রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

রাঙ্গা তুমি কার

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, শনিবার ০২:২৬ পিএম

রাঙ্গা তুমি কার

ঢাকা :  জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের নেতা প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদের মৃত্যুর পর পার্টির নতুন চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলের নেতা নির্বাচনে দলটির ভাঙন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দলটির গুরুত্বপূর্ণ এই পদ দুটি নিয়ে এরশাদের ছোট ভাই জিএম কাদের ও তার সহধর্মীনি বেগম রওশন এরশাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব এখন চরমে উঠেছে। তবে দলটির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা দেবর-ভাবির এই দ্বন্দ্বে কোনো পক্ষে কথা বলছেন না। দলের ভেতরে যখন টানাপড়েন চলছে, ঠিক সেই মূহুর্তে তিনি লাপাত্তা। তবে দু-পক্ষ থেকেই দাবি করছে দলের মহাসচির রাঙ্গা তাদের সাথেই আছেন। অথচ তাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছেনা।

বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া বারোটায় গুলশানে রওশন এরশাদকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করেন তার অনুসারী নেতা দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। তখনও রাঙ্গা ছিলেননা। এই ঘটনার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় জিএম কাদেরের সংবাদ সম্মেলনেও ছিলেন না মশিউর রহমান রাঙ্গা। ফলে রাঙ্গার অবস্থান নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে কৌতুহল সৃষ্টি করেছে। তাদের প্রশ্ন, আসলে রাঙ্গা কোনদিকে আছে?

এদিক থেকে অবশ্য দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম কিবুরিয়া টিপু এমপি একধাপ এগিয়ে। তিনি কাউকেই নিরাশ বা হতাশ করেননি। রওশন এবং জিএম কাদেরের উভয় সংবাদ সম্মেলনেই তার সরব উপস্থিতি ছিল।

ওইদিন দুপুরের অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে রওশন এরশাদের পাশে বসে ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দাবি করলেন, আমাদের মহাসচিব হিসেবে রাঙ্গাই আছেন। তিনি একটা জরুরী কাজে আটকে গেছেন বলে টেলিফোনে জানিয়েছেন। এই ঘোষণার ঘণ্টাখানেক পরই সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জিএম কাদের বললেন, আমার সঙ্গে রাঙ্গার কথা হয়েছে। তিনি একটি জরুরি কাজে আছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠে অসলে তিনি রওশনপন্থী না কাদেরপন্থী এনিয়ে।

এদিকে জিএম কাদের সংবাদ সম্মেলনে বললেন, যেকেউ ঘোষণা করলেই তো দলের চেয়ারম্যান হওয়া যায় না। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ মৃত্যুর আগে আমাকেই দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করে গেছেন।

পার্টির শীর্ষ পদ নিয়ে টানাটানি চললেও রওশনপন্থী ও জিএম কাদেরপন্থী উভয় পক্ষই মসিউর রহমান রাঙ্গাকে নিজেদের মহাসচিব হিসেবে দাবি করছেন। তবে, এতকিছুর পরও রাঙ্গাকে কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি নিজে রওশন বা জিএম কাদের- কাকে সমর্থন করছেন, সে বিষয়টি পরিষ্কার করেননি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামে অবস্থানরত জাপার প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ বলেন, মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ আমরা ১৬ জন জিএম কাদেরকে চেয়ারম্যান মানি। তাকে বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেখতে চাই। স্পিকারকে যে চিঠি দিয়েছি, তাতে রাঙ্গাও সই করেছেন। তিনি জিএম কাদের তথা মূল জাপায় আছেন।

জাপায় রাঙ্গাকে কেন্দ্র করে জিএম কাদের ও রওশন পক্ষের নেতাদের যখন একেক রকম দাবি, তখন দৃশ্যপটে নেই রাঙ্গা। একাধিকবার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার ঘনিষ্ঠ এক নেতা মনে করছেন, মসিউর রহমান রাঙ্গা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। পাল্লা যেদিকে ভারী হবে, তিনি সেদিকেই ঝুঁকে পড়বেন। যদিও এ ব্যাপারে জিএম কাদের বলেছেন, রওশন ম্যাডামের সঙ্গে রাঙ্গার ঘণিষ্ঠতা রয়েছে- তাই চক্ষু লজ্বায় আসেননি।

রওশন এরশাদের ঘনিষ্ঠ এক নেতার ভাষ্য, রাঙ্গা আপাতত দূরে আছেন। আনিসুল ইসলাম মাহমুদ দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও এমপিদের অনেককে ফোন করলেও কেউ সাড়া দিচ্ছিন না।

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের কবর জিয়ারত করেছেন তার পত্নী বিরোধীদলীয় উপনেতা ও দলের সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ। রংপুর মহানগরীর দর্শনাস্থ পল্লী নিবাসে মরহুমের রুহের মাগফিরাত করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল শেষে তিনি স্বামীর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তিনি। তার কান্না দেখে নেতাকর্মীরাও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। কান্নারত রওশন এরশাদকে সান্ত্বনা দেন দলের মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।  

সোনালীনিউজ/এএস