সোমবার, ১৭ জুন, ২০১৯, ৩ আষাঢ় ১৪২৬

যে জমি আপনার তা রাষ্ট্রেরও!

ফাহাদ মোহাম্মদ | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ মার্চ ২০১৭, বুধবার ১২:৫৫ এএম

যে জমি আপনার তা রাষ্ট্রেরও!

ঢাকা: কথায় আছে, ইউরোপ বাড়ি করার আগে রাস্তা করে, আর বাংলাদেশে আগে বাড়ি করে আর পরে চিপাগলি দিয়ে কোনো রকম চলাচল করে।

‘আমার জায়গাজমিতে আমার টাকায় বাড়ি বানাবো তাতে সরকার বাধা দেয়ার কে?’ আপনি যদি এই ধরনের লোকের দলের হয়ে থাকেন তাহলে লেখাটা আপনার জন্য।

সম্প্রতি নগরের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও বাড়িঘর নির্মাণ এবং যে কোনো উন্নয়ন কাজে ভূমি ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেয়ার বাধ্যবাধকতা রেখে আইন করার প্রস্তাবে সায় দিয়েছে সরকার।

এই নিয়ম না মানলে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের সঙ্গে ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে প্রস্তাবিত আইনে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা আইন, ২০১৭’ এর খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম সাংবাদিকদের বলেন, এটি অনেক দিনের প্রত্যাশিত আইন। ভূমি ব্যবস্থাপনায় যেন শৃঙ্খলা আসে সেজন্য এই আইন করা হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে যেন জমির ব্যবহার করা হয় সেজন্য আইনে অনেকগুলো প্রস্তাব আছে।

আমাদের দেশে যেই হারে জনসংখ্যা বাড়ছে সেই একই হারে বা তার থেকে বেশি হারে চাষ যোগ্য জমি কমছে। এই চাষযোগ্য জমি যাতে আর কমে না যায় তার জন্যই সরকার এই আইনটি চালু করেছে। আমার মতে এই আইনটি আরো ২০ বছর আগে করা উচিৎ ছিলো। তাহলে আমাদের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ এতটা হ্রাস পেত না। করিম সাহেব আর রহিম সাহেব ইচ্ছে করলেই ১০ বিঘা আমন জমির উপর রাজকীয় বাড়ি বানাতে পারতেন না। কিংবা আপনার জমিতে আপনি বাড়ি বানালেন আর আমার পাশের জমিটা ধীরেধীরে অনাবাদী জমিতে রুপান্তরিত হলো, সেটাও হত না।

যে জমিটা আপনার সম্পদ সেটা হয়ত আপনি ইচ্ছা করলেই যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন না। যে জমিটা আপনার সেটা রাষ্ট্রেরও। সুতরাং আপনার ব্যক্তিগত স্বার্থের জন্য রাষ্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে না। আমাদের দেশে একটা বাজে প্রবণতা হলো, ফসলি জমিতে রাজকীয় বাড়ি তৈরি করা।

সিলেট অঞ্চলে দেখা গেছে, ১০০ একরের বাড়িও আছে। এই বৃহদায়তন বাড়ির কি দরকার ছিল? শুধু মাত্র নিজের সখ মেটানোর জন্য রাষ্ট্রের আবাদযোগ্য জমি ধংস করে আপনি আমোদ করতে পারেন না।

এই আইনের যারা বিরোধিতা করছেন তাদের একটা অংশ সরকারের বিরোধিতা করতে হবে তাই করছেন। আরেকটা অংশ বলছেন আমার জায়গায় আমি যা ইচ্ছা তাই করবো তাতে সরকারের কি?

অন্য অংশ বলছেন, সরকারি কর্মকর্তাদের ঘুষের আরেকটা রাস্তা তৈরির জন্যই এই আইন। প্রথম দুই দলের লোকের যুক্তিটা কেবল আহাম্মকি ছাড়া কিছু না। কারণ এই দলের লোকেরা কখনই ভালো কিছু মেনে নিতে পারে না। তাদের বেশিরভাগেরই ভিটেমাটি ছাড়া অন্য কোনো জমি নেই।

এই দেশের মেতর থেকে শুরু করে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা দুর্নীতির সাথে জড়িত। সেটা যে অস্বীকার করবে আমি তার সাথে একমত হতে পারবো না। যদিও অনেক কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এখনো সৎভাবে জীবন যাপন করেন।

সরকারের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারির কারণে সরকারের অনেক ভালো উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারের অনেক উন্নয়নকাজ দুর্নীতির জন্য আলোর মুখ দেখতে পারে না। যারা মনে করেন এই নতুন ভূমি আইনও সেই সকল দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারির জন্য জনগণ হয়রানির শিকার হবে, তাদের আশঙ্কা হেসে ফেলে দেয়ার মত না। কিছু লোক দালালি করবে। কিছু কর্মকর্তা টাকার বিনিময়ে জমির ধরণ পাল্টে দিবে। তাই যাতে দেশের সাধারণ জনগণ হয়রানির শিকার না হয় তার নিশ্চয়তা রাষ্ট্রকে দিতে হবে।

সবশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই, যুগোপযোগী আইন তৈরি করে দেশের আবাদযোগ্য জমি রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার জন্য।

লেখক: ফাহাদ মোহাম্মদ, পুলিশ সার্জেন্ট


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।