সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

সাকিব-মাশরাফির ভোটে দাঁড়ানোর খবরে সরগরম বাংলাদেশ

রবিউল ইসলাম বিদ্যুৎ | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৮, শনিবার ০৭:৪৬ পিএম

সাকিব-মাশরাফির ভোটে দাঁড়ানোর খবরে সরগরম বাংলাদেশ

ঢাকা : কিছুদিন আগে গুঞ্জনটা চাউর হয়েছিল বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী ও সাবেক আইসিসি প্রেসিডেন্ট আ হ ম মুস্তফা কামালের সৌজন্যে। তিনি গত ২৯ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘নড়াইল থেকে নির্বাচন করবে মাশরাফি। সে ভালো মানুষ। তাঁকে ভোট দিয়েন। তবে কোন দল থেকে নির্বাচন করবে সেটি বলব না।’ তাঁর এ কথা বলার পরপরই চারদিকে হুলস্থুল পড়ে যায়। তাহলে নির্বাচন ঝাঁপাবেন মাশরাফি? কিন্তু বাংলাদেশের অদম্য ক্রিকেটার ছিলেন একেবারেই নিরব। মাশরাফির মুখ থেকে টু-শব্দও বের হয়নি। ফলে সে সময় সংবাদমাধ্যম বেশি দূর এগোতে পারেনি। ওই সময়ই উচ্চারিত হয়েছিল বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের নামও। মাশরাফির মতো তিনিও মুখে কুলুপ এঁটেছিলেন।

শনিবার মাশরাফি-সাকিবের নির্বাচনে দাঁড়ানোর খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে গোটা বাংলাদেশ। আট থেকে আশি, সাকিব-মাশরাফির ভোট করার খবর জানতে চাইছেন। অথচ রোববারই ঢাকায় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজ বাঁচাতে লড়বেন মাহমুদউল্লাহর বাংলাদেশ। সিলেট টেস্ট হেরে পিছিয়ে পড়েছে মুশফিকরা। এই টেস্ট না জিততে পারলে গেল গেল রব উঠে যাবে নিশ্চিত। শনিবারই আবার টেস্ট ক্রিকেটের ১৮ বছর পূর্ণ করল বাংলাদেশ। এই ১৮ বছরের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তিগুলো সামনে আসতে পারত, কিন্তু সাকিব-মাশরাফির ভোটে দাঁড়ানোর খবর তা আর হতে দিল কোথায়!

ঢাকা থেকে মুহূর্তেই গোটা বাংলাদেশেই এখন সাকিব-মাশরাফিকে নিয়ে আলোচনা। তাদের নিয়ে করা মন্তব্যে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ভরে গিয়েছে। কেউ বলছেন, ‘ক্রিকেটের মধ্যে রাজনীতি! সাকিব-মাশরাফির রাজনীতিতে আসা কি ঠিক হলো?’

মাশরাফি আসছে ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ঘিরে বড় স্বপ্ন আঁকছেন। হয়তো বিশ্বকাপের পড় নড়াইল এক্সপ্রেস ক্রিকেটকে বিদায়ও বলে দিতে পারেন। কিন্তু সাকিবের ক্ষেত্রে ব্যাপারটি ভিন্ন। তাঁর পুরো ক্যারিয়ার পড়ে আছে। এই বয়সে রাজনীতিতে ঢুকে গেলে ক্যারিয়ারের কী হবে? এখনই কেন রাজনীতিতে আসতে হবে? এমন হাজারো প্রশ্ন ভক্ত-সমর্থকদের মনে ঘুরপাক খাচ্ছে।

জানা গেছে, শনিবার মাশরাফি-সাকিব দুজনই ঐতিহ্যবাহী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ফোন করে রোববার মনোনয়ন ফরম কেনার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মাশরাফি নড়াইল-২ ও সাকিব মাগুড়া-১ থেকে মনোনয়ন ফরম কিনবেন। নির্বাচন প্রসঙ্গে দুজন বরাবরই মতোই কোনো কথা বলেননি। এমনকি বিসিবির কর্তাব্যক্তিরাও কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নির্বাচন করা এই প্রথম নয়। বাংলাদেশের অভিষেক টেস্টের অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় বর্তমানে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য। অবশ্য তিনি অবসরের পর নির্বাচন করেছেন। বাংলাদেশ ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আরিফ খান জয় ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তিনিও অবসরের পর নির্বাচন করেছেন। সাকিব-মাশরাফি-ই হতে যাচ্ছেন প্রথম যারা খেলতে থাকা অবস্থাতেই নির্বাচনে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এখন দেখার, ক্রিকেট মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো অবস্থাতেই রাজনীতির ময়দান কিভাবে সামলান মাশরাফি-সাকিব?

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আরআইবি/এইচএআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue