মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস

শাকিবের জায়গা হল এক কোনে!

বিনোদন প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৩:০২ পিএম

শাকিবের জায়গা হল এক কোনে!

শাকিব খান

ঢাকা: দুদিন ব্যাপি জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস শুরু হয়েছে গতকাল। নানা আয়োজনে দিনটি পালিত হচ্ছে। বুধবার সকালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে বেলুন, পায়রা ওড়ানো, শোভাযাত্রা হয় উদ্বোধনী দিনে।

দিনটি উপলক্ষ্যে এফডিসি মাজানো হয় ব্যানার-পোস্টার, ফেস্টুন আর রঙ্গিন আলোয় সজ্জায়। দেয়ালে দেয়ালে ছিল পূরনো নামী-দামী শিল্পীর সিনেমার পোস্টার আর এই ব্যানার ফ্যাস্টুন ও পোস্টার নিয়ে গতকাল ধেকে সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

এফডিসিতে প্রবেশের মুখেই চোখে পড়ে চলচ্চিত্র দিবসের জন্য অফিসিয়াল ব্যানারে নায়ক ও চলচ্চত্র শিল্পী সমিতির সাধারন সম্পাদক জায়েদ খানের ছবি। আর জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে সময়ের সেরা নায়কা শাকিব খান যিনি এখন চলচ্চিত্রের একমাত্র বাহক তার জায়গা হল এফডিসির ভেতরের দিকে এক কোনে একটি ফ্যাস্টুনে! বিষয়টি দায়িত্বহীনতার পরিচয় বলেই ফেসবুকে চলছে সমালোচনার ঝর উঠেছে।

ফেসবুকে একজন জায়েদ খানের ছবির ওই ব্যানার পোস্ট লিখেছেন, ‘বর্তমান সময়ের চলচ্চিত্রকে যদি প্রেজেন্ট করতে চান তাহলে আপনার (জায়েদ খান) ছবি কোনো ব্যবহার করেছেন? এই সময়ের অনেক তরুণ জনপ্রিয় চিত্রনায়ক রয়েছে। আয়নাবাজি, ঢাকা অ্যাটাক, পোড়ামন-২ এর মতো জনপ্রিয় ছবি রয়েছে। শাকিব খানের পোস্টারও একেবারে ভেতরে কোনায় না লাগিয়ে সামনে লাগানো যেত।'

এ বিষয়ে জায়েদ খানের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার মুঠো ফোনটি  ধরেনি।

অবশ্য শাকিব সবকিছু আগে থেকেই টের পেয়ে দিবসটি বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। গণমাধ্যমকে শাকিব খান বলেছেন, ‘আমার প্রথম কথা হচ্ছে এ অনুষ্ঠানটি জাতীয়ভাবে কি উদযাপন হয়? আমার কাছে মনে হয় এ অনুষ্ঠানটি ব্যক্তিগতভাবে উদযাপন হতে যাচ্ছে। গতবারও এমনটা দেখেছি। এই আয়োজনটা কিছু মানুষের  মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। যা হওয়া উচিত না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিশেষ দিবসকে একটা ভালো কিছুর উদ্দেশ্যে অর্থাৎ চলচ্চিত্রকে প্রাধান্য দিয়ে করে দিয়েছেন। আর এটা ব্যবহার হচ্ছে ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে। এজন্য নিজেই সরে এসেছি। যদি কখনো জাতীয়ভাবে এটি উদযাপন হয় তখন অবশ্যই অংশ নেব।

এদিকে দিবসটি নিয়ে আরেকজন লিখেছেন, ‘জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে এমন একটা ছবি বেমানান... এটা কিন্তু ব্যক্তির জন্মদিন নয়। ক্ষমতার অপব্যবহার না করে, সু ব্যবহারের মাধ্যমে নিজের ছবি বাদ দিয়ে দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয়টা দিতে পারতেন। এই দিনে আসবে ইতিহাস, ঐতিহ্য, সোনালী সময়ের স্মৃতি। একই সাথে তিরস্কার জানাতে সেই কালো সময়ের কিছু প্রচারণা। না ঘাটকা-না ঘরকা টাইপ কিছু প্রত্যাশিত নয়। বর্তমানের চলচ্চিত্র কর্মীদের সম্মিলিত মুখ, সোনালী মুখগুলোর উত্তরসুরী হিসেবে একসাথে আসতে পারতো।’

বিশেষ এই দিবসে তারকাদের উপস্থিত ছিলো খুবই কম। এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিত্রনায়ক আলমগীর। তিনি বলেন, ‘আমাদের চলচ্চিত্র একটি সংকটময় অবস্থায় আছে। আরেকটি সংকট দেখা দিতো ১২ এপ্রিল থেকে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ হলে। কিন্তু মন্ত্রী মহাদয় (তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ) এটা হতে দেননি। এজন্য ওনাকে ধন্যবাদ জানাই।

আলমগীর বলেন, ‘সমস্যা সব জায়গায় আছে, আমাদের চলচ্চিত্রেও আছে। কিন্তু আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে পদক্ষেপ নিচ্ছেন এতে আমি খুব আশাবাদী। আমাদের চাকা আবার ঘুরবে। তবে আমার প্রশ্ন হচ্ছে জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে আমাদের শিল্পীরা কোথায়? আমি নাম ধরে বলতে চাই, মৌসুমী, শাবনূর, ওমর সানি, অমিত হাসানরা কোথায়? আমি এমন আরও ৩০টা নাম নিতে পারি। আপনারা কিন্তু সবাই এই চলচ্চিত্র থেকে তারকা হয়েছেন, অভিনেতা হয়েছেন, অনেক কিছু হয়েছেন। আপনাদের কাছে কার্ড পাঠালে যথেষ্ঠ নয়। আপনাদের বারবার অনুরোধ করে এখানে আনা যায় না। কিন্তু এ চলচ্চিত্র আপনাদের সব দিয়েছে।’

এদিকে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে  জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। 

সোনালীনিউজ/বিএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue