বুধবার, ২২ মে, ২০১৯, ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬

শমী কায়সার কাণ্ডে যা বললেন সিনিয়র সাংবাদিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৩:৩১ পিএম

শমী কায়সার কাণ্ডে যা বললেন সিনিয়র সাংবাদিকরা

ঢাকা: জাতীয় প্রেসক্লাবে এক অনুষ্ঠানে ফোন চুরির অভিযোগে আমন্ত্রিত সাংবাদিকদের দেহ তল্লাশি করে আটকে রাখায় অভিনেত্রী শমী কায়সারকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে দুইটি স্মার্টফোন হারানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের ‘চোর’ সম্বোধন করার পাশাপাশি প্রায় আধাঘণ্টা তাদের আটকে তল্লাশি করেন শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মী।

পরবর্তীতে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী শমী কায়সারের স্মার্টফোন দুটি নিয়েছেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন এই অভিনেত্রী।

সাংবাদিকদের ‘চোর’ সম্বোধন করার কড়া সমালোচনা করেছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদকর্মীরা। তাদের মধ্যে কেউ শমী কায়সারকে ক্ষমা চাইতে বলেন। তিনি ক্ষমা না চাইলে তাকে বয়কটের ঘোষণাও দেন অনেকেই।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ও কলামিষ্ট পীর হাবীব লিখেছেন, শমী কায়সারকে সাংবাদিক সমাজের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতেই হবে, নয় তাকে বয়কট করতে হবে।

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) এর সিনিয়র রিপোর্টার ও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুরসালিন নোমানী তার ফেসবুকে পোস্টে লিখেছেন ‘ছি, ছি! শমী কায়সার, আপনার ধৃষ্টতা দেখে লজ্জিত!’

সিনিয়র সাংবাদিক ও ডিআরইউ-এর সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মইন উদ্দিন খান লিখেছেন, শমী কায়সারের মোবাইলে ধারণকৃত ‘গোপন’ এমন কী ছিল?

আমাদের অর্থনীতি পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি উম্মুল ওয়ারা লিখেছেন, ‘শমী কায়সারকে প্রকাশ্যে প্রেসক্লাবে এসে ক্ষমা চাইতে হবে। শমী কায়সারকে সাংবাদিকরা কেউ নায়িকা মনে করেন না। আমরা মনে করি শমী কায়সার আমাদের ঘরের মেয়ে। শহীদ সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সারের মেয়ে। শহীদুল্লাহ কায়সার গণমাধ্যমের পথিকৃৎ। আর আজ আমাদের প্রাণপ্রিয় ভাস্তি ঘরের মানুষগুলোকে চোর বানিয়ে ফেলেছেন।’

দৈনিক যুগান্তরের বিশেষ প্রতিনিধ শেখ মামুনুর রশিদ লিখেছেন, ‘একজন সাংবা‌দিক অভাবী হতেই পা‌রে। বেতন নিয়‌মিত না পাওয়ায় কিংবা বেকার‌ত্বের কারণে সে ক‌ষ্টে থা‌কে। বাসা ভাড়া, বাচ্চার স্কু‌লের বেতন, বউয়ের বায়না মেটানো, বাবা-মা‌-ভাই-বোনের আবদার পূর‌ণে তার সক্ষমতা কম থাকতেই পা‌রে। হয়তো কেউ কেউ উপায় না পেয়ে দুই চার আনা আয়ের বিকল্প ধান্দাও করে। তাই বলে সে ‘চোর’ আমি অন্তত বিশ্বাস ক‌রি না। চোর কারা, চ‌রিত্রহীন কারা, ধান্দাবাজ, দলবাজ, সুযোগসন্ধানী কারা- সমাজের মানুষ জা‌নে।’

সাংবাদিকরা ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও শমী কায়সারের ওই আচরণের কড়া সমালোচনা করেছেন।

এদিকে বৃহস্পতিবার ( ২৫ এপ্রিল) সকালে শমী কায়সার তার ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে ক্ষমা চেয়ে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লিখেন, আমি স্বাভাবিক ভাবেই খুব আপসেট ছিলাম, কিন্তু আমি এমন কোন অসম্মানজনক বক্তব্য দেই নি। আমি উপস্থিত সাংবাদিক ভাইদের প্রতি ‘দুঃখ প্রকাশ’ করি সাথে সাথে এবং প্রিয় সাংবাদিক ভাইদের সঙ্গে ‘ভুল বোঝাবুঝি’ হয়েছে, যা আমার অনিচ্ছাকৃত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত। আমি নিজেও একজন প্রথিতযশা দেশবরেণ্য সাংবাদিক এর সন্তান। অন্যকোন উদ্দেশ্য আমার কখনো নেই এবং ছিলো না।

প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার ( ২৪ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে  প্রায় অর্ধশত ফটো ও ভিডিও ক্যামেরা এবং শতাধিক মানুষের সামনে চুরি হয় ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই- ক্যাব) প্রেসিডেন্ট শমী কায়সারের দুটি স্মার্টফোন। এ সময় তিনি সাংবাদিকরা মোবাইল চুরি করেছে বলে অভিযোগ করেন এবং তার নিরাপত্তাকর্মীদের দিয়ে সংবাদকর্মীদের দেহ তল্লাশিও করান। এ সময় কেউ কেউ বের হতে চাইলে ‘চোর’ বলে ওঠেন শমী কায়সারের নিরাপত্তাকর্মী। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়েন সংবাদকর্মীরা। ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনুষ্ঠানস্থলে।

পরে সাংবাদিকদের ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, অনুষ্ঠানে কেক নিয়ে আসা লাইটিংয়ের এক কর্মী স্মার্টফোন দুটি নিয়ে গেছেন। ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ দেখার পর সাংবাদিকদের প্রতি ‘দুঃখ প্রকাশ’ করেন শমী কায়সার।


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন