎ নির্দেশনা, সেদিকেই নজর রাখছেন আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা। গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আওয়ামী লীগের অন্য সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মতো যুবলীগেও শুদ্ধি অভিযান শুরুর এক মাস পর হতে যাওয়া এ বৈঠককে ঘিরে সারা দেশের নেতাকর্মীর মধ্যে আগ্রহ ও কৌতূহল আছে।

আজকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে নানা কারণে সমালোচিত ও বিতর্কিত যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী ও সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওনকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার সুযোগ না দেওয়ার মধ্যেও সংগঠনটিতে সংস্কারের বার্তা আছে বলে মনে করেন তারা।

সূত্র জানায়, আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের সঙ্গে আজ বিকালে গণভবনে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। গত বুধবার সন্ধ্যার পর যুবলীগের কয়েক নেতা তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে ২০ অক্টোবর বিকালে বৈঠকের জন্য সময় দেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে যুবলীগের আসন্ন সম্মেলন ও সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীদের নামে এত অভিযোগ উঠেছে যে, পুরো সংগঠনই দূষিত হয়ে গেছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল নেতারা।

এ কারণে গোটা যুবলীগকেই ঢেলে সাজাতে চান আওয়ামী লীগ সভাপতি। আজকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এমন ধারণা পাওয়া যেতে পারে বলেও মনে করেন সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা।

সূত্রমতে, ক্যাসিনো বাণিজ্য, টেন্ডারবাজি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মে যুবলীগ নেতাদের জড়িত থাকার পাশাপাশি সংগঠনের চেয়ারম্যানের বয়স নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের বয়স ৭১ বছর। মূলত এ কারণেই বয়স বেধে দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে এবারের সম্মেলনের আগে জোর আলোচনা চলছে।

কত বছর পর্যন্ত যুবলীগের নেতৃত্বে থাকা যাবে, তা নির্ধারণের দাবিও উঠেছে মূল দল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে সংগঠন থেকেও। বর্তমান কমিটির মতো ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী নেতাদের বাদ দিয়ে অনূর্ধ্ব ৪০ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের নেতৃত্বে আনার বিষয়টি ভাবছেন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা।

তবে যুবলীগের বর্তমান কমিটির অনেকে বয়সসীমা ৪৫ বছরের মধ্যে বেধে দেওয়ার বিপক্ষে। বয়সের বিষয়টি আজ নির্ধারণ হতে পারে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যুবলীগের বৈঠকে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘কোন বয়স পর্যন্ত যুবলীগ করা হবে, যুবলীগের চেয়ারম্যানকে কেন বৈঠকে ডাকা হয়নি, তা নিয়ে ২০ অক্টোবরে (আজ) গণভবনে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে আলোচনা হবে।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যুবলীগের নেতাদের বয়সসীমা বেধে দেওয়ার বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্ধান্ত নেবেন। তিনি এখনো আমাদের কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি।’

সূত্রমতে, নানা অপকর্মে জড়িয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে থাকা যুবলীগের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব। এজন্যই  এ যুব সংগঠনকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয় দল। বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ভাবর্মূর্তির নতুন নেতৃত্ব আনার জন্য নভেম্বরে সংগঠনটির সম্মেলন হচ্ছে। চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে ছাড়াই কেন্দ্রীয় সম্মেলন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুবলীগ।

সংগঠনের সার্বিক পরিস্থিতি ও সপ্তম জাতীয় কংগ্রেস সামনে রেখে চেয়ারম্যানকে ছাড়াই গত ১১ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হয় যুবলীগের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সভাপতিম্ললীর সদস্যদের বৈঠক।

এদিকে নতুন কমিটিতেও ঠাঁই হচ্ছে না বর্তমান চেয়ারম্যান ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদের। অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িতদের দলের কোনো পর্যায়েই রাখা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জাহাঙ্গীর কবির নানক।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা মনে করেন, সংগঠনের দায়িত্বপ্রাপ্ত যাদের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত ও বদনামের মুখোমুখি হয়েছে, তাদের বিবেচনায় রাখার সুযোগ নেই।

যুবলীগকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করে এবারের কমিটি করা হবে। নতুন যারা আসবেন, তাদের অনেক দায়িত্ব থাকবে। ইতোমধ্যে যারা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছেন, তাদের বিদায় করা হবে।

২০১২ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত হয় যুবলীগের তিন বছর মেয়াদি সর্বশেষ সম্মেলন। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী এরপর ২০১৫ সালে পরবর্তী সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। মূলত সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বের অনীহার কারণেই নির্ধারিত সময়ের পরও সম্মেলন করা যায়নি বলে অভিযোগ কয়েকজন যুবলীগ নেতার।

আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনা এবার অনেক বেশি যাচাই করে যুবলীগসহ দলের সব সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোতে নেতৃত্ব বাছাইয়ের নির্দেশনা দেবেন।

জাতির জনক ও সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙালি শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা দলের সহযোগী সংগঠনগুলোতে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাইছেন, যা অনুভব করে সহযোগী সংগঠনগুলোর আসন্ন সম্মেলনে প্রতিনিধিরা নেতৃত্ব নির্বাচন করবেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের সঙ্গে  সংগতি রেখে সংগঠনগুলোর গঠনতন্ত্র সংশোধিত হয়েছে। সেগুলো মেনেই সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনে আওয়ামী লীগ হস্তক্ষেপ করছে না বলেও তাদের দাবি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই