বুধবার, ১৯ জুন, ২০১৯, ৫ আষাঢ় ১৪২৬

রোজার ২য় সপ্তাহে কমেছে বাজারের প্রতাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৮ মে ২০১৯, শনিবার ০৩:৩৩ পিএম

রোজার ২য় সপ্তাহে কমেছে বাজারের প্রতাপ

ঢাকা : রমজানের দ্রব্যমূল্যের দামের উত্তাপ থেকে ধীরে ধীরে শান্ত হয়ে উঠেছে দেশের কাঁচাবাজার। রোজার দ্বিতীয় সপ্তাহে কমতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য। এক সপ্তাহ ব্যবধানে সবজির দাম ১০ থেকে ২০ টাকা, প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম পাঁচ টাকা আর ব্রয়লার ও লেয়ার মুরগির দাম কেজিতে পাঁচ থেকে ১০ টাকা কমেছে।

আগের সপ্তাহের তুলনায় গত সপ্তাহে বেশিরভাগ সবজি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতোই চড়া দামে ছোলা,ডাল,কাঁচামরিচ, চিনি, মাছ, গরু ও খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া নিত্য প্রয়োজনীয় মুদিপণ্যের দামের তেমন হেরফের হয়নি। তবে বাজারের উত্তাপ কমায় ক্রেতাদের মনে স্বস্তি ফিরেছে।

শনিবার (১৮ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, রামপুরা, শুক্রাবাদ, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা বাজারসহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দেশি পেঁয়াজ বাজারভেদে প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা দু’দিন আগেও ৩২ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর আমদানি করা প্রতি কেজি পেঁয়াজ মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৪ টাকায়। আগে যার দাম ছিল ২৫ থেকে ২৮ টাকা। তবে রসুনের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে। গত সপ্তাহে রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও তা বেড়ে এখন ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আগের দামেই আদা ৯০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আগের চেয়ে সবজির দাম কমেছে। বেশির ভাগ সবজি এখন ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুদিন আগেও যা বিক্রি হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ও বাজার ভেদে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। গত সপ্তাহে যা ছিল ৫০ টাকা। আর পটল ৪০ টাকা, করলা ৫০ টাকা, কচুরলতি ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ টাকা যেগুলো একদিন আগেও ৬০ টাকায় বিক্রি হতো। এছাড়া কাঁকরোল গত সপ্তাহে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকার ধুন্দল ৫০ টাকায়, ৫০ থেকে ৬০ টাকার ঝিঙা, চিচিঙ্গা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

তবে চড়া দামে প্রতিকেজি পেঁপে ৫০ টাকা, গাজর ৫০ টাকা, শসা ৪০ টাকা, টমেটো ৩০ টাকা, লেবু হালি মান ভেদে ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর কাঁচা মরিচ কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা।

আর দাম অপরিবর্তিত থাকা সবজিগুলো হচ্ছে- সজনে ডাটা ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি, লাউ প্রতি পিস ৬০ থেকে ৭০ টাকা, প্রতি আঁটি লাউ শাক ৩০ থেকে ৪০ টাকা, পুঁই শাক, লাল শাক ও ডাটা শাক ২০ টাকা থেকে ৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী বাজারগুলোতে দেশি গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫২৫ টাকা, বিদেশি বা বোল্ডার গরুর মাংস প্রতিকেজি ৫০০ টাকা, মহিষের মাংস প্রতিকেজি ৪৮০ টাকা, খাসির মাংস প্রতিকেজি ৭৫০ টাকা এবং ভেড়ার মাংস প্রতি কেজি ৬৫০ টাকা ধরে বিক্রির জন্য দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম রমজান থেকে ২৬ রমজান পর্যন্ত মাংসের এ দাম নির্ধারণ করা হয়।

বাস্তবে অভিযানের ভয়ে সকালে নির্ধারিত দামে মাংস বিক্রি হলেও বিকালে ২০ থেকে ৭৫ টাকা বেশি দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর ব্রয়লার মুরগির দাম সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে পাঁচ টাকা কমে বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকা। আর ১৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া লেয়ার মুরগি প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা।

এদিকে চাল ও অন্যান্য মুদিপণ্য আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রতিকেজি নাজির ৫৮ থেকে ৬০ টাকা, মিনিকেট চাল ৫৫ থেকে ৫২ টাকা, স্বর্ণা ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা, বিআর ২৮- নম্বর ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া খোলা আটা ২৬ টাকা, প্যাকেট ৩২ টাকা, লবণ ৩০ থেকে ৩৫, পোলাওয়ের চাল ৯০ থেকে ৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি কেজি ছোলা ৮০ থেকে ৮৫ টাকা, খেসারি ৬৫ থেকে ৭০ টাকা, মসুর ডাল ১০০ থেকে ১১০ টাকা, বুট ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ডিমের দাম কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। গত সপ্তাহের মতো এই সপ্তাহে ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৮০-৮৫ টাকায়।আর মুদি দোকানে ও খুচরা বিক্রেতারা প্রতি পিস ডিম বিক্রি করছেন ৭-৮ টাকায়।

বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও অপরিবর্তিত আছে। প্রতিকেজি তেলাপিয়া বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৮০ টাকা, চাষের কৈ ২৫০ টাকা, রুই-কাতলা প্রতিকেজি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, আইড় ৮০০ টাকা, মেনি মাছ ৫০০, বেলে মাছ প্রকার ভেদে ৭০০ টাকা, বাইন মাছ ৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৮০০ টাকা, পুঁটি ২৫০ টাকা, পোয়া মাছ ৬০০ টাকা, মলা ৫০০ টাকা, পাবদা ৬০০ টাকা, বোয়াল ৬০০ টাকা, শিং ৮০০, দেশি মাগুর ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ইলিশ মাছ ৫০০ থেকে ৬০০ গ্রাম ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় রমজানে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে মনিটরিং সেল খুলেছে। দেশের যে কোনো স্থানের মূল্য বৃদ্ধির তথ্য সেলকে জানাতে ৯৫৪৯১৩৩, ০১৭১২-১৬৮৯১৭, ৯৫১৫৩৪৪ ও ০১৯৮৭-৭৮৭২০৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাভুক্ত বাজারগুলোতে ডিজিটাল মূল্য তালিকার বোর্ড বসানো হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই