শুক্রবার, ১৮ অক্টোবর, ২০১৯, ৩ কার্তিক ১৪২৬

নিয়ন্ত্রণহীন ক্যাসিনো

সব অপরাধীর বিচার কাম্য

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, বুধবার ০১:৩০ পিএম

সব অপরাধীর বিচার কাম্য

ঢাকা : উন্নয়নের সড়কে বাংলাদেশ— এমন কথা আজ বেশ জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নানা সূচকে আজ বিশ্বের রোল মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশকে। তারই মাঝে কিছু কিছু নেতিবাচক খবর আমাদের উন্নয়নের সব অর্জনকে ম্লান করে দেয়। তেমনি একটি সংবাদ হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের ক্যাসিনো নামক জুয়ার আসর।

ঢাকা শহরে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন ক্লাবঘরের অন্তরালে চলে আসা নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত ক্যাসিনো নামক অবৈধ ব্যবসা পরিচালিত হয়ে আসছিল। এর বিরুদ্ধে হঠাৎ প্রশাসনের এই জোর তৎপরতা দেশের মানুষকে বিস্মিত করেছে। কেননা প্রশ্ন থেকেই যায়, দীর্ঘ সময় ধরে খালেদ, শামীম, সম্রাটকে কারা প্রতিপালন করেছেন? এত কোটি কোটি টাকার উৎস কোথায়? কীভাবে তারা এত টাকার মালিক হলেন? কত বিলিয়ন-মিলিয়ন টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা চলেছে এতদিন ধরে?

এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, এই ভাগ রাজনীতিক, আমলা, পুলিশ প্রশাসন, বড় বড় শিল্পপতিরাও পেয়েছেন। বাদ যাননি সাংবাদিক নেতারাও— এমন কথাও উঠেছে। বলা হচ্ছে, যখন যে সরকারই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই এসব ক্যাসিনোর নিয়ন্ত্রণ করেছে। তা সত্ত্বেও এই খালেদ-সম্রাটরা বর্তমান সময়েও বিএনপির অনেক নেতাকে বখরা দিয়ে আসছিলেন বলে জানা যায়। যার অর্থ দাঁড়ায়, এসব অবৈধ উপার্জনের সারথি রথী-মহারথী সবাই, আদর্শগতভাবে তারা যত দূরেই অবস্থান করুন না কেন!

তারপরও বলব, এতদিন পরে যখন শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, তখন দেশের মানুষ এর মধুরেণ সমাপণ দেখতে চায়। জনগণ গণমাধ্যমের সূত্র ধরে এটাও আঁচ করছে যে, এর মাধ্যমে কিছু রাজনীতিক ও পুলিশের নতুন ব্যবসা শুরু হলো। আমরা আশা রাখি, চুনোপুঁটি নয়, রুই-কাতলা এবারের জালে ধরা পড়বে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সে ক্ষমতা রয়েছে। জাতির পিতার খুনিদের বিচারসহ যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করেছেন তিনি। সুতরাং অপরাধীরা যত শক্তিশালী ও যে দলেই অবস্থান করুক, তাদের ভালো মানুষের আড়ালে কুৎসিত চেহারাটা উন্মোচন করতে হবে। জনসাধারণ সেটাই চায়। তবেই আখেরে সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে।  

উপরন্তু এসব কথিত ভিআইপি অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি উদ্ধারকৃত অর্থ দেশের উন্নয়নমূলক কাজে বিনিয়োগের সুপারিশ করছি। বিগত বছরগুলোতে বিশ্বব্যাপী ১২১ দেশে বিদেশি সহায়তার স্থিতি ১০ শতাংশ বাড়লেও, আমাদের দেশে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ শতাংশ।

 আবার বিগত এক বছরে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে ৩০ কোটি ৮৬ লাখ ডলার যা শতকরা হিসেবে সাড়ে ১৪ শতাংশ। এমন পরিস্থিতি একটি দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। উন্নয়নকামী দেশগুলোতে মূলত বিদেশি বিনিয়োগ বেশি হয় অবকাঠামো খাতে। বাংলাদেশও তার ব্যতিক্রম নয়। অবকাঠামো খাত শক্তিশালী না হলে একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। আবার দেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে গেলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়ন প্রয়োজন। অতএব এসব কালো টাকা বিদ্যুৎ-জ্বালানির মতো দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে ব্যবহূত হোক।

এ ধরনের নীতিবহির্ভূত কার্যকলাপের ভেতর দিয়ে পরিচালিত অবৈধ ব্যবসা কার্যত আমাদের জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আমরা মনে করি সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি, আইনের কঠোর প্রয়োগ না হওয়া, সুশাসনের ঘাটতি, উচ্চ পর্যায়ের সিন্ডিকেটসহ নানা জটিলতায় দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এখন সময় এসেছে সব ধরনের দুর্নীতির মূলোৎপাটনের। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের এই জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে, আশা করি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই


*** প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব ভাবনার প্রতিফলন। সোনালীনিউজ-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে লেখকের এই মতামতের অমিল থাকাটা স্বাভাবিক। তাই এখানে প্রকাশিত লেখার জন্য সোনালীনিউজ কর্তৃপক্ষ লেখকের কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে আইনগত বা অন্য কোনও ধরনের কোনও দায় নেবে না। এর দায় সম্পূর্ণই লেখকের।