বুধবার, ০৮ জুলাই, ২০২০, ২৪ আষাঢ় ১৪২৭

সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি নিয়ে দুই মত

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৬ মে ২০২০, মঙ্গলবার ০৯:৫৩ পিএম

সাধারণ ছুটি বৃদ্ধি নিয়ে দুই মত

ঢাকা: করোনা সঙ্কট মোকাবেলার জন্য ছুটি বাড়ানো হবে কিনা এই নিয়ে সরকারের মধ্যে দুই ধরণের মতামত পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন যে বাংলাদেশের যে করোনা পরিস্থিতি, সেই পরিস্থিতির কারণে আরো কিছুদিনের জন্য কঠিনভাবে ছুটি আরোপ করা দরকার।

অন্যদিকে সরকারের নীতিনির্ধারক এবং আমলারা মনে করছেন যে ছুটি না বাড়িয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনীতির চাকা সচল হওয়ার দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত। কারণ এই সঙ্কট দীর্ঘমেয়াদী হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সবকিছু বন্ধ রাখলে যে ক্ষতি হবে, সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক এবং বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে এই দুই ধরণের মতামত পাওয়া গেছে। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশে গত ৮ই মার্চ প্রথম করোনা সংক্রমণ ধরা পড়ে। এরপরে সরকার পর্যায়ক্রমে কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা শুরু করে। করোনা সংক্রমণের শুরু থেকেই সরকার সব ধরণের সভা-সমাবেশ এবং গণজমায়েত নিষিদ্ধ করে দেয়। বিশেষ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানের সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

এরপর ২৬শে মার্চ থেকে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে এবং ৭ দফায় এই ছুটি বাড়ানো হয়েছে যা আগামী ৩০শে মে শেষ হচ্ছে। ছুটি যে সময় শেষ হচ্ছে সেই সময়ে বাংলাদেশের করোনা পরিস্থিতি ভয়ঙ্কর রূপ নিতে শুরু করেছে এবং প্রতিদিন নতুন নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় চল্লিশ হাজারের কাছাকাছি নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যারা চিকিৎসক এবং বিশেষজ্ঞ তাঁরা মনে করছেন যে ছুটি বাড়ানো দরকার। ইতিমধ্যে করোনা মোকাবেলায় যে টেকনিক্যাল কমিটি গঠিত হয়েছে সেই কমিটি আরো ছুটি বাড়ানো এবং বিশেষ করে কঠোরভাবে ছুটি পালনের উপর গুরুত্ব আরোপ করার অনুরোধ করেছে বলে জানা গেছে।

এই কমিটির অন্যতম সদস্য ইকবাল আরসেনালের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে, অনেক মানুষ ঈদের কারণে ঢাকা ছেড়েছে এবং এদেরকে অন্তত কিছুদিন নিভৃত করা দরকার। একই ধরণের মন্তব্য করেছেন টেকনিক্যাল কমিটির আরেক সদস্য শাহ মুনীর। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহও ছুটি নয়, কঠোরভাবে লকডাউন বা কারফিউ দেওয়ার পক্ষে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

তবে সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একাধিক আমলারা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন যে, এভাবে দীর্ঘদিন ধরে ছুটি বাড়ালে অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সেই প্রভাব করোনার থেকেও ভয়াবহ হবে এবং তাঁরা আস্তে আস্তে ছুটি শিথিল করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার উপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

উল্লেখ্য যে, ৩০শে মে যে ছুটি শেষ হচ্ছে তা বাড়ানো হবে কি হবে না তা নিয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। তবে জানা গেছে আগামী দু-একদিনের মধ্যেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবে। আমলারা যারা এখন সরকারের নীতিনির্ধারনী কর্তৃত্বের অবস্থানে আছেন তাঁরা ছুটির মেয়াদ না বাড়ানোর পক্ষে। বরং স্বাস্থ্যবিধি মেনে পর্যায়ক্রমে সবকিছু চালু করে অর্থনীতিকে সচল রাখার দিকে মনোযোগ দেয়ার অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং ঈদের আগে জাতির উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ ভাষণেও ছুটি না বাড়ানোর ব্যাপারে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি স্পষ্টভাবে অর্থনীতির চাকা সচল রাখার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য আয়রোজগারের পথ বন্ধ করে রাখা সম্ভব নয়। তাই এই ছুটি ৩০শে মে এর পর কি হবে এই নিয়ে একটি ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।

আমলারা মনে করছে যে, বাংলাদেশের যে করোনা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা আরো দীর্ঘদিন ধরে চলতে পারে। ইতিমধ্যেই যে ছুটি দেয়া হয়েছে তাঁর কারণে অর্থনীতির উপরে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে, দারিদ্রের হার বেড়েছে, প্রচুর মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং এই অর্থনৈতিক সঙ্কট সামাল দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাজেই করোনার থেকে তাঁরা অর্থনৈতিক সঙ্কটকে সামাল দেয়া কঠিন বলে তাঁরা মনে করছেন এবং করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি অর্থনৈতিক কার্যক্রম যেন ধীরে ধীরে চালু হয় এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলার উপর যেন আমরা কাজ করি সেটার উপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। আমলা এবং বিশেষজ্ঞদের এই দ্বৈরথে সরকার শেষ পর্যন্ত কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটাই দেখার বিষয়।

সোনালীনিউজ/এইচএন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue