মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২০, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭

যে গুণে সবার ওপরে প্রধান শিক্ষক আসমা সুলতানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২০, রবিবার ০৫:৪২ পিএম

যে গুণে সবার ওপরে প্রধান শিক্ষক আসমা সুলতানা

ঢাকা: প্রধান শিক্ষক আসমা সুলতানা হেসে বললেন, ‘ছাত্ররা ভয় পাবে কেন? যেকোনো সমস্যা হলে সবার আগে আমার কাছে ছুটে আসে তারা।’

রাজধানীর ইসলামিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আসমা সুলতানা। তিনি চলতি বছর পেয়েছেন ‘জাতীয় শিক্ষা পদক ২০১৯’। তেজগাঁও থানার এই স্কুলে আসমা সুলতানা শিক্ষক হয়ে এসেছেন এক বছরও হয়নি। এর মধ্যেই বদলে গেছে এই স্কুল। বদলে গেছে স্কুলের চারপাশ।

আসমা বললেন, এখানে যোগদান করে তিনি সবার আগে নিজ উদ্যোগে স্কুলের চারপাশ পরিষ্কার করিয়েছেন। যেটা আগে ছিল আশপাশের ময়লা ফেলার জায়গা, সেখানে এখন কেবল তাঁর স্কুলেরই নয়, অন্যান্য স্কুলের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর খেলাধুলা হয়। স্কুলে তিনি শুদ্ধভাবে জাতীয় সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছেন।

আসমা সুলতানা দায়িত্ব নেওয়ার আগে এই স্কুলের শিক্ষার্থীসংখ্যা ছিল ১৮৪। এক বছরের মাথায় সেই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩১। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে কমপক্ষে ২০০ জনই সুবিধাবঞ্চিত। আসমা খাতুন ব্যক্তিগতভাবে এসব শিক্ষার্থীর খোঁজখবর রাখেন।

আসমা সুলতানার স্কুলে আছে মানবতার দেয়াল। সেখানে শিক্ষক আর শিক্ষার্থীরা ঘরের অপ্রয়োজনীয় যা কিছু, সব এনে রাখে। পরে যার যেটা দরকার, সেখান থেকে নেয়। এই স্কুলে আছে সততা স্টোর। এখানে আসমা খাতুন নিজের ব্যক্তিগত টাকা দিয়ে খাতা, কলম, পেনসিল, রাবার আর পেনসিল কাটার কিনে রেখেছেন। আর রেখেছেন একটা মাটির ব্যাংক। স্টোর থেকে যার যা লাগে, ব্যাংকে ৫ টাকা রেখে নিয়ে নেয়।

আসমা জানালেন, স্কুলে আছে বই কর্নার আর বঙ্গবন্ধু কর্নার। স্কুলে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর দিয়ে পাঠদান করা হয়। শিক্ষকদের জন্য রয়েছে বায়োমেট্রিক হাজিরার ব্যবস্থা। আছে অভিযোগ বাক্স। অন্যান্য শিক্ষক আর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছ লাগিয়েছেন আসমা। সপ্তাহের সেরা শিক্ষার্থীকে তিনি ডায়েরি আর কলম উপহার দেন। পুরস্কারের অংশ হিসেবে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে সেলফি তোলেন। স্কুলে একজন গানের শিক্ষকও রেখেছেন তিনি।

আসমা বললেন, ‘ঈদের পর সবাইকে একদিন ঈদের জামা পরে আসতে বলেছিলাম। সেদিন আমি নিজে সবাইকে সেমাই আর মিষ্টি খাইয়েছি।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান স্কুলটিকে সহায়তায় দিয়েছেন ৫০ হাজার টাকা অনুদান।

আসমা সুলতানা স্কুলে মেয়েদের স্বাবলম্বী করার জন্য সেলাই মেশিন আর বুটিকের কাজ শেখাতে চান। স্কুল ড্রেসের অভাবে যেসব শিক্ষার্থী ক্লাসে আসত না, বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের সাতজনকে স্কুল ড্রেস কিনে দিয়েছেন। ফিরিয়ে নিয়ে এসেছেন ক্লাসে।

লেখাপড়ার ইচ্ছা থাকার পরও মায়ের সঙ্গে ডিম ব্যবসায় ফিরে গিয়েছিল পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া জহুরা। আসমা তাঁকে স্কুলে ফিরিয়ে এনেছিলেন। জহুরা এবার পঞ্চম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষায় ৪.৫ পেয়েছে। জহুরাকে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির খরচসহ অন্যান্য সহযোগিতাও করেছেন এই প্রধান শিক্ষক।

আসমা সুলতানা বললেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থী আর আমার সন্তানেরা কাছাকাছি বয়সের। আমি যখন স্কুলে থাকি, ওদের সবাইকে আমার সন্তান মনে হয়। তাই নিজের সন্তানের জন্য যেভাবে ভাবতাম, ওদের জন্যও সেভাবেই ভাবি।’

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue