মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২০, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭

শিগগিরই ২ হাজার চিকিৎসক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৯ জুন ২০২০, সোমবার ০৬:২৮ পিএম

শিগগিরই ২ হাজার চিকিৎসক ও ৪ হাজার নার্স নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: মহামারী কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আরও চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেবে সরকার। নতুন পদ সৃষ্টি ও নিয়োগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সোমবার সংসদে বলেন, আমরা আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করেছি এবং চার হাজার নার্স নিয়োগ দিচ্ছি শিগগিরই।

সোমবার  (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের সঠিক চিকিৎসা দিতে অল্প সময়ের মধ্যে ২ হাজার ডাক্তার ও ৬ হাজার নার্স নিয়োগ দিয়েছি। আরও দুই হাজার চিকিৎসকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। আমরা ৪ হাজার নার্স নিয়োগ দেব। সেই নির্দেশ আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে ইতিমধ্যে দিয়েছি। শিগগিরই এই নিয়োগ দেয়া হবে। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতে ৩ হাজার টেকনিশিয়ানের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মীদের দেয়া সরকারি সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, কোভিড-১৯ চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সম্পূর্ণ সরকারি খরচে হোটেলে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে থাকা-খাওয়ায় একমাত্র মেডিকেল কলেজের (ঢাকা মেডিকেল কলেজ) হিসাব অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে বলে বিরোধীদলীয় উপনেতা যেটি বলেছেন— এটিকে স্বাভাবিকভাবেই অস্বাভাবিক মনে হয়। এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবার বিল কী করে হয়। আমরা তদন্ত করে দেখছি, এত অস্বাভাবিক কেন হলো? এখানে কোনো অনিয়ম হলে আমরা তার ব্যবস্থা নেব।

এর আগে সংসদে দাঁড়িয়ে সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা জিএম কাদের ঢাকা মেডিকেলের খাবার বিলে অস্বাভাবিক ভাউচারের প্রসঙ্গ টানেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এক মাসে ২০ কোটি টাকা খাবার বিল কী করে হয়? পরে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তদন্ত করার কথা বলেন।

সংসদ নেতা আরও বলেন, যন্ত্রপাতি, টেস্ট কিট, সরঞ্চামাদি কেনাসহ চিকিৎসা সুবিধা আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে আমরা দ্রুততম সময় দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছি। আরও একটি প্রকল্প চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে করোনা মোকাবেলায় আমাদের সামর্থ্য আরও বাড়বে বলে বিশ্বাস করি।

দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ায় দেশে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর হার কম মনে করেন সরকরপ্রধান। গত ২৭ জুন বিশ্বের করোনা পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, এই সময়ে বিশ্বে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ১ কোটি ২ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন ৫ লাখ এক হাজার ৬৪৪ জন। অর্থাৎ মৃত্যুর হার ৫ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। সেখানে বাংলাদেশে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৭ জন। ১ হাজার ৭৩৮ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। আর ৫৫ হাজার ৭২৭ জন সুস্থ হয়েছেন।

কোনো মৃত্যুই কাম্য নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা যদি দেখি আক্রান্তের তুলনায় দেশে মৃত্যুর হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ। যেখানে ভারতে ৩ দশমিক শূন্য ৮, পাকিস্তানে ২ দশমিক শূন্য ৩, যুক্তরাজ্যে ১৪ দশমিক শূন্য ৩ ও যুক্তরাষ্ট্রে ৫ শতাংশ। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ায় দেশে করোনাভাইরাসজনিত মৃত্যুর হার। আমরা চাই না কেউ করোনায় মারা যাক।

সোনালীনিউজ/এমএএইচ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue