বুধবার, ২৬ জুন, ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চায় বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২১ মে ২০১৯, মঙ্গলবার ০৪:১৪ পিএম

রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে চায় বাংলাদেশ

ঢাকা : রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরে সরকার ও জাতিসংঘের মধ্যকার মতানৈক্য কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে পাশে চাইছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে দেশটির কাছে বিভিন্ন উপাত্ত তুলে ধরা হচ্ছে। এমনকি জাতিসংঘের শর্তানুযায়ী রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্বল্প পরিসরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ করার বিষয়টিও ভাবছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব তথ্য জানিয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্র। মূলত এ কারণে ভাসানচরে স্থানান্তরের বিষয়ে তাদের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ভাসানচরে দ্বীপ রক্ষা বাঁধ, সাইক্লোন আশ্রয়স্থল, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাসহ রোহিঙ্গাদের বেশ ভালো থাকার ব্যবস্থা করেছি। এ বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রকে অবগত করা হয়েছে। এছাড়া সেখানে স্বল্প পরিসরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগও পাবে রোহিঙ্গারা।

মিয়ানমারের সেনা নির্যাতন থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসা প্রায় ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের বিভিন্ন শিবিরে জীবনযাপন করছে। সরকার সেখান থেকে প্রায় এক লাখ রোহিঙ্গাকে ভাসানচরে স্থানান্তর করতে চায়। সরকারের পরিকল্পনাকে সাধুবাদ জানালেও এ বিষয়ে আরো তথ্য চায় জাতিসংঘ। এমন অবস্থায় রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে দৃঢ় সমর্থন দেওয়া দেশ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সহযোগিতা আশা করছে বাংলাদেশ।

যুক্তরাষ্ট্রকে জানানো হয়েছে, মিয়ানমারের তৈরি রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে বাংলাদেশ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছে। এটি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ এবং এ সঙ্কট মোকাবিলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক প্রতিক্রিয়া জরুরি। এ ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে শক্তিশালী রাজনৈতিক এবং উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহযোগিতা করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞ বাংলাদেশ। ভবিষ্যতেও দেশটির কাছ থেকে আরো বেশি রাজনৈতিক ও অর্থিক সহযোগিতা আশা করে বাংলাদেশ।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের স্থানীয় ও রোহিঙ্গাসহ ১৩ লাখ জনগোষ্ঠীর জন্য ৯৫ কোটি ডলারের অর্থায়নের চাহিদা প্রাক্কলন করা হয়। এ চাহিদার মাত্র ৬৯ শতাংশ (৬৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার) জোগাড় হয়েছে। এ অর্থের সিংহভাগ ৩৬ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ কোটি ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র একাই। আর ২০১৯ সালের জাতিসংঘের নেতৃত্বে জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান (জেআরপি) অনুযায়ী ৯২ কোটি ডলারের চাহিদার জায়গায় চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত ১৬ শতাংশ প্রায় ১৫ কোটি ডলার পাওয়া গিয়েছে। এখানেও ১০ কোটি ডলার এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে, যা জোগাড়কৃত অর্থের ৭১ শতাংশ।

বাংলাদেশের আহ্বান সত্ত্বেও রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা চালিয়ে যেতে ২০১৯ সালে প্রকাশিত জেআরপিতে ভাসানচরকে অন্তর্ভুক্ত করেনি জাতিসংঘ। ভাসানচরে স্থানান্তর করতে হলে রোহিঙ্গাদের পূর্ণ সুরক্ষা নিশ্চিত এবং জীবিকা নির্বাহের ব্যবস্থার দাবি জানায় জাতিসংঘ। এই দাবি পূরণ করলেই জেআরপি ভাসানচরকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

দাবি অনুযায়ী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের জীবিকা নির্বাহের বিষয়টিতে নমনীয় হয়েছে। রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে সম্পৃক্ত থাকতে চায়। ভাসানচরে তাদের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে, গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা এবং কার্যপরিচালনা সংক্রান্ত যেসব বিষয় স্থানান্তর শুরু হওয়ার পূর্বে বিবেচিত হওয়া উচিত সে ব্যাপারগুলো নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে জাতিসংঘ।

ঢাকায় জাতিসংঘের কার্যালয় জানায়, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের কার্যকারিতা এবং সেখানে  মানবিক সেবা কার্যক্রম স্থাপনের সম্ভব্যতার যাচাইয়ের জন্য ওই দ্বীপের কারিগরি সমীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খ রূপে মূল্যায়ন করা এবং সতর্ক পরিকল্পনার প্রয়োজন রয়েছে। মানবিক সেবা কার্যক্রম স্থাপনে সম্ভাব্য যেসব কার্যপরিচালনা সংক্রান্ত প্রভাব পরতে পারে জাতিসংঘ তাও যাচাই করছে। পাশাপাশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দিকসমূহ, সময়সীমা এবং খরচও যাচাই করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ চায় রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ভাসানচরে যাবে এবং এ প্রকল্পের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রাসঙ্গিক, সঠিক ও সময়োপযোগী তথ্য তাদের কাছে থাকবে, যাতে তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। আলোচনাভিত্তিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের মতামত এবং উদ্বেগগুলোকে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই