সোমবার, ২০ মে, ২০১৯, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

লেবু কমলা ও মাল্টা চাষে নতুন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০১৯, শুক্রবার ০৪:৫০ পিএম

লেবু কমলা ও মাল্টা চাষে নতুন উদ্যোগ

ঢাকা : আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশ থেকে সীমিত পরিসরে লেবু রফতানি হচ্ছে। অন্যদিকে রোগবালাইয়ের কারণে কমলা চাষের পরিমাণ কমে আসায় ফলটির আমদানি বাড়ছে। মাল্টা আমদানিতেও বিপুল পরিমাণে বিদেশি মুদ্রা ব্যয় হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের পাহাড়ি ও পার্বত্য এলাকায় লেবু,

কমলালেবু ও মাল্টা কমলা ও মাল্টার মতো ফল উৎপাদনে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারলে অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের পাশাপাশি লেবু রফতানিতে আয় বাড়বে। কমে আসবে কমলা ও মাল্টা আমদানি। এসব লক্ষ্য পূরণে ১২৬ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরে পরিকল্পনা কমিশনে একটি প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) আগামী বৈঠকে উপস্থাপন হতে পারে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় লেবু, মাল্টা ও লেবু জাতীয় অন্যান্য ফলের ৫৯ হাজারের বেশি প্রদর্শনী প্লট করা হবে। এসব বাগানে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে সেচ দিতে করা হবে ১২৩টি সেচ প্রদর্শনী। প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৯৭০ ব্যাচ কৃষককে প্রশিক্ষণ, ২০ ব্যাচ কর্মকর্তা ও ১০০ ব্যাচ উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এছাড়া অন্য প্রকল্পের আওতায় স্থাপন করা কমলা ও সাইট্রাস জাতীয় ফলের ৫ হাজার বাগান ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ রয়েছে নতুন প্রকল্পটিতে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, একনেকের অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। ২০২৩ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ হবে। ৩০ জেলার ১২৩ উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এলাকা নির্বাচনে পাহাড়ি ও পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রচুর বৃষ্টিপাত হয় এমন অঞ্চলগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের বাইরে থাকা জেলা ও উপজেলায় লেবু জাতীয় ফলচাষে প্রচারণা চালানো হবে প্রকল্পের আওতায়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবু জাতীয় ফলচাষ নিবিড় করা ও ফলন বাড়ানোর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রকল্পটির প্রস্তাব করা হয়েছে। লেবু জাতীয় ফলের ২০টি মাতৃবাগান স্থাপন ও চারা উৎপাদনে সক্ষমতা বাড়ানো ও বিদ্যমান ৫ হাজার বাগানের ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফলন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হবে প্রকল্পটির আওতায়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) অনুমোদন ও বরাদ্দ ব্যতিরেকে প্রকল্পটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য এ প্রকল্পে ২১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রয়েছে। এ প্রকল্পে আগামী অর্থবছরে ব্যয় হবে ২৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া ২০২০-২১ অর্থবছর ২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, ২০২১-২২ অর্থবছরে ২৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা ও সবশেষ অর্থবছরে ২৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পটির বিষয়ে মতামত দিতে গিয়ে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি, পানিসম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ বলেন- মানসম্মত লেবুজাতীয় ফলের উৎপাদন বাড়ানো ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে নিরাপদ ও লাভজনক কৃষি উৎপাদনে প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। বিষয়টি বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাইট্রাস বা লেবুজাতীয় ফল সব বয়সী মানুষের প্রিয়। বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি জেলায় লেবু, কিছু জেলায় কমলা ও অধিকাংশ জেলায় মাল্টা চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিবহুল ও উঁচু পাহাড়ি জমিতে এসব ফল ভালো ফলে। বাংলাদেশের সিলেট ও পার্বত্য অঞ্চলে কমলা চাষের ঐতিহ্য রয়েছে। এক সময় সিলেট এলাকায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলার চাষ হলেও রোগের প্রাদুর্ভাব ও পরিচর্যার অভাবে ৭০ দশক থেকে এর প্রবণতা কমে আসছে। বর্তমানে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলায় প্রচুর কমলার চাষ হয়ে থাকে।

প্রস্তাবে আরো বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে লেবু বিদেশে রফতানি হয়ে থাকে। চাহিদা মেটাতে আমদানি হয়ে থাকে বিপুল পরিমাণে কমলা ও মাল্টা। চাষাবাদে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহার না করার পাশাপাশি রোগবালাইয়ের কারণে লেবুজাতীয় ফলের কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যাচ্ছে না। রফতানি বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য মানসম্পন্ন লেবুজাতীয় ফল উৎপাদনের কলাকৌশল উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণ জরুরি। এসব লক্ষ্য সামনে রেখে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই