মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

সহজ ম্যাচ কঠিন করে হারল রংপুর রাইডার্স, আলিসের বিশ্বরেকর্ড

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০১৯, শুক্রবার ০৬:৪৭ পিএম

সহজ ম্যাচ কঠিন করে হারল রংপুর রাইডার্স, আলিসের বিশ্বরেকর্ড

ঢাকা: জিততে থাকা ম্যাচ কঠিন করে হারল রংপুর রাইডার্স। বিশেষ করে আলিস আল ইসলামের হ্যাটট্রিক রংপুরের পরাজয়ে বড় ভুমিকা রেখেছে। শুক্রবারই তাঁর বিপিএলে অভিষেক হয়েছে। অষ্টম ওভারে মোহাম্মদ মিঠুনের দুটি ক্যাচ ছেড়ে নিজের অভিষেক পণ্ডই করতে বসেছিলেন এই স্পিনার। মিঠুন পরে ৩৫ বলে খেলেছেন ৪৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

১৮তম ওভারে বোলিংয়ে এলেন আলিস। হাতে ৬ উইকেট রেখে রংপুর তখন ১৮ বলে মাত্র ২৬ রানের দূরত্বে। আলিস ভেবে রেখেছিলেন অন্য কিছু। ওভারটির শেষ তিন বলে ফিরিয়েছেন মিঠুন, মাশরাফি ও ফরহাদ রেজাকে। হ্যাটট্রিক! টি-টোয়েন্টিতে অভিষেকে এর আগে কেউ কখনো হ্যাটট্রিক করেননি। অভিষেকেই সেটা করে দেখালেন।

পরের ওভারে সুনিল নারিন এসে ফিরিয়েছেন সোহাগ গাজী ও বেন হাওয়েলকে। জয়ের জন্য শেষ ওভারে ১৪ রান দরকার ছিল রংপুরের। টানা দুই বলে দুটি ৪ মেরে ম্যাচ জমিয়ে তুলেছিলেন শফিউল। কিন্তু পরের তিন বল থেকে মাত্র ২ রান আসায় জয়ের জন্য শেষ বলে ৪ রান দরকার ছিল রংপুরের। কিন্তু শফিউল-নাজমুল মিলে নিতে পেরেছেন মাত্র ১টি রান। ঢাকার ৯ উইকেটে ১৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ পর্যন্ত রংপুরকে হারতে হলো ২ রানে।

এর আগে আন্দ্রে রাসেলের দুর্দান্ত ফিল্ডিং আর বোলিংয়ে ২৫ রানে দুই উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল রংপুর। এতে অবশ্য দলটির কোনো সমস্যা হয়নি। রাইলি রুশো ও মোহাম্মদ মিঠুনের দুর্দান্ত এক জুটিতে চালকের আসনে চলে যায় দলটি। তৃতীয় উইকেটে মাত্র ১২ ওভারে ১২১ রানের জুটি গড়েছেন এ দুজন। ওই ইসলামই ঢাকাকে ম্যাচে ফেরালেন। ১৬তম ওভারে এই অফ স্পিনারের বলে বিভ্রান্ত হয়ে স্টাম্পড হন রুশো। ৪৪ বলে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৮৩ রানে থামেন রুশো। সেই যে পথ হারাল রংপুর, আর ফিরে আসতে পারেনি তারা। এরপরই আউট হয়েছেন রবি বোপারা। আর শেষ তিন ওভারে তো ঝড়ই বয়ে গেল দলটির ওপর দিয়ে।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ১৮৩ রান তোলে ঢাকা। ২৬ বলে ৬২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেছেন পোলার্ড। আগের দুটি ম্যাচেই ফিফটি করা হযরতউল্লাহ জাজাই এদিন সুবিধা করতে পারেননি।

জাজাইকে দ্বিতীয় ওভারেই ফিরিয়ে রংপুর রাইডার্স স্বস্তি পেলেও সেটি ছিল ক্ষণিকের জন্য। চার ওভার শেষে দলটির স্কোর ৩ উইকেটে ৩৩। দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ ওভারের মধ্যেই ঢাকার টপ অর্ডারকে ফেরার পথ দেখিয়ে দেন মাশরাফি ও সোহাগ গাজী।

তৃতীয় ওভারে সুনিল নারিনাকে রবি বোপারার তালুবন্দী করেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। পরের ওভারে রনি তালুকদারকে সোহাগ ফেরালেও উইকেটটি আসলে বেনি হাওয়ালের। এই ইংলিশ অলরাউন্ডার মিড অফ অঞ্চলে উল্টো দিকে দৌড়ে কি দুর্দান্ত ক্যাচই না ধরলেন!

ঢাকাকে এভাবে চেপে ধরার পর বাঁধনটা আলগা হয়েছে পোলার্ডের তাণ্ডবে। সাকিব চারে নেমে এক প্রান্তে ব্যাটিং করেছেন নিজের মতো করে। বাজে বল পেলে সীমানাছাড়া করতে কুণ্ঠা করেননি ঢাকা অধিনায়ক। ভালো কিছু স্ট্রোকে আশা দেখানো মিজানুর রহমান মাত্র ১৫ রানে আউট হওয়ার পর পোলার্ডের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাকিব।

নবম ওভারে পোলার্ডের সঙ্গে জুটি বাঁধেন সাকিব। ঢাকার স্কোর তখন ৮.২ ওভারে ৪ উইকেটে ৬৪। এখান থেকে দারুণ এক জুটিতে রংপুরের বোলারদের ভুগিয়েছেন দুজন। সবচেয়ে আক্রমণাত্মক ছিলেন পোলার্ড। এই ক্যারিবিয়ান যখন উইকেটে আসেন সাকিবের স্কোর ১৮ বলে ১৬। এরপর ১৪তম ওভারে সাকিবের স্কোর যখন ৩১ বলে ২৬, পোলার্ড তখন ২১ বলে ৫০! এই পথে ৩ ছক্কা আর ৪ চারে শুধু বাউন্ডারি থেকেই নিয়েছেন ৩৪ রান। সাকিবের সঙ্গে গড়েছেন ৪১ বলে ৭৮ রানের দুর্দান্ত এক জুটি।

পোলার্ড আউট হওয়ার পর বাকি ২৯ বলে ৪১ রান তুলেছে ঢাকা। আরেক ক্যারিবীয় তারকা আন্দ্রে রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংসটা শেষ করে আসতে পারতেন সাকিব। ১৭তম ওভারে ফরহাদ রেজাকে রাসেল টানা দুটি ছক্কা মারার পর সাকিবের বোধ হয় ইচ্ছা হয়েছিল ছক্কা মারার। অনেকটা সুইপের আদলে তা করতে গিয়ে আউট হয়েছেন ৩৭ বলে ৩৬ রান করে। ১৩ বলে ২৩ রান করে শেষ ওভারে আউট হন রাসেল। শেষ ওভারে ৩ উইকেট নেন রংপুরের পেসার শফিউল।

সোনালীনিউজ/আরআইবি/এমএইচএম