বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৯, ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

সাত বছরে ২০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগ নেতা রেজা

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৪:৫৬ পিএম

সাত বছরে ২০ কোটি টাকার মালিক যুবলীগ নেতা রেজা

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া শিকার গ্রামের বাসিন্দা মো. হেদায়েতুল আলম রেজা। ২০০১ সালে সলঙ্গা থানা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর ভাগ্য খুলে যায় তার। তার নিজের মালিকানাধীন তেমন কোনো অর্থ-সম্পদ ছিল না। মাত্র সাত বছর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন সময়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জায়গা-জমি দখল, আওয়ামী ও যুবলীগ নেতাকর্মীদের পাত্তা না দেয়া, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়ে প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হাটিকুমরুল গোলচত্বরসহ আশপাশের এলাকায় পরিচিত হয়ে ওঠেন রোড কিংখ্যাত যুবলীগ নেতা আলম রেজা।

বর্তমানে প্রায় ২০ কোটি টাকার সম্পদের মালিক তিনি। আলম রেজার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়া হয়েছে।  আলম যুবলীগ করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ক্রয় করায় সলঙ্গাবাসীর মধ্যে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। তার অবৈধভাবে গড়ে তোলা সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনসহ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার নিকট তদন্তের দাবী জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, যুবলীগ নেতা আলম রেজা দখলবাজি, চাঁদাবাজি আর অনিয়ম করে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক।  টাকা ও ক্ষমতার দাপটে তিনি এখন সলঙ্গা থানার হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয়বারের মতো চেয়ারম্যান।  হাটিকুমরুল ইউনিয়নের চড়িয়া শিকায় পুকুরঘাটসহ বাংলো বাড়ীর মডেলে ৩ বিঘা জমির উপর গড়ে তুলেছেন দৃষ্টিনন্দন আলিশান বাড়ী।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে, বিভিন্ন শালিস, দরবারে নিজের গড়ে তোলা বাহিনী নিয়ে চলাচল করেন। তার গড়ে তোলা বাহিনী দিয়েই নিয়ন্ত্রণ করেন সিরাজগঞ্জ রোডের মৎস্য আড়ৎ, ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার গাড়ীগুলোর কাউন্টার, সিরাজগঞ্জ রোডের অভিজাত রেস্টুরেন্ট ফুড ভিলেজ, হানিফ হাইওয়ে রেস্টুরেন্টের আশে-পাশে গড়ে ওঠা দোকান গুলোও বরাদ্দ/ নির্মাণ করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন আলম গংয়ের লোকজন। ওই বাহিনী নিয়েই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বালুমহাল ইজারা নিয়ে এলাকার অসহায় মানুষদের জমি কেটে কোটি কোটি টাকার বালি বিক্রি করেন। তার এসব অপকর্ম, চাঁদাবাজি, হুমকি-ধামকি ও অত্যাচারে হাটিকুমরুল ইউনিয়নসহ সিরাজগঞ্জ রোডে বসবাসকারি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছেন। তার ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।

শুধু তাই নয় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে যদি কেউ মুখ খোলেন তাহলে তাকে মামলাসহ নানাভাবে হয়রানিও করে থাকেন এই আলম চেয়ারম্যান। ইতোপূর্বে এক ব্যক্তি তার কথা না শোনার কারণে তার বাহিনী দিয়ে তাকে হাতুড়ি দিয়ে বেদমভাবে পিটিয়ে হাত ও পা ভেঙ্গে দেন।

অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, হাটিকুমরুল ইউনিয়ন পরিষদটি নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করেছেন চেয়ারম্যান আলম রেজা।  তিনি কর্মসৃজন প্রকল্প, এডিপি, টি.আর, কাবিখা, টাবিখাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা কাজ না করেই আত্মসাত করে চলেছেন।

হাটিকুমরুল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মান্নান বলেন, তিনি নিয়মিত ইউনিয়ন পরিষদেও বসেন না।  ইচ্ছামতো পরিষদে যান ইচ্ছামত বের হয়ে আসেন।  আবার অনেক সময় এক সপ্তাহও পরিষদে আসেন না।  এ কারণে ইউনিয়নের অনেক উন্নয়নমূলক কাজ ব্যহত হচ্ছে।

নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও সরকারি জায়গা-জমি দখল ও চাঁদাবাজির টাকা দিয়েই ২০১৯ সালের মাঝামাঝি সময়ে আলম রেজা সিরাজগঞ্জ রোড এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের জায়গা ক্রয় করেন।  গত ২৮ এপ্রিল হাটিকুমরুল ইউনিয়নের ধোপাকান্দি মৌজার চড়িয়া শিকার গোলকপুর গ্রামের জাহের আলী মন্ডলের ছেলে আব্দুল মান্নানের ১০ শতক জায়গা ১ কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেন আলম রেজা।  ৫ মাসের ব্যবধানে ২৩ সেপ্টেম্বর একই মৌজার চড়িয়া শিকার গোলকপুর গ্রামের মঞ্জুরুল আলমের নিকট থেকে ২ শতক জায়গা ৩০ লাখ টাকা দিয়ে ক্রয় করেন। দুটি জমির প্রকৃত মূল্য প্রায় ২ কোটি টাকা এবং রেজিস্ট্রি ব্যয় হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা।  এছাড়া আলম রেজার নামে-বেনামে ও স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজনদের নামে অনেক সম্পত্তি রয়েছে।

আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন দলীয় অনুষ্ঠানে যাতায়াতের জন্য আলম রেজা নিজের ক্রয় করা প্রাইভেট কার নিয়ে চলাচল করেন।  যার প্রাইভেট কার নং (ঢাকা মেট্রো-গ ৩৪-৪৭০৬)।  তার সিরাজগঞ্জ রোডে অবস্থিত মেঘনা ব্যাংক লিমিটেডে কোটি টাকা মূলের একটি ডিপিএস রয়েছে।

এ বিষয়ে সলঙ্গা থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও হাটিকুমরুল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হেদায়েতুল আলম রেজা  মুঠোফোনে বক্তব্য নেয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue