রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

শুরু হয়েছে বেচাকেনা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, রবিবার ১২:৫৯ পিএম

শুরু হয়েছে বেচাকেনা

ঢাকা : অমর একুশে গ্রন্থমেলার দ্বিতীয় দিনটি বেশ জমজমাট ছিল। সাপ্তাহিক ছুটির দিন থাকায় মেলায় প্রচুর মানুষের সমাগম ঘটেছে। এদের মধ্যে বেশিরভাগই ঘুরতে এসেছিলেন। তবে কাঙ্ক্ষিত বেচা-কেনাও শুরু হয়েছে এ দিন।

কয়েক বছর ধরেই মেলার মূল আকর্ষণ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকা। সে অংশ বিকাল থেকেই মানুষের পদচারণায় মুখর ছিল। খুব বেশি নতুন বই না এলেও পড়ুয়ারা পুরনো বই নেড়েচেড়ে দেখেছেন। বড় বড় প্রকাশনীর বেচা-বিক্রিও হয়েছে বেশ।

অন্যপ্রকাশ, প্রথমা, সেবা, ঐতিহ্য প্রভৃতির প্যাভিলিয়ন-স্টলে প্রচুর লোক সমাগম হয়েছিল। অন্যপ্রকাশের বই বিক্রেতা আমিনুর রহমান জানান, দ্বিতীয় দিনেই তাদের বই বিক্রি হয়েছে একশোর ওপরে। তিনি বলেন, এখানে মানুষ মূলত হুমায়ূন আহমেদের বই কিনতে আসে। যেহেতু হুমায়ূন স্যারের কোনো নতুন বই নেই, তারা পুরনো বইগুলোই কিনে নিয়ে যায়। এ ছাড়া অন্য লেখকদের বইও বিক্রি হচ্ছে।

সেবা প্রকাশনী বরাবরই অনুবাদ সাহিত্যের জন্য দেশের প্রকাশনীগুলোর মধ্যে শীর্ষ নাম। মেলার দ্বিতীয় দিন তাদের স্টলে প্রচুর দর্শনার্থী-পড়ুয়াদের ভিড় লক্ষ করা গেছে।

প্রকাশকরা জানান, শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ছুটির থাকায় প্রচুর মানুষের সমাগম হয়েছে ঠিকই কিন্তু মেলা জমতে আরো একটু সময় লাগবে। অনেকেই এসে বই দেখে যাচ্ছেন, ক্যাটালগ নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর তারা মেলায় আরেক দিন ফিরে আসবেন বই কিনতে। তা ছাড়া বেতন-ভাতার বিষয়টিও জড়িত আছে। প্রথম সপ্তাহেই দেশের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে বেতন হওয়ার রীতি চালু আছে। কেনাবেচার জন্য সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে ‘শিশুপ্রহর’ থাকায় সকাল থেকে শিশুরা মেলায় এসে টুকটুকি-হালুমদের সঙ্গে খেলেছে। শিশু কর্নারের বেচাকেনাটাও হয়েছে বেশ। শিশুদের বই প্রকাশকারী প্রতিষ্ঠান বাবুই এর কর্ণধার কাদের বাবু বলেন, আমার স্টলে পুরনো বইয়ের সঙ্গে বেশ কিছু নতুন বইও চলে এসেছে। শিশুরা অভিভাবকসহ আজ (গতকাল) এসেছিল এবং বিক্রয়ও হয়েছে বেশ।

বাংলা একাডেমি প্রান্তরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, লিটল ম্যাগ চত্বরও এবার তাড়াতাড়ি জমে উঠেছে। অন্যান্য বছরে দেখা যায় লিটল ম্যাগ চত্বর জমতে সময় লাগে। এবার আর তা লাগেনি। দ্বিতীয় দিনেই জমে উঠেছে এ প্রান্তর।

এদিকে ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিজয় : ভাষা আন্দোলন থেকে’ মুক্তিযুদ্ধ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাবন্ধিক-গবেষক আবুল মোমেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লেখক-সাংবাদিক হারুন হাবীব, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এমরান কবির চৌধুরী এবং গবেষক মোফাকখারুল ইকবাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাষাসংগ্রামী আহমদ রফিক।

আবুল মোমেন বলেন, ভাষা আন্দোলন পূর্ববাংলার মানুষকে মুক্তি ও স্বাধীনতার দিশা দিয়েছে। ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির লড়াই ক্রমশ পরিণত হয়েছে স্বায়ত্তশাসন এবং স্বাধীনতামুখী অনিবার্য সংগ্রামে। এ অঞ্চলের চিন্তানায়ক, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও সংস্কৃতিকর্মীদের দীর্ঘ সংগ্রামের পরম্পরায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীনতা ও মুক্তির লক্ষ্যে বাঙালিরা যে পথে নেমেছিল সে পথ ছিল বীরত্ব, ত্যাগ, সংগ্রাম ও বিজয়ের পথ। সে পথে শেষ গন্তব্যে পৌঁছেছি আমরা নয়মাসের দীর্ঘ সংগ্রাম, অসীম ত্যাগ ও বিপুল বীরত্বের বিনিময়ে। তখন ১৬ ডিসেম্বরের শীতবিকালের সূর্য পশ্চিম দিগন্তে লালিমা ছড়াচ্ছিল, সে আলোয় উদ্ভাসিত হয়ে উঠেছিল রমনার সবুজ চত্বর— আর সেই লাল-সবুজের অপরূপ আলোয় আমাদের বিজয়ের মাহেন্দ্রক্ষণ যেন বাংলার ও বঙ্গবন্ধুর জয়ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠেছিল।

আলোচকরা বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের মোহনায় পৌঁছতে সাংস্কৃতিক সংগ্রামের গুরুত্ব অপরিসীম। মূলত ভাষা-আন্দোলনবাহিত চেতনাই আমাদের ধারাবাহিকভাবে উপনীত করেছে মহান মুক্তিযুদ্ধের দুয়ারে। ভাষার সংগ্রাম আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে জাতিসত্তার আত্মপরিচয় অন্বেষণে।

সভাপতির বক্তব্যে আহমদ রফিক বলেন, ভাষার সংগ্রাম মূলত স্বাধীনতার সংগ্রাম। ভাষা আন্দোলন চেতনার যে প্রদীপ প্রজ্বলন করেছিল তারই বিচ্ছুরিত শিখায় আমরা আমাদের জাতিসত্তার স্বরূপ আবিষ্কার করেছি এবং আঁধার রাতের পরিধি ভেঙে সম্ভব করেছি স্বাধীনতার সুবর্ণ সকাল।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি আসাদ মান্নান এবং কবি হালিম আজাদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী ইস্তেকবাল হোসেন এবং লায়লা তারান্নুম চৌধুরী কাকলী। সঙ্গীত পরিবেশন করেন তিমির নন্দী, শিবু রায়, রুমানা ইসলাম, আলম আরা মিনু, শ্যামা সরকার। যন্ত্রাণুষঙ্গে ছিলেন বিশ্বজিৎ সরকার (তবলা), রিচার্ড কিশোর (গিটার), ইফতেখার হোসেন সোহেল (কী-বোর্ড) এবং মো. ফারুক (প্যাড)। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কাজী রুমানা আহমেদ সোমা।

নতুন বই : বাংলা একাডেমি থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে মোট ৮১টি। এর মধ্যে গল্প ১০, উপন্যাস ২০, কবিতা ১৪, প্রবন্ধ ৪ ও অন্যান্য বিষয়ক গ্রন্থ ৩৩টি।

এর মধ্যে আবিষ্কার থেকে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের উপন্যাস ‘সোনালী দুঃখ’, অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে রুদ্র গোস্বামীর কাব্যগ্রন্থ ‘ভালোবাসব বলেই’, সময় প্রকাশ থেকে সুমন্ত আসলামের উপন্যাস ‘অযান্ত্রিক’, সময় প্রকাশন থেকে আনিসুল হকের কিশোর উপন্যাস ‘দুষ্টু মেয়ের দল’, কথা প্রকাশ থেকে শামসুজ্জামান খানের প্রবন্ধ ‘বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্রচিন্তা ও বর্তমান বাংলাদেশ’, পুথিনিলয় থেকে জাকির তালুকদারের উপন্যাস ‘মুষ্টিবদ্ধ সেই হাত’ ও পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স থেকে পলাশ মাহবুবের কিশোর উপন্যাস ‘বাবুদের বাজিমাত’ অন্যতম।

আজকের অনুষ্ঠান : রোববার (৩ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে গ্রন্থমেলার তৃতীয় দিন। মেলা চলবে বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সুবর্ণজয়ন্তী’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন গোলাম কুদ্দুছ।

আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন রামেন্দু মজুমদার, মাহফুজা খানম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ এবং আতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। সন্ধ্যায় রয়েছে কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ, আবৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই