বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

রিফাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন তারকারা

বিনোদন প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৮ জুন ২০১৯, শুক্রবার ০২:৩৭ পিএম

রিফাত হত্যাকাণ্ড নিয়ে যা বললেন তারকারা

ঢাকা : বরগুনায় রাস্তায় ফেলে প্রকাশ্য দিবালোকে রিফাত শরীফ (২৫) নামে এক যুবককে তার স্ত্রীর সামনে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে তা ভাইরাল হওয়ার পর নিন্দার ঝড় উঠেছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, রিফাত শরীফ ও আয়েশা কলেজ থেকে বের হওয়ার সময়ই চার-পাঁচ জন তাদের ঘিরে ফেলে। তাদের মধ্যে দুজন রিফাতকে রামদা হাতে একের পর এক আঘাত করে চলেছেন। স্ত্রী আয়েশা হামলাকারীদের হাত থেকে স্বামীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেও পারছিলেন না। রিফাতকে বাঁচানোর জন্য তার স্ত্রী চিৎকার করলেও আশপাশের কেউ এগিয়ে আসেনি। হামলাকারী যুবকরা রিফাতকে রক্তাক্ত করে সবার সামনে দিয়েই চলে যায়।

আহত অবস্থায় প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে রিফাতকে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় পরে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন চিকিৎসক। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়। স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় মূলত খুন হয়েছেন স্বামী রিফাত শরীফ।

হামলাকারীদের প্রতিরোধে কেন কেউ তখন এগিয়ে আসেনি এ নিয়ে সমালোচনাও কম হচ্ছে না। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে কণ্ঠ মিলিয়েছেন শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও।

আমিন খান : আমাদের পারিবারিক শিক্ষাটা একদমই বিলুপ্তির পথে। যে কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা সন্তানদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় বড় করছি। যে কারণে এখনকার ছেলেমেয়েরা মানসিকভাবে বিকলাঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। শ্রদ্ধাবোধ কমে যাচ্ছে। আমি মনে করি, ভবিষ্যতে অবস্থা খারাপের দিকে যাবে।

আমরা শুধু ভিডিও ক্যামেরা দিয়ে ভিডিও করবো, প্রতিবাদ করবো না। প্রতিবাদ করলে হয়তো এমন ঘটনা ঘটতো না। এখন যেটা করণীয়, যারা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাহলে হয়তো মানুষ অন্তত এমন ঘটনা ঘটাতে ভয় পাবে। দীর্ঘ সময় নিয়ে বিচার করলে মানুষ আর ভয় পাবে না।

ফেরদৌস : বরগুনার ঘটনাটি অবশ্যই ভয়ঙ্কর। নৈতিকতা যদি ঠিক না করি, নিজের বোধকে যদি জাগ্রত না করি তাহলে এমন ঘটনা ঘটবেই। জাতি হিসেবে আমরা এত কিছু পেয়েছি, এত কিছু করছি, দেশের এত অর্জন, উন্নতর দিকে এগিয়ে যাচ্ছি কিন্তু মানসিকতার পরিবর্তন না হলে নুসরাতের মত, রিফাতের মত ঘটনা আরো শুনতে হবে। পরবর্তী প্রজন্ম কোন দিকে যাচ্ছে, ভাবলে শিউরে উঠতে হয়।

আমাদের পারিবারিক শিক্ষা, বন্ধন সব কিছু কমে যাচ্ছে। সবার সচেতন হওয়া উচিৎ। পরিবারের মধ্যে সুন্দর বন্ধন থাকলে এসব ঘটনা ঘটে না। মানুষ এখন ইলেক্ট্রনিক ডিভাইজের কারণে অনেক বেশি আত্মকেন্দ্রিক। প্রত্যেকে এখন নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। এখন কোনো অনুষ্ঠানে গেলে দেখা যাচ্ছে, যে যার মোবাইল নিয় ব্যস্ত আছেন। কারো সঙ্গে আড্ডা বা গল্প করছেন না। বাবা-মায়ের ছেলেমেয়েদের প্রতি এগুলো নিয়ে খেয়াল রাখা উচিৎ।

পূর্ণিমা : আমি বরগুনার ঘটনা দেখিনি, শুনেছি। এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। সামাজিক অবস্থান থেকে এমন নয় যে, এটা শুধু বাংলাদেশে হচ্ছে। ইন্ডিয়াতেও হয়। অন্যান্য দেশেও হয়। আমরা সতর্ক থাকলেও লাভ হচ্ছে না। কেউ ভিডিও করছে। এটাকে অনেক সময় আমরা নেগেটিভভাবে দেখছি যে, বাঁচাতে না গিয়ে কেন ভিডিও করছি? সরকারও বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা দিয়েছেন। যারা এসব করছে ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে করছে। এটা তাদের ব্যক্তিগত ইস্যু। হিংসা, জেদ থেকে এগুলো হচ্ছে। আমি সচেতন হচ্ছি কিন্তু আপনি হচ্ছেন না, তাহলে লাভ কী?

অপু বিশ্বাস : ঘটনাটি দুঃখজনক। এটা আমাদের কাছে লজ্জার। কিছুদিন আগে নিষ্পাপ একটি মেয়ে নুসরাতকে পুড়িয়ে মারা হয়ছে। ঘৃণ্য এ ধরনের কাজের জন্য আমি সোশ্যাল মিডিয়াকে বেশি দায়ী করছি। কারণ সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝে অসত্য বিষয় প্রকাশ করা হয়। দেখা যায়, মানুষ এই বিষয়গুলো তার মানসিকতার সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। সেও ভাবে এ ধরনের কাজ করা যায়। তখন কেউ ট্রাই করে, আবার অনেকে করেই ফেলে। প্রত্যেকটা মানুষের দায়বদ্ধতা রয়েছে। সেখান থেকে এগিয়ে আসা উচিৎ। আমাদের দেশ এখন উন্নয়নশীল। আমি মনে করি, বেকার না থেকে কর্মমুখী হলে দেশের উন্নয়নে মনোযোগী হলে এমন ঘটনা ঘটবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো আমাদের সচেতন হওয়া উচিৎ।

বাপ্পি চৌধুরী : এই দেশে বদ্ধ ঘরে নারী-পুরুষ একসঙ্গে থাকলে পুলিশ, সাংবাদিক, এলাকাবাসী চলে আসে। প্রকাশ্যে কোপালে সবাই ঝামেলা মনে করে এড়িয়ে যায়। বিষয়টা খুবই দুঃখজনক। বরগুনার ঘটনায় আমি খুব কষ্ট পেয়েছি। সারারাত ঘুমাতে পারিনি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই