রবিবার, ১৮ নভেম্বর, ২০১৮, ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

লিঙ্গ বদলে মেয়ে, অতঃপর বিয়ের পিঁড়িতে

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৪ নভেম্বর ২০১৮, রবিবার ০৮:০৯ পিএম

লিঙ্গ বদলে মেয়ে, অতঃপর বিয়ের পিঁড়িতে

ঢাকা : লিঙ্গ পরিবর্তন করে মেয়ে। এরপর বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন তৃতীয় লিঙ্গের এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতায়। কলকাতার দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের অনীক দত্ত ওরফে অ্যানির বিয়েতে এবার পশ্চিমবঙ্গ সাক্ষী থাকলো রূপান্তরকামী বিয়ের৷

মডেলিংয়ের সূত্রে আলাপ হওয়া একটি সম্পর্কের পরিণতি ছাদনাতলা৷ এমনটাই জানা গেল অ্যানির সঙ্গে জলপাইগুড়ির সাগ্নিক চক্রবর্তীর বিয়ের আসরে৷ তাদের দু বছর আগের সেই সম্পর্ক পরিণতি পেলো বিয়েতে৷

বিয়েটা সমাজের চোখে কেমন দাঁড়াবে বা পরিবার কী ভাবতে পারে ইত্যাদির মধ্যে না গিয়ে তিনি সরাসরি মণ্ডপেই ধরলেন রূপান্তরকামী অ্যানির হাত৷

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাগ্নিক চক্রবর্তী বলেন, সবকিছু আমি জানতাম৷ ও যে রূপান্তরকামী এটা জেনেও ওর সঙ্গে প্রেম করি৷

অ্যানি জানান, কারো জন্যে তিনি পুরুষ থেকে নারী হননি৷ নববধূর সাজে তিনি বলেন, আমার শরীরটা পুরুষের ছিল, কিন্তু মনটা ছিল নারীর৷ আত্মাকে কেউ বদলাতে পারে না৷ শরীরটাকে বদলানো যায়৷ শরীর ও আত্মাকে মিলিত করার জন্য অনীক থেকে অ্যানি হয়েছি৷

সাগ্নিকের সঙ্গে সম্পর্কের আগেই আমি লিঙ্গান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷ আমাদের সম্পর্কের জন্য নয়৷ নিজেকে সম্পূর্ণ করার জন্যই আমার এই সিদ্ধান্ত৷

আর পাঁচজন রূপান্তরকামীর মতোই তার জীবনের অভিজ্ঞতা৷ তিনি বলেন, অতীতে ভালো-খারাপ দু রকমের অভিজ্ঞতাই আছে৷ আমি ছেলেদের স্কুলে পড়েছি৷ ফলে টিটকিরি শুনতে হয়েছে৷ কিন্তু শিক্ষকেরা ভীষণ সাহায্য করেছেন৷ অবশ্যই কলেজের সিনিয়র এবং বন্ধুদের কথাও বলতে হয়৷

অ্যানি একটি প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষকতা করেন৷ পাশাপাশি তিনি একজন সুদক্ষ মেক-আপ আর্টিস্ট এবং নৃত্যশিল্পী৷ তিনি স্বনির্ভর৷ রূপ পরিবর্তনের পথে নিজের অস্ত্রোপচারের খরচ নিজেই বহন করেছেন৷ অ্যানি মনে করেন না বিয়েটাই জীবনের সব৷

২০১৪ সালে সুপ্রিম কোর্ট তৃতীয় লিঙ্গকে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ তারপর থেকে ক্রমশ সমাজের মূল স্রোতে গ্রহণীয় হয়ে উঠছেন তারা৷ বিয়ের মতো সামাজিক অনুষ্ঠান ঘিরেও ভাঙছে অচলায়তন৷

সোনালীনিউজ/এমটিআই