শুক্রবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৫ আশ্বিন ১৪২৬

শিগগিরই হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায়

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ মে ২০১৯, মঙ্গলবার ০৯:২৯ পিএম

শিগগিরই হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলার রায়

ঢাকা : দীর্ঘদিন ঝুলে থাকা লেখক হুমায়ুন আজাদ হত্যা মামলা বিচারের শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।

সোমবার (৬ মে) আলোচিত এ মামলায় আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি শেষে রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানির জন্য ১৭ জুন দিন ঠিক করে দেন ঢাকার চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাকছুদা পারভীন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম কৌঁসুলি বিপুল দেবনাথ বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এ মামলার বিচার অবশেষে শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আদালত রায়ের তারিখ ঠিক করে দেবেন। আশা করছি, শিগগিরই এ মামলার রায় হবে।

মামলার দুই আসামি জেএমবির শূরা সদস্য মিজানুর রহমান ওরফে মিনহাজ ওরফে শফিক এবং আনোয়ার আলম ওরফে ভাগ্নে শহিদের আত্মপক্ষ শুনানি সোমবার শেষ হয়। দুই আসামিই আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

২০০৪ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির রাতে বাংলা একাডেমির উল্টো পাশের ফুটপাতে আক্রান্ত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন আজাদ, যিনি তার লেখার জন্য সাম্প্রদায়িক শক্তির হুমকি পেয়ে আসছিলেন। একুশে বইমেলা থেকে ফেরার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে জখম করা হয়। এদিকে চরমপন্থি ইসলামী জঙ্গিরা হুমায়ুন আজাদের ওপর ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে বেরিয়ে আসে।

কয়েক মাস চিকিৎসা নেওয়ার পর ২০০৪ সালের আগস্টে গবেষণার জন্য জার্মানিতে যান এই লেখক। ওই বছর ১২ আগস্ট মিউনিখে নিজের ফ্ল্যাট থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

হুমায়ুন আজাদের ওপর হামলার পরদিন তার ছোট ভাই মঞ্জুর কবির রমনা থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে আদালতের আদেশে অধিকতর তদন্তের পর সেই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

সিআইডির পরিদর্শক লুৎফর রহমান মামলাটি তদন্তের পর ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

মিজানুর রহমান মিনহাজ ওরফে শফিক ওরফে শাওন ওরফে হামিম ওরফে হাসিম, আনোয়ারুল আলম ওরফে ভাগ্নে শহীদ, নূর মোহাম্মদ শামীম ওরফে জে এম মবিন ওরফে সাবু, সালেহীন ওরফে সালাউদ্দিন ওরফে সজীব ওরফে তাওহিদ এবং হাফিজ মাহমুদ ওরফে রাকিব ওরফে রাসেলকে সেখানে আসামি করা হয়। ২০১২ সালের ১০ সেপ্টেম্বর তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আসামিরা নিষিদ্ধ সংগঠন জামা’আতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। তাদের মধ্যে মিনহাজ ও আনোয়ার কারাগারে আটক রয়েছেন। নূর মোহাম্মদ শুরু থেকেই পলাতক।

সালাহউদ্দিন সালেহীন ও হাফিজ মাহমুদ গ্রেফতার হলেও ২০১৪ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে তাদের ছিনিয়ে নিয়েছিল জঙ্গিরা। সালেহীন পালিয়ে যেতে পারলেও হাফেজ মাহমুদ পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই