মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

শহীদ মিনার তো আমার ছেলেদের কবর

জে. জাহেদ | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

শহীদ মিনার তো আমার ছেলেদের কবর

কবি রঙ্গলাল বলেছেন,
স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়রে, কে বাঁচিতে চায়--
দাসত্ব শৃংঙ্খল কে পরিবে পায়রে, কে পরিবে পায়--!!

সত্যিই পাকিস্তানিদের হাতে আমরা সাড়ে ৭ লক্ষ জনতা, বন্দি হতে চাইনি বিধায় ৩০ লক্ষ শহীদদের বিনিময়ে অর্জন করেছি একটি সবুজ পতাকা। একটি জাতীয় সংগীত, একটি সবুজ মানচিত্র, একটি স্বাধীন ভ‚খন্ড আর প্রাণ খুলে কথা বলার স্বাধীনতা।

বহমান নদীর মতো অবাধ চলার মুক্ত পৃথিবী, বিশ্বের সবকটি দেশ জানে, বাঙ্গালী-ই একমাত্র স্বাধীনতা ও ভাষার জন্য বুক পেতে গুলি খেতে পারে, নিরস্ত্র হাতে মাকে একটা দেশ এনে দেওয়ার প্রত্যয়ে যুদ্ধে যেতে পারে দামাল ছেলেরা। সে যুদ্ধ রনাঙ্গনে যারা প্রাণ উৎসর্গ করে শহীদ হয়েছেন তাদের জানাই কোটি সালাম স্বাধীনতার মাসে। উপরের অদৃশ্য শক্তির মালিক যেন এসব শহীদদের বেহেশতে নসিব করেন!

সব স্বাধীনতা অর্জন করা শহীদদের সাথে শহীদ পরিবারের কাছে করজোড় কৃতজ্ঞতা, মা তোমাদের ছেলের কারণে আজ বাঙ্গালী হয়েছি, বাংলা পেয়েছি, পতাকা পেয়েছি, স্বাধীন ভুখন্ড পেয়েছি। যে স্বাধীনতার মহা নায়ক প্রয়াত জগতবিখ্যাত বাঙ্গালী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

কিন্তু মা!!! যে দেশ তোমার প্রিয় মুজিব চেয়েছে তা কি আমরা পেয়েছি? যে মুজিবের স্বপ্ন ছিল চির নির্মল, যে মুজিবের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলে দুনিয়ার সবকটি দেশ বাংলাদেশের পিছনে দাড়িয়ে শিক্ষা নিতো। আমরা কি এখনো সে পথে এগুচ্ছি?

হে মুজিব, ধানমন্ডি ৩২ নাম্বার বাড়ি বলবনা। সেটাতো ইতিহাস বাড়ি। আমি নিজের চোখে তোমার বাড়িতে গিয়ে দেখেছি, রক্তাক্ত অবস্থায় ২২টি তাজা বুলেট বুকে তুমি সিড়িতে লুটিয়ে রয়েছো! উপওে টাঙ্গানো দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাখা তাজা লাল গোলাপ!! শুনেছি প্রতিদিন নাকি তাজা ফুল রাখা হয় তাতে।

আমি অঝরে কেদেঁছি দেখে, চিৎকার করে ধানমন্ডির ৩২নং বাড়ির দেয়াল ধরে কেঁদেছি! কতো নির্মম ভাবে ঘাতকেরা তোমায় সিড়ি বেয়ে নিচে নামার সময় সাদা লুঙ্গি পরা অবস্থায়, হাতে পাইপ চশমা নেওয়ারও সুযোগ দেয়নি। নিভিয়ে দিয়েছে ৪৫ বছরের তরতাজা প্রাণ।

জানিনা হে মুজিব, তুমি শান্তিতে আছো কিনা কারণ তোমার মনের মতো দেশ এখনো তৈরি করতে পারিনি আমরা, কেন জানেন! তোমার স্বাধীন করা দেশে, পা গজিয়েছে কিছু শকুন দল। নিজেদের জাহির করে বেড়াচ্ছে তাদের কারণে নাকি দেশ। বাংলার মানুষ ৪৮ বছরেও তাদের কোন ভিডিও দেখিনি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে।

তবে তোমার ৭ই মার্চের ভাষণে ৭ কোটি বাঙ্গালীর আত্মার আকুতি গুলো শুনেছি। শোনা মাত্রই গায়ের লোম শিহরিত হয়ে জীবন দিতে ইচ্ছা করে তোমার ডাকে! যদি দ্বিতীয় কোন মুক্তিযুদ্ধ হয় শপথ করে বলতে পারি কোন অস্ত্র লাগবেনা তোমার ভাষণেই যথেষ্ট। সাথে সব সেক্টরের মুক্তিযোদ্ধার অনুপ্রেরণা সহায়। আমরা বিজয়ী হবো পুনরায়..

প্রিয় মুজিব, যদি তোমায় পেতো আর কিছু দিন অভাগা বাঙ্গালী। জানি হার মানতো উন্নত পৃথিবীর আমেরিকা, মালয়েশিয়া, নরওয়ের মতো দেশ। দুর্ভাগ্য আমাদের! তোমায় অকালে ঝঁরিয়ে দিলো কিছু ঘাতকরুপী নরপশু । যাদের শাস্তি পৃথিবী দেখবে। তোমার মতো মহান নায়ককে কবরে দিতে হলো ৫৭০ সাবানের গোসল আর রিলিফের তান কাপড়ের কাফনে। ক্ষমা করো হে মুজিব, তখন তো আমরা ছিলাম না। যদি বেঁচে থাকতাম নিজের চোখের পানিতে সম্মান জানতাম, হায়রে পাপী বাঙ্গালী আমরা।

অপরদিকে খুব কষ্ট লাগে যদি দেখি শহীদদের ছেলেরা ফুটপাতে চানামুড়ি বিক্রি করে, বীরশ্রেষ্ট রুহুল আমিনের ছেলেরা ফেরীওয়ালা করে, ৩০ ত্রিশ লক্ষ শিশুরা কেন অভুক্ত থেকে রাস্তায় ঘুমায়, দুর্নীতিতে বাংলাদেশ কেন চ্যাম্পিয়ন হয়, শহীদের পরিবার কেন চাকরি পায়না, বিচারের বানী কেন মাঝরাতে বদলায়, অসহায় বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধারা কেন নির্যাতিত হয়, তীর্ত চোখে মুক্তিযোদ্ধারা কেন বুকে চাপা ক্ষোভ নিয়ে অশ্রæ পেলে, শহীদ পরিবারের বোনেরা কেন নির্যাতিত হয়, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের মায়েরা কেন শহীদ মিনারে আসেনা।

কেন আসেনা জানতে চাইলে বলে ‘বাবা কোথায় যাবো! শহীদ মিনার তো রাজাকারের দখলে, যারা যুদ্ধের সময় বার্মা ও ভারতে ছিলো। শহীদ মিনার তো আমার ছেলেদের কবর, শহীদ মিনার দেখলে বাবা, বুক ফাটা কান্নায় পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায়।

সত্যিই কি আমার বাংলাদেশ। ৯ মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের বিনিময়, হাজার বুদ্ধিজীবি হত্যা আর ৩০ লক্ষ শহীদ মুক্তিবাহিনীর বদলে, বছরের ৩৬৫ দিন থেকে ১৬ই ডিসেম্বর, ১৫ই আগষ্ট, ২৬শে মার্চ, ২১শে ফেব্রুয়ারী নামে মাত্র ৪টি দিন তাদের স্মরণে বাজেট রাখলাম। কতো নিকৃষ্ট হয়ে গেলাম এ ছাড়া বছরের বাকি দিন শহীদ মিনার দখল থাকে নরপিশাচদের হাতে।

শহীদ বেদিতে ৩শ টাকার বাগানের ফুল দিয়ে লম্বা ঘুম, সারারাত আমাদের দেওয়া ফুলে রক্তের গন্ধ পায় শহীদদেরা যদি সে ফুল শ্রদ্ধায় আত্মা হতে না আসে। সুতরাং জীবিত থাকা মুক্তিযোদ্ধা ও জীবিত থাকা শহীদ পরিবারের জন্য কিছু করেন সরকার প্রধান। তাহলেই ৭ বীরশ্রষ্ঠ ও ৩০লাখ শহীদ, দেড় লক্ষ ইজ্জত হারা মা বোনের আত্মা শান্তি পাবে!

মাঝে মাঝে মনেহয় বিজয়ের ৪৮বছরেও প্রাপ্যতার ঝুঁড়ি খালি, জনগণ শঙ্কিত কেমন আছে প্রিয় মুজিবের বাংলাদেশ!!

লেখক : গণমাধ্যমকর্মী


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।