বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২০, ২২ শ্রাবণ ১৪২৭

অর্থপাচার

যুবলীগের সেই খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০২০, মঙ্গলবার ১০:০৪ পিএম

যুবলীগের সেই খালেদ তিন দিনের রিমান্ডে

ঢাকা : ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচিত ও বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার সিআইডির দায়ের করা অর্থপাচার আইনের মামলায় তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমানের ভার্চুয়াল আদালত এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড শুনানিকালে খালেদ কাশিমপুর কারাগারেই ছিল। তাকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারকের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়। তার আইনজীবীও একইভাবে সংযুক্ত হয়ে রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মতিঝিল থানার অর্থপাচার আইনের এ মামলায় এদিন তাকে গ্রেফতার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন সিআইডি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুর রহমান।

মতিঝিল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মোতালেব হোসেন ভার্চুয়ালি রিমান্ড শুনানির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চলতি বছর ৭ জুন সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইমের ইকোনমিক ক্রাইম স্কোয়াডের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. ইব্রাহিম হোসেন বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। মামলাটিতে আগামী ১২ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য আছে।

মামলার অপর আসামিরা হলেন-আইয়ুব রহমান, আবু ইউনুস ওরফে আবু হায়দার, দীন মজুমদার ও অজ্ঞাত আরও কয়েকজন। তবে খালেদ ছাড়া অপর উল্লিখিত আসামিরা অর্থপাচারে খালেদকে সহযোগিতা করেছেন মর্মে উল্লেখ আছে।

মামলায় বলা হয়, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত অবৈধ প্রভাব বিস্তার ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীর কমলাপুর রেল ভবন, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ঢাকা ওয়াসার ফকিরাপুল জোন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সব প্রকল্পের কাজের টেন্ডার একচ্ছত্রভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছেন। তিনি খিলগাঁও-শাহজাহানপুর হয়ে চলাচলকারী গণপরিবহন থেকে নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা আদায়, প্রতি ঈদে শাহজাহানপুর কলোনী মাঠ মেরাদিয়া এবং কমলাপুর পশুর হাট নিয়স্ত্রণ, খিলগাঁও রেল ক্রসিং এ প্রতিরাতে শক্তির দাপট দেখিয়ে মাছের হাট বসিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা ছিল তার নিত্য নৈমিত্তিক কাজ। তিনি এলাকার সরকারি প্রতিষ্ঠান, রাজউক, সিটি করপোরেশন, ক্রীড়া পরিষদ, পানি উন্নয়ন বোর্ড, যুব ভবন, কৃষি ভবন, ওয়াসার ফরিকারপুল জোনসহ সকল প্রতিষ্ঠানে তার মালিকানাধীন ‘ভূঁইয়া এন্ড ভূঁইয়া’ নামক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে একছত্র টেন্ডার নিয়স্ত্রণ করতেন। তিনি ফরিকারপুল ইয়াংমেন্স ক্লাবের সভাপতির দায়িত্বে থেকে ক্যাসিনো, মাদক ও জুার আসর বসিয়ে প্রতিদিন হাতিয়ে নিতেন লাখ লাখ টাকা।

মামলায় বলা হয়, খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার এ ৪,১৯৫, উত্তর শাহজাহানপুর, ঢাকায় আরবি বিল্ডার্সের নির্মিত ফ্ল্যাট যার আয়তন ১২৫০ বর্গফুট, গুলশান-২ এ ৩৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট এবং মোহাম্মদপুরে কাদেরাবাদ হাউজিংয়ে একটিসহ রাজধানীতে মোট তিনটি ফ্ল্যাট বা বাসার সন্ধান মিলেছে। এ ছাড়া তার নিজ নামে একটি ২০১৬ সালের মডেলের প্রাডো, একটি নোয়াহ গাড়ি আছে।

তিনি আয়ের উৎস গোপন করতে আইয়ুব রহমানের সহযোগিতায় মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে অবৈধভাবে অর্থপাচার করেন। গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর গুলশান থানায় দায়ের করা মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তকালেও মালয়েশিয়ার মাইব্যাংক ও আরএইচবি ব্যাংক, সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংক এবং থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংকের একটি এটিএম ডেবিট কার্ড জব্দ করা হয়।

সিআইডি অনুসন্ধানে ২০১৮ সালের মে মাসে খোলা মালয়েশিয়ার মাইব্যাংক ও আরআইআইবি ব্যাংকের চারটি হিসাবে আসামি খালেদের নামে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২৫ লাখ ৫৭ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত যার মধ্যে দুটি সঞ্চয়ী হিসাবে ২২ লাখ ৫৭ হাজার এবং দুটি এফডিআর হিসাবে মোট তিন লাখ রিঙ্গিত পাওয়া যায়। 

২০১৮ সালের ৪ মে ইস্যু করা মালয়েশিয়ার ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ৩ মে ২০২১। ভিসা অনুযায়ী সেখানে তার সেকেন্ড হোম। এই সেকেন্ড হোম ভিসার পূর্বশর্ত হিসেবে মালয়েশিয়া সে এফডিআর করেছে মর্মে জানা যায়। শুধু তাই নয়, সিঙ্গাপুরে খালেদ অর্পণ ট্রেডার্সের নামে একটি ইলেকট্রনিক্স পণ্য বিপণনী প্রতিষ্ঠান খোলেন। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংকে মালিকানাধীন একই প্রতিষ্ঠানের নামে একটি চলতি হিসাব খোলেন। যেখানে ৫ লাখ ৫ হাজার সিঙ্গাপুর ডলারের সন্ধান পাওয়া গেছে, যার শেয়ারহোল্ডার সিঙ্গাপুর নাগরিক আবু ইউনুস ওরফে আবু হায়দার ও আইয়ুব রহমানের সহযোগিতায় এ টাকা হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যায়।

২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া নিজ নামে থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ব্যাংকে আরও একটি হিসাব খোলেন, যাতে ১০ লাখ থাই বাথ জমা হয়। এ টাকাও আইয়ুব রহমানের সহযোগিতায় হুন্ডির মাধ্যমে পাচার করা হয়। থাইল্যান্ডে দীন মজুমদার সে টাকা তার হিসাবে জমা করেন। উল্লেখিত তিন দেশের ব্যাংক হিসাবে ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত খালেদের মোট স্থিতির পরিমাণ প্রায় আট কোটি ৫০ টাকা।

প্রসঙ্গত, রাজধানীর ফকিরাপুল ইয়ংমেনস ক্লাবে ‘ক্যাসিনো’ চালানোর অভিযোগে গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশানের নিজ বাসা থেকে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে আটক করে র‌্যাব। তার বাসা থেকে একটি অবৈধ পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি, ২০১৭ সালের পর নবায়ন না করা একটি শর্টগান ও ৫৮৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরদিন দুপুরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়। একইদিন র‌্যাব-৩ এর ওয়ারেন্ট অফিসার গোলাম মেস্তফা বাদী হয়ে গুলশান থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তার বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেন। অন্যদিকে মতিঝিল থানায় মাদদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন র‌্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার চাইলা প্রু মার্মা। পরবর্তীতে দুদকও অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা করে।

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue