বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

সততার সঙ্গে জীবন যাপনে শক্তি সঞ্চার হয়

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০১৯, শুক্রবার ১০:০৭ পিএম

সততার সঙ্গে জীবন যাপনে শক্তি সঞ্চার হয়

ঢাকা : যারা শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা অবশ্যই পেতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

একাত্তর ও পঁচাত্তরের হত্যাকাণ্ডের বিচারের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের বিচার হবে না। এ আইন করে খুনিদের বিচারের হাত থেকে মুক্ত করে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। আমি যখন দেশে ফিরে আসি তখন মামলা করতে চেয়েছিলাম। আমাকে বলা হলো মামলা করা যাবে না। অর্থাৎ আমি আমার মায়ের হত্যার বিচার পাবো না, আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার পাবো না। আমার বাবার হত্যার বিচার পাবো না।

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কিছুদিন ধরে দেখছি যে, শিশুদের ওপর অমানবিক অত্যাচার। এই যে সমাজে এই ধরনের ঘটনা ঘটছে। সেই সময় যদি শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারী বিচার করা হতো তাহলে অন্তত মানুষের ভেতরে একটা ভয় থাকতো। এই ধরনের মানসিকতা গড়ে উঠতো না।

তিনি বলেন, কী আর্শ্চয ঘটনা, অদ্ভুত ব্যাপার। বাবা হয়ে সন্তানকে হত্যা করে অন্যকে ফাঁসানোর জন্য। কী বিকৃত মানসিকতা এই দেশের মানুষের মাঝে। আমরা চাই আর কোনো শিশু যেন এই ধরনের হত্যার শিকার না হয়। প্রত্যেকটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্যায়-অবিচার কখনই বরদাস্ত করা হবে না। কাজেই আজকে যারা শিশু নির্যাতন বা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোরতর সাজা অবশ্যই পেতে হবে।

শিশুদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি চাই আমাদের শিশুরা সমাজের  খারাপ দিক থেকে দূরে থাকবে। যেমন মাদকসহ নানা ধরনের অপকর্ম। এ ধরনের অপকর্মে যেন শিশুরা না জড়ায়।  জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক থেকে সবাইকে দূরে থাকতে হবে। আর একটি বিষয় হচ্ছে, সততা সঙ্গে জীবন যাপন করা। কারও একটা গাড়ি আছে বলে আমারও লাগবে, কারও একটা দামি কাপড় আছে বলে আমারও লাগবে, এই চিন্তাটা যেন মনে না আসে। নিজেকে কখনও ছোট মনে করবে না, এটা আমার অনুরোধ থাকবে।

সব শিশুর মধ্যে একটা সুপ্ত চেতনা রয়েছে, মনন রয়েছে, তা বিকশিত করে গড়ে তুলতে হবে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় শিশুদের জন্য তার সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই কোন কিছুতেই যেন মানুষ হত্যার শিকার না হয়, প্রত্যেকটা শিশু যেন সুন্দরভাবে বাঁচতে পারে। প্রত্যেকটা শিশুর জীবন যেন অর্থবহ হয় এটাই আমাদের লক্ষ্য। শিশুদের উপর অন্যায় অবিচার কখনও বরদাস্ত করা হবে না। যারা শিশু হত্যা করবে তাদের কঠোর থেকে কঠোর সাজা পেতে হবে, অবশ্যই পেতে হবে। আমরা চাই, আমাদের প্রতিটি শিশু লেখা-পড়া শিখবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দর জীবন পাবে’।  

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা কিছু দিন থেকে দেখছি, শিশুদের উপর অমানবিক অত্যাচার। সমাজে যে এ ধরনের একটা ঘটনা ঘটছে, সে সময় যদি (১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট) শিশু হত্যাকারী, নারী হত্যাকারীদের বিচার হতো তাহলে মানুষের ভেতরে একটা ভয় থাকতো। খুনের মানসিকতা গড়ে উঠতো না।

তিনি বলেন, যারা ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্টের পর ক্ষমতায় এসেছিল তারা দেশের কথা, জাতির কথা ভাবে নি। তারা শুধু ভেবেছিল তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করে রাখা, ধন-সম্পদ বানানো, অর্থশালী-বিত্তাশালী হওয়ার, নিজেদের জীবনটাকে অন্তত সেই ভাবে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করে গড়ে তোলার কথা।

প্রতিবন্ধী শিশুদের অবহেলা না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যারা শিশু আছে, তাদের বলবো, তোমাদের আশে পাশে যারা প্রতিবন্ধী ও দরিদ্র আছে, তাদের কখনও অবহেলা করো না। তাদের আপন করে নিও। তাদের পাশে থেক, সহযোগিতা করো। কারণ তারাও তো তোমাদের মতই শিশু। কারণ আমরা ছোট বেলায় পরেছি, কানাকে কানা বলিও না, খোঁড়াকে খোঁড়া বলিও না। আসলে এটা বলা নিষ্ঠুরতা ও অমানবিতা। আমাদের শিশুরা নিশ্চয়ই তা করবে না।   

ছোট ভাই রাসেলের স্মৃতিচারণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন কারাগারে ছিলেন রাসেল তখন আব্বা বলে কান্না করতো। এ জন্য মা বলেছিলেন, আমাকেই আব্বা বলে ডাক। জেল খানায় গিয়ে সে একবার আব্বার দিকে তাকাতো, একবার মায়ের দিকে তাকাতো। একটা ছোট্ট শিশু পিতার স্নেহ বঞ্চিত ছিল। আমরা তো বঞ্চিত ছিলামই’ ‘১৯৬৯ সালে যখন তথাকথিত আগরতলা থেকে বঙ্গবন্ধুকে এদেশের মানুষ মুক্ত করে নিয়ে আসলো তখন রাসেল বাবাকে বাড়িতে পেল। তখন একটা জিনিস আমরা লক্ষ্য করতাম সে খেলার ছলে কিছুক্ষণ পর পর আব্বা কোথায় আছেন দেখতে আসতো।  ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আমাদের সকলকেই গ্রেফতার করে ১৮ নম্বর ধানমন্ডির একটি বাড়িতে নিয়ে রাখা হলো। রাসেল খুব চাপা স্বভাবের ছিল, সহসা নিজে কিছু বলতো না। তার চোখে পানি দেখে যদি বলতাম, তোমার চোখে পানি কেন? বলতো চোখে যেন কি পরেছে। এইটুকু ছোট বাচ্চা, সে তার নিজের মনের ব্যাথাটা পর্যন্ত লুকিয়ে রাখতো ।’

সোনালীনিউজ/এমটিআই