বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০, ৬ ফাল্গুন ১৪২৬

রদবদল আসছে মন্ত্রিসভায়!

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯, শুক্রবার ১১:৩৬ পিএম

রদবদল আসছে মন্ত্রিসভায়!

ঢাকা : মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আসতে পারে শিগগিরই। নতুন বছরের জানুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে হতে পারে রদবদল, যোগ হতে পারে নতুন মুখ। এবারের পুনর্বিন্যাস ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সরকার আরো স্পষ্ট করতে চায়, মন্ত্রিসভার বাইরে দল ও দলের বাইরে মন্ত্রিসভাকে রাখা।

সদ্য অনুষ্ঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে মন্ত্রিসভার বাইরে দলকে রাখার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটেছে। এখন মন্ত্রিসভায়ও একই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন চায় সরকার ও সরকারি দল।

সরকার ও দলকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে নেওয়া এবং আরো গতিশীল মন্ত্রিসভা গঠনের লক্ষ্যে এবার বড় ধরনের রদবদল হতে পারে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পাওয়ার এক বছরের মধ্যেও যথাযথ দক্ষতা প্রমাণ করতে না পারায় বাদ পড়তে পারেন কয়েকজন।

তাদের পরিবর্তে সাবেক, অভিজ্ঞ ও পরীক্ষিত কয়েকজন মন্ত্রী যোগ হতে পারেন। বেশ কিছু মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর পরিবর্তন হতে পারে বলে নীতিনির্ধারক পর্যায়ের কয়েকজন এ তথ্য জানায়।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের রদবদল হলে শীর্ষ ছয় নেতার মধ্যে কেউ কেউ ঠাঁই পেতে পারেন বা দলের জাতীয় সম্মেলনের মধ্য দিয়ে তাদের কেউ কেউ কেন্দ্রীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ পেতে পারেন- চলতি বছরের প্রায় শুরু থেকেই দলে এমন আলোচনা ছিল।

গত ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের যৌথসভায় দলের ওই ছয় নেতাকে পুরস্কৃত করার কথা জানান দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তাদের মধ্যে দুজন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও আবদুর রহমান (সদ্য সাবেক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক) এবার সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হয়েছেন। এখন তাই বাকি চারজনের (আহমদ হোসেন, বি এম মোজাম্মেল হক, মেসবাহউদ্দিন ও বাহাউদ্দিন নাছিম) মধ্যে কেউ কেউ আগামী বছরের শুরুতে মন্ত্রিসভায় রদবদলের সময় টেকনোক্র্যাট কোটায় ঠাঁই পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।’

সরকারি দলের ওই সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যের মতে, ‘মন্ত্রিসভার বাইরে দলকে রাখার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ঘটেছে গত ২০ ও ২১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের জাতীয় ২১তম সম্মেলনের মধ্য দিয়ে গঠিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে। নতুন বছরে পথচলা শুরুর আগে দলকে সরকার থেকে যতটুকু সম্ভব আলাদা করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভার সদস্য থাকায় দলীয় পদে কয়েকজনকে রাখা হয়নি। এমনকি পদ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও মন্ত্রিসভায় থাকায় কয়েকজনকে এবার কেন্দ্রীয় কমিটিতে শেষ পর্যন্ত রাখা হয়নি।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান সভাপতিমণ্ডলীতে স্থান পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও তাদেরকে এবার রাখা হয়নি দুই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকায়। তাই মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ যোগ হলেও দল ও সরকার আলাদা রাখার বিষয়গুলো বিবেচনায় থাকবে।’

সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় রদবদল হলে আবারো ফিরে আসতে পারেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ ও সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের নামও আছে এ তালিকায়। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফের নামও আছে নতুন মুখের তালিকায়।

আলোচনায় আছেন সিরাজগঞ্জের একটি সংসদীয় আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হাবিবে মিল্লাত মুন্না। তিনিও মন্ত্রিসভায় যোগ হতে পারেন বলে জোর আলোচনা আছে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের মহাজোট ও ১৪ দলের জোটের শরিক দলের কেউ মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন কি না-এমন প্রশ্নও থাকলেও এবারো শরিকদের কেউ যোগ হওয়ার সম্ভাবনা কম।

সূত্র বলছে, দায়িত্ব পেয়েও ‘নিষ্ক্রিয়’ থাকা, বিভিন্ন রকমের জনদুর্ভোগ নিরসনে ভূমিকা রাখতে না পারা, পেঁয়াজসহ কিছু নিত্যপণ্যের দাম নাগালের মধ্যে রাখতে না পারা এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকলেও মন্ত্রিসভায় থাকায় দলে সময় দিতে না পারা ইত্যাদি বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় কিছু রদবদল হতে পারে। মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়লেও দলের তারা দলের নেতৃত্বে থাকবেন।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মন্ত্রিসভার যাত্রার শুরু থেকে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিসভার সবার প্রতি মাসের কার্যক্রম ও দক্ষতা মূল্যায়ন করছেন। অনেকের কাজের বিষয়ে তিনি সন্তুষ্ট হলেও কয়েকজনের বিষয়ে খুশি নন। তাদেরকে বাদ দিয়ে অভিজ্ঞ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নতুন কয়েকজনকে দায়িত্ব দিয়ে মন্ত্রিসভাকে আরো গতিশীল করতে চান প্রধানমন্ত্রী।

তথ্যমতে, গত ১৩ জুলাই সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা ইন্দিরাকে প্রতিমন্ত্রী করার মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো বর্তমান মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই দিন পদোন্নতি পেয়ে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ইমরান আহমেদ। এর আগে সরকারের পথচলার প্রায় সাড়ে চার মাসের মাথায় মন্ত্রিসভার দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে দুই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের দায়িত্বে কাটছাঁট করা হয়।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক সূত্রমতে, দলের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গত কয়েক দিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে মন্ত্রিসভায় নতুন করে কারা স্থান পাচ্ছেন ও কে কে বাদ পড়ছেন। তবে মন্ত্রিসভায় নতুন কারা স্থান পাচ্ছেন বা কারা সেখান থেকে বাদ পড়ছেন- তা একান্তই দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার এখতিয়ার। তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

তিনি যাদের চাইবেন, তাদেরই জায়গা হবে নতুন করে। প্রধানমন্ত্রী ও তার দপ্তরই নির্ধারণ করবে, কখন মন্ত্রিসভায় নতুন মুখ নেওয়া হবে। সংবিধানই প্রধানমন্ত্রীর এ ক্ষমতা নিশ্চিত করে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই