বৃহস্পতিবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৯, ৪ মাঘ ১৪২৫

রাজশাহীকে প্রথম জয় উপহার দিলেন মিরাজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার ০৯:২৯ পিএম

রাজশাহীকে প্রথম জয় উপহার দিলেন মিরাজ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের খুলনা টাইটান্সকে হতাশার সাগরে ডুবিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের ষষ্ঠ আসরে রাজশাহী কিংসকে প্রথম জয় উপহার দিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। পদ্মা পাড়ের দলটির জয়ে দারুন সহযোগিতা করেছেন ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক এবং বোলার ইসুরু উদানা ও মোস্তাফিজু রহমান। টানা তৃতীয় হারের স্বাদ নিয়ে প্রথম জয়ে অপেক্ষা আরও বাড়ল খুলনার।  

আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে স্কোর বোর্ডে ১১৭ রান জমা করতে সক্ষম হয় খুলনা টাইটান্স। ফলে জয়ের জন্য রাজশাহীর টার্গেট দাঁড়ায় ১১৮ রানের। পদ্মা পাড়ের দলটি সেই লক্ষ্য পুরন করে ৭ বল হাতে রেখে ৭ উইকেটের বিনিময়ে। যদিও ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করতে পারেনি রাজশাহী। স্কোর বোর্ডে ১১ রান যোগ হতেই ওপেনার মোহাম্মাদ হাফিজকে হারায় তারা।

এরপর আর পিছু তাকাতে হয়নি রাজশাহী কিংসকে। মুমিনুল হক এবং অধিনায়ক মেহেদী মিরাজ জয়ের দ্বার প্রান্তে পৌঁছে দেয় দলকে। দলীয় ১০০ রানে পল স্টারলিংয়ের শিকার হওয়ার আগে ৪৪ রান করেন মুমিনুল। রাজশাহীর জয়ের জন্য যখন মাত্র ৯ রান দরকার, তখনই জহির খানের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন মিরাজ। তার আগে ৪৫ বলে ৬টি চার আর এক ছয়ে ৫১ রান করেন তিনি।  

৯ রানের জুটি গড়ে রাজশাহী কিংসকে প্রথম জয় এনে দেন সৌম্য সরকার আর এভিন লুইস। সৌম্য ১১ এবং লুইস ১ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন। খুলনার পক্ষে তাজুল ইসলাম, পল স্টারলিং ও জহির খান ১টি করে উইকেট নিয়েছেন।    

বুধবার (৯ জানুয়ারি) বিকালে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের অষ্টম ম্যাচে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন খুলনা টাইটান্সের অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ব্যাট করতে নেমে ভাল সূচনাই করে দুই ওপেনার জুনায়েদ সিদ্দিকী ও পল স্টারলিং। তাদের ৪০ রানের জুটি বিচ্ছিন্ন করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ১৪ বলে ১৬ রান করে ফিজের বলে মুমিনুলের তালুবন্দি হয়ে বিদায় নেন আইরিশ ব্যাটসম্যান।  

এরপর মাত্র ৪ রানের ব্যবধানে মুল্যবান ৩টি উইকেট হারায় খুলনা। স্কোর বোর্ডে আর কোনও রান যোগ করার আগেই বিদায় নেন জুনায়েদ সিদ্দিকী। শ্রীলঙ্কান রিক্রুট পেসার ইসিরু উদানার বলে ফজলে মাহমুদের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে ১৮ বলে ২৩ রান করেন জুনায়েদ। বিপর্যয় সামাল দিতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই আরাফাত সানির স্পিনে নীল হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন জহুরুল ইসলাম অমি।

সেই ধাক্কা সামলে উঠার আগেই ফিরে যান মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। দলীয় ৬৪ রানে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। রিভিউ নিয়েও ফিল্ড আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেননি খুলনার অধিনায়ক। দলের হাল ধরতে পারেননি আরিফুল হকও। কায়েস আহমেদের বলে ১২ রানে ফিরে যান তিনি। নিজের প্রথম ওভারেই ডেভিড মালানের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন সৌম্য সরকার। সাজঘরে ফেরার আগে ২২ রান করেন এই ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

ইনিংসের শেষ দিকে ডেভিড উইজ পুঁজি বাড়ানোর চেষ্টা করেন। অবশ্য ১৪ রান করে ইসুরু উদানার শিকার হন তিনি। শরীফুল ইসলাম রান আউট হয়ে বিদায় নেন। শেষ বলে শুভাশীষ রায়কে বোল্ড করেন উদানা। ফলে ১১৭ রান তুলতেই শেষ হয় নির্ধারিত ২০ ওভার। তখনও ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তাইজুল ইসলাম।

রাজশাহী কিংসের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট শিকার করেন উদানা। মোস্তাফিজ নিয়েছেন ২টি উইকেট।  

এরইমধ্যে দুইটি ম্যাচ খেলেছে খুলনা টাইটান্স। প্রথম ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও গড়লেও, দ্বিতীয় ম্যাচে পারেনি রুপসা পাড়ের দলটি। নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয়ের আশা জাগিয়েও, মাশরাফির রংপুর রাইডার্সের কাছে হেরে যায় মাহমুদুল্লার দল। দ্বিতীয় ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটেসর স্পিন ভেলকিতে পাত্তাই পায়নি তারা।

অপরদিকে রাজশাহী কিংসের শুরুটাও ছিল দুর্বল। যেখানে ঢাকার বিপক্ষে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হার মানতে হয় মিরাজের দলকে। দলে তেমন বিদেশী তারকা ক্রিকেটার না থাকলেও, দেশীয় তরুনদের উপর ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজম্যান্ট।

সোনালীনিউজ/ঢাক/জেডআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue