শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

রপ্তানি আয় বেড়েছে সেবা খাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৪ জুলাই ২০১৯, রবিবার ০৫:৩৭ পিএম

রপ্তানি আয় বেড়েছে সেবা খাতে

ঢাকা : সেবা ও সেবাপণ্য রপ্তানি খাতে আয় লক্ষ‌্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে দেশের সেবা খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৪৮৫ কোটি ৮৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৪২ দশমিক ৫৮ শতাংশ বেশি। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত হালনাগাদ পরিসংখ্যানে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া সেবা ও সেবাপণ্যের মধ্যে রয়েছে মেইনটেন্যান্স অ্যান্ড রিপেয়ার, ট্রান্সপোর্টেশন, কনস্ট্রাকশন সার্ভিসেস, ম্যানুফ্যাকচারিং সার্ভিসেস অন ফিজিক্যাল ইনপুটস, ইনস্যুরেন্স সার্ভিসেস, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস, চার্জেস ফর দ্য ইউজ অব ইনটেলেকচুয়াল প্রপার্টি, টেলিকমিউনিকেশন সার্ভিসেস, আদার বিজনেস সার্ভিসেস, পার্সোনাল-কালচার-রিক্রিয়েশনাল ও গভর্নমেন্ট গুডস অ্যান্ড সার্ভিসেস।

জানা গেছে, প্রতিটি উপ-খাতেই গত কয়েক মাসে বহির্বিশ্বে গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনেও (জিডিপি) অবদানের দিক থেকে সেবা খাতে গুণগত পরিবর্তন হয়েছে। সেবা খাতের উপাদানসমূহের মধ্যে প্রবৃদ্ধি প্রভাবক, বিশেষ করে পরিবহন ও যোগাযোগ, আর্থিক মধ্যস্থতা, খুচরা ও পাইকারি বাণিজ্যের মতো উপাদানসমূহের অবদান গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

তথ্যমতে, গুডস প্রকিউরড ইন পোর্টস বাই ক্যারিয়ারস, গুডস সোল্ড আন্ডার মার্চেন্টিং ও সার্ভিসেস। গত অর্থবছরের ১০ মাসে এ তিনটি ভাগ থেকে এ আয় হয়েছে। আলোচ্য সময়ে বিভিন্ন ধরনের সেবা রপ্তানি খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪১৬ কোটি ডলার। এ আয়ের মধ্যে সরাসরি সেবা খাত থেকে এসেছে ৪৭৬ কোটি ২৭ লাখ ৮০ হাজার ডলার। বাকিটা দেশের বন্দরগুলোতে পণ্যবাহী জাহাজগুলোর কেনা পণ্য ও সেবা এবং মার্চেন্টিংয়ের অধীনে পণ্য বিক্রির আয়।

এ ছাড়া আলোচ্য সময়ে অন্য উপ-খাতগুলোর মধ্যে ‘অন্যান্য ব্যবসায় সেবা’ থেকে ৮৩ কোটি ৪৪ লাখ ডলার, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা থেকে ৪৬ কোটি ১৪ লাখ ডলার, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন সেবা থেকে ৫৬ কোটি ৫৯ লাখ ডলার, বীমা ছাড়া আর্থিক সেবা খাত থেকে ১১ কোটি ১৯ লাখ ডলার এবং ভ্রমণ সেবা উপ-খাত থেকে ৩১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সেবা বাণিজ্যই হচ্ছে অর্থনৈতিক বিশ্বায়নের পরবর্তী ধাপ। তিনটি মৌলিক কারণে প্রতিটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য তা গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো হচ্ছে পণ্য রপ্তানিতে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণ, সেবা খাতে রপ্তানির সুযোগের সদ্ব্যবহার এবং অভ্যন্তরীণ সেবা বাণিজ্যে দেশীয় সেবা প্রতিষ্ঠানের উৎপাদনশীলতা ও দক্ষতার মাধ্যমে বাজার সংরক্ষণ।

বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের (বিএফটিআই) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আলী আহমদ বলেন, খাতটি একটি বিকাশমান সেবামুখী বাজার অর্থনীতির নির্দেশক। দেশে মোট কর্মসংস্থানের ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ অর্জিত হয়েছে সেবা খাতে। কৃষি খাতে ৪০ দশমিক ৪ এবং শিল্প খাতে এ অর্জন ২০ দশমিক ৪ শতাংশ। সেবা খাত জিডিপিতে ৫৬ শতাংশ অবদান রাখছে।

ইপিবির ভাইস-চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, সেবা খাতে বাংলাদেশের উন্নতি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। এটি আমাদের জন‌্য ইতিবাচক। এই খাতের আওতা বেশ বিস্তৃত।

দেশের স্থল, সমুদ্র বা বিমানবন্দরে বিদেশি পরিবহনগুলো যেসব পণ্য ও সেবা যেমন জ্বালানি তেল ও মেরামত সেবা কিনে থাকে সেগুলোকে সেবা খাতের আওতায় ধরা হয়। আর কোনো অনাবাসীর কাছ থেকে পণ্য কিনে একই পণ্য কোনো অনাবাসীর কাছে বিক্রি করাকে মার্চেন্টিং বলে। এই প্রক্রিয়ায় মোট বিক্রি থেকে মোট ক্রয় বাদ দিয়ে নিট মার্চেন্টিং রপ্তানি আয় হিসাব করা হয়।

এসব সূচকেই ইপিবির হাতে যে হালনাগাদ তথ্য রয়েছে তাতে দেখা যায়, সেবা খাতে রপ্তানি আয় বেড়েছে, লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হয়েছে। আগামীতে আরো ভালো হবে আশা করছি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue