শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

রমজান কোরআন নাজিলের মাস

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ মে ২০১৯, রবিবার ০২:৫৭ পিএম

রমজান কোরআন নাজিলের মাস

ঢাকা : কোরআন ও রমজান মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রমজান পবিত্র কোরআন নাজিলের মাস। রমজানের রোজা আর কোরআন তেলাওয়াত অতীব ফজিলতের ইবাদত। এ মাসে মানবজাতির পথনির্দেশনা হিসেবে কোরআনুল কারিম জমিনে নাজিল হয়। কোরআন শরিফ তেলাওয়াতে যেমন সওয়াব পাওয়া যায়, তার অনুসরণ অনুকরণ সমাজ ও রাষ্ট্রকে একটি আদর্শ ও সুশৃঙ্খল সমাজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। রমজান মাসে পৃথিবীর মুসলমানরা এ কোরআন শরিফকে অধিকভাবে পাঠ করে থাকে। নামাজ ও নামাজের বাইরে এর পাঠ অধ্যয়ন অনুশীলন ব্যাপকভাবে হয়ে থাকে। রমজানে শহর ও গ্রাম প্রায় সবখানে দুনিয়ার মসজিদগুলোতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে নামাজে তারাবি অনুষ্ঠিত হয়।

কোরআন হলো রমজানের নিগূঢ় তত্ত্ব; রমজানের সঙ্গে কোরআনের সম্পর্ক সুগভীর। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি কদরের রজনীতে কোরআন নাজিল করেছি। আপনি জানেন কি? কদরের রজনী কী? কদরের রজনী হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম! সে রাতে ফেরেশতারা অবতীর্ণ হন, জিবরাইল (আ.) সহ; তাঁদের রবের নির্দেশ ও অনুমতিক্রমে সব বিষয়ে শান্তির ফয়সালা নিয়ে; তা উষার উদয় পর্যন্ত। (সুরা ৯৭ কদর, আয়াত ১-৫)। সুরা কদরের প্রথম আয়াত থেকে সুস্পষ্ট যে, কোরআন রমজান মাসে শবেকদরের রজনীতে অবতীর্ণ হয়েছে। এরপর হজরত জিবরাইল (আ.) ধীরে ধীরে ২৩ বছরে তা রসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে পৌঁছাতে থাকেন। এ কথাও বলা যেতে পারে, এ রাতে কয়েকটি আয়াত অবতরণের মাধ্যমে কোরআন অবতরণের ধারাবাহিকতার সূচনা হয়। এরপর অবশিষ্ট কোরআন পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে অবতীর্ণ হয়।

সাহাবায়ে কিরাম প্রায় সারা বছর প্রতি মাসের প্রতি সপ্তাহে পূর্ণ কোরআন শরিফ একবার তিলাওয়াত করতেন। তবে রমজান মাসে তারা আরও বেশি করে তিলাওয়াত করতেন। হজরত রসুলে আকরাম (সা.) প্রতি রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.)-কে অবতীর্ণ পূর্ণ কোরআন একবার শোনাতেন এবং হজরত জিবরাইল (আ.)-ও নবী ক​রিম (সা.)-কে অবতীর্ণ পূর্ণ কোরআন একবার শোনাতেন। রসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের শেষ রমজানে তিনি জিবরাইল (আ.)-কে পূর্ণ কোরআন মজিদ দুবার শোনান এবং হজরত জিবরাইল (আ.)-ও তাঁকে পূর্ণ কোরআন শরিফ দুবার শোনান। এতে বোঝা গেল, রমজান শুধু কোরআন নাজিলের মাস নয়; বরং কোরআন শিক্ষণ-প্রশিক্ষণ, পঠন-পাঠন ও চর্চার মাস।

সোনালীনিউজ/এমটিআই