মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২০, ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭

সংগীত ভবনের বর্ষাবরণ

সাহিত্য-সংস্কৃতি ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার ০৩:৪৫ পিএম

সংগীত ভবনের বর্ষাবরণ

ঢাকা : আবহমান বাঙালির রয়েছে হাজার বছরের ঐশ্বর্যমণ্ডিত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। যার সঙ্গে একাকার হয়ে আছে বৈচিত্র্যময় ষড়ঋতু। বিশেষ করে বর্ষাকাল। এ অর্থে বাংলা-বাঙালি আর বর্ষার সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তারই ধারাবাহিকতায় গানে গানে এবারের বর্ষাকে স্বাগত জানাতে রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে হয়ে গেল দারুণ এক আয়োজন। গত শনিবার সন্ধ্যায় ‘আষাঢ়ের নব আনন্দ’ শিরোনামের সেই আয়োজনে প্রাণছোঁয়া কিছু গান নিয়ে হাজির হয়েছিল রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফীর হাতে গড়া গানের সংগঠন সংগীত ভবন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সংগীত ভবনের শিল্পীদের সমবেত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে। তারা পরিবেশন করেন ‘বিশ্ববীণারবে বিশ্বজন মোহিছে’ গানটি। এরপর একক গান পরিবেশন করেন সীমা সরকার। তার এই গানের রেশ কাটতে না কাটতেই মঞ্চে আসেন সুপর্ণা দে ও তাহমিনা তনু। তারা গেয়ে শোনান ‘আজি ঝরো ঝরো মুখর বাদরদিনে/জানি নে, জানি নে কিছুতে কেন যে মন লাগে না।’ আমিনা আহমেদের কণ্ঠে শোনা গেল দ্বিজেন্দ্রগীতি ‘বরষা আইল ওই ঘন ঘোর মেঘে দশদিক তিমিরে আঁধারি’।

এরপর দ্বৈত কণ্ঠে সালেহ মোহাম্মদ খোকন ও নিবেদিতা হালদার পরিবেশন করেন ‘এসো নীপবনে ছায়াবীথি তলে’। রিফাত জামাল মিতু ‘আমার নিশীথরাতের বাদলধারা, এসো হে গোপনে, আমার স্বপনলোকে দিশাহারা’। সর্ববাণী চক্রবর্তী ‘ওগো তুমি পঞ্চদশী, তুমি পৌঁছিলে পূর্ণিমাতে’। গোলাম মোস্তফা গাইলেন ‘পুবালী বাতাসে’। এমদাদ হোসেন গাইলেন ‘আকাশ এতো মেঘলা যেও নাকো একলা’।

‘এসো শ্যামল সুন্দর, আনো তব তাপহরা তৃষাহরা সঙ্গসুধা’ গানের সঙ্গে একক নৃত্য পরিবেশন করেন নেওয়াজ মৃন্ময় খুকুমণি। নাচের পর আবার গানের পালা। এবার একক গান নিয়ে মঞ্চে আসেন স্বপন কুমার দাস।

অনেকগুলো একক গানের পর আসে দ্বৈত গানের পালা। মঞ্চে আসেন কনক খান ও খন্দকার জাফর সাদেক পাভেল। তাদের দ্বৈত পরিবেশনা শেষে মঞ্চে আসেন সংগীত ভবনের সভাপতি ও কণ্ঠশিল্পী পীযূষ বড়ুয়া। তার কণ্ঠে শোনা গেল নজরুলগীতি ‘শাওন রাতে যদি স্মরণে আসে মোরে’। তার এই পরিবেশনার পর সুমন চৌধুরী গাইলেন ‘গহন মেঘের ছায়া ঘনায় সে আসে’।

মাহমুদ সেলিম গাইলেন ‘বড় একা লাগে এই আঁধারে’। ‘ধরণীর গগনের মিলনের ছন্দে, বাদলবাতাস মাতে মালতির গন্ধ’ গানের সঙ্গে আয়োজনের দ্বিতীয় এবং শেষ একক নৃত্য পরিবেশন করেন তাহনিনা ইসলাম।

সংগীত ভবনের শিল্পীরা সম্মিলিত কণ্ঠে গাইলেন ‘অম্বরে মেঘ মৃদঙ্গ বাজে’। গানের ফাঁকে বর্ষাবিষয়ক রচনাবলি থেকে আবৃত্তি করেন মৌমিতা জান্নাত।

অনুষ্ঠানের সূচনাতেই সংগঠনের সভাপতি পীযূষ বড়ুয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তাকে সংগীত ভবনের পক্ষ থেকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। আগত দর্শক-শ্রোতাদের স্বাগত জানিয়ে বক্তব্য রাখেন সংগীত ভবনের সভাপতি পীযূষ বড়ুয়া।

প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফীর হাত ধরে ৩৫ বছর আগে গানের বিদ্যাপীঠ হিসেবে পথচলা শুরু হয় সংগীত ভবনের। গানের বিদ্যাপীঠের কার্যক্রম গত তিন বছর ধরে সাময়িক বন্ধ থাকলেও থেমে নেই সংগীতায়োজনের।

সোনালীনিউজ/এমটিআই