বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬

রাজধানী অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ৫০ জন যাত্রী

সোনালীনিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ আগস্ট ২০১৯, শুক্রবার ০৫:১২ পিএম

রাজধানী অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন ৫০ জন যাত্রী

ঢাকা: রাজধানীর সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিয়মিত ঘটনা। এমনই একটি ঘটতেই গিয়েছিল আজ (২৩ আগস্ট) সকালে। বিমানবন্দরগামী একটি বাস ৫০ জন যাত্রী নিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। সংবাদকর্মী পিন্টু রঞ্জন সোশ্যাল মিডিয়ায় সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। 

পিন্টু লিখেছেন, ফার্মগেট থেকে অফিসে আসছিলাম। এয়ারপোর্ট-বঙ্গবন্ধু এভিনিউ (স্পেশাল সার্ভিস নামে পরিচিত, গাড়ি নম্বর: ঢাকা মেট্ট্রো-ব ১২-০৮৫৫) পরিবহনে। ঘড়িতে প্রায় পৌনে এগারোটার মতো বাজে। বিজয় সরণি ক্রসিং পার হয়ে জাহাঙ্গীর গেটের কাছাকাছি আসতেই দেখলাম, গাড়িটা তড়িৎবেগে ডান থেকে বাঁয়ে কাটাল। ভেবেছিলাম সামনের প্রাইভেটকারকে ওভারটেক করতে গিয়ে এমনটি করছে। কিন্তু না। এরপর গাড়ি কেবল ডানে-বাঁয়ে দুলতে থাকল। একপর্যায়ে রাস্তার মাঝখানের ডিভাইডারের ওপর দিয়ে গাছপালা মেরে উল্টোপাশে চলে এল। ততক্ষণে সবাই বুঝে গেছে গাড়ি আর চালকের নিয়ন্ত্রণে নাই। মানে ব্রেকফেল! 

ওই বাসে ৫০ জন যাত্রী ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাখালী থেকে বিজয় সরণি যেতে জাহাঙ্গীর গেটের উল্টোদিকে যে বাকঁ সেই বাঁকের ফুটপাতের সঙ্গে ধাক্কা খেল গাড়িটা। ফুটপাত ঘেষে যেতে যেতে গাড়ির সামনের কিছুটা অংশ ফুটপাতের ওপরে উঠে গেল তবেই থামল গাড়িটা। শুরুর জায়গা থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে। ফুটপাতে ওঠার আগে একটা সিএনজির সঙ্গে লাগল। সবকিছু যেন চোখের পলকেই ঘটে গেল। নারী-পুরুষ মিলিয়ে যাত্রী প্রায় ৫০ জনের মতো। চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেল। এদিকে গাড়ির গেটও আটকানো। আমি মাঝামাঝি জায়গায় বসেছিলাম। বললাম, ‌‌'ভাই, চিৎকার, হুড়োহুড়ি না করে আগে গেট খোলেন, এক এক করে নামেন।'

ভাগ্যের জোরেই বেঁচে গেছেন বললেন, কয়েকজন সামান্য আহত হলো। ইতোমধ্যে অনেকে চালককে মারতে উদ্যত হলো। একজন মুরুব্বিসহ তাদের শান্ত করলাম। পুলিশ আসল। চালকের নাম মহসিন। কথায় কথায় বললেন, ‌'ভাই, এই রোডেই আইজ ২৬ বছর। হেলপার আছিলাম। এখন ড্রাইভার অইছি। আমি তো চেষ্টা করছি। স্টান (স্টিয়ারিং) ছাড়ি নাই।'

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ছুটির দিন বলে রাস্তায় গাড়ি কম। পুলিশ বলছিল, এরকম ক্ষেত্রে গাড়ি উল্টে যেতে পারতো।আর এপাশে কোনও গাড়ির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষও ঘটতে পারতো। ফলে যেকোনো রকম পরিণতি হতো পারতো আমাদের। আসলে ড্রাইভারের চেষ্টার কোন ক্রুটি ছিল না। আজকেও এখানে অনেকগুলো মানুষ কেবলই সংখ্যা হতে যেতে পারতো। এখন প্রশ্ন হলো, এতকিছুর পরও কাদের নাকের ডগার ওপর দিয়ে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায় এই ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো? এগুলো দেখার কি কেউই নেই? 

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue