শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল, ২০২০, ২০ চৈত্র ১৪২৬

গত বছরের প্রচুর লবণ এখনো অবিক্রিত

সাড়ে ৬ লাখ মেঃটন লবণ মজুদ রয়েছে

কক্সবাজার প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২০ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার ০৮:৫৬ পিএম

সাড়ে ৬ লাখ মেঃটন লবণ মজুদ রয়েছে

কক্সবাজার : দেশের সব সর্ববৃহৎ লবণ উৎপাদনের ন্থান কক্সবাজারে এখন মাঠ পর্যায়ে লবণ চাষ করার জন্য চাষী পাচ্ছেনা জমির মালিকরা। আগের বছর লবণ মাঠ করার জন্য চাষীরা হুড়াহুড়ি করলেও বর্তমানে কোন চাষীর মাঠ নিতে আগ্রহ নেই বলে জানান অনেক জমির মালিক।

এদিকে মাঠ পর্যায়ে এখনো গত বছরের অনেক লবণ বিক্রি করতে পারেনি বলে জানান চাষীরা তাই এখন আর লবণ চাষে আগ্রহ নেই তাদের।

এদিকে বিসিক কর্মকর্তাদের দাবী বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে প্রায় সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিন টন লবণ মজুদ আছে। তবে লবণের দাম না পাওয়ার চাষিরা হতাশ হয়েছে এটা উত্তোরণের জন্য সরকার কাজ করছে,আশা করা হচ্ছে খুব দ্রুত সকল লবণ চাষী মাঠে নামবে।

টেকনাফ নয়াপাড়া এলাকার লবণ মাঠ জমির মালিক গোলাম আজম বলেন,আমাদের নিজস্ব প্রায় ১৬ জানি জমি আছে। আগের বছর জমির কানি জমি লবণ মাঠ লাগিয়েছিলাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে। তবে বর্তমানে কোন চাষী পাওয়া যাচ্ছেনা। প্রতি বছর নভেম্বর মাস থেকে লবণ মৌসুম শুরু হয় এর আগেই চাষীরা মাঠ আগাম নিতে আমাদের কাছে ধর্না দিত।

কিন্তু এখন উল্টো এখন চাষীদের ফোন করলেও কেউ লবণ মাঠ নিতে আগ্রহী নয়। তিনি জানান,আমার জানা মতে অনেক লবণ চাষীর কাছেএখনো মাঠ পর্যায়ে গত বছরের প্রচুর লবণ অবিক্রিত রয়ে গেছে।

কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদন্ডি এলাকার আবদুল মালেক জানান,আমার কাছে ২০ কানির মত জমি আছে যাতে লবণ চাষ হয়। আমার মাঠে এখনো ৪৬০ মণ লবণ আছে যা গত বছরের লবণের দাম বাড়বে চিন্তা করে বিক্রি করিনি। আর এখন দাম আরো কমছে। তাই লবণ মাঠে এখনো নামিনি এবং কাউকে জমি লাগিয়ত দিতে চাইছি সেটাও পাচ্ছিনা। আগের বছর গুলোতে অনেকে আসতো জমি বর্গা নিতে কিন্তু এখন নিজে দিতে চাইছি কিন্তু কোন চাষী পাচ্ছিনা। মূলত মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম কম হওয়াতে এই অবস্থা বলে জানান তিনি।

মহেশখালী কুতুবজোম এলাকার মনিরুল আলম বলেন, বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে লবণের দাম ১৭০ টাকা মন,আর মিলে সেই লবণ ৭৪ কেজি বস্তাতে ৬৫০ টাকা। তাহলে আপনার বুঝেন কিভাবে প্রকৃত লবণ চাষিদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। তিনি বলেণ,মূলত দেশে কোন লবণের সংকট নেই তার পরও সরকারি কর্মকর্তারা বার বার বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করে দেশিয় লবণকে ধ্বংস করছে।

বিদেশি লবণ দেশে আসার কারনে আমাদের লবণ মাঠে রয়ে গেছে আগে সেই বিচার করতে হবে। আর গুজব বিষয়ে তিনি বলেণ,পুরু এক বছরও যদি চাষীরা মাঠে না চায় তাহলেও দেশে লবণ সংকট হবে না। এগুলো সব কিছু ব্যবসায়িদের কারসাজি।

মহেশখালী কালারমারছড়ার আকতার হোসেন বলেন,আপনারা আমাদের এলাকা এসে দেখুন কত মানুষের বাড়ির সামনে গত বছরের লবণ রয়ে গেছে। তাই এখন আর চাষীরা মাঠে যেতে চাইছেনা।

অনেকের লবণ উৎপাদনের খরচও উঠেনি। প্রথম দিকে আমরা প্রতি মণ লবণ ২৫০ টাকা থেকে ৩৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছিলাম পরে সেটা কমতে কমতে ১৬০ টাকায় চলে এসেছিল। তাই অনেকে লবণ বিক্রি না করে রেখেদিয়েছিল। আর এখন কেউ মাঠ করতে চাইছেনা এটা সত্য কথা। তিনি দাবী করেন আগে সরকারকে চাষীদের কথা দিতে হবে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করবে না তারপরও চাষীরা মাঠে নামবে।

এদিকে কক্সবাজার লবণ মিল মালিক সমিতির নেতা ইসলামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাস্টার আবদুল কাদের বলেন,আমার জানা মতে সরকারি হিসাবে সাড়ে ৬ লাখ টন হলেও মাঠ পর্যায়ে আরো বেশি লবণ আছে।

মুলত সব সময় সরকারি উর্ধতন কর্মকর্তারা ঢাকা এবং বিদেশ ভিত্তিক কিছু ব্যবসায়িদের প্রলোভনে পড়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানী করে এতে আমাদের দেশিয় লবণ শিল্প শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর গত কয়েকদিন ধরে লবণ সংকটের কথা শুনা যাচ্ছে আমি মনে করি এটা সম্পূর্ন গুজব কারন দেশে কোন লবণ সংকট নেই।

এ ব্যপারে লবণ শিল্প উন্নয়ন কর্মসূচী(বিসিক)এর উপ মহা ব্যবস্থাপক ছৈয়দ আলম বলেন,কক্সবাজার হচ্ছে লবণ শিল্পের প্রাণ। দেশের লবণ উৎপাদনের ৯৯.৯৯% লবণ কক্সবাজারেই উৎপাদন হয়। জেলায় প্রায় ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে প্রতি বছর লবণ চাষ হয়।

গত বছর লবণ উৎপাদনে আমাদের চাহিদা ছিল ১৬ লাখ ৫৭ হাজার মেট্রিক টন। যার বিপরীতে উৎপাদন হয়েছিল ১৮ লাখ ২৪ হাজার মেট্রিকটন লবণ। যার ৬০ বছরের ইতিহাসের সব চেয়ে বেশি লবণ উৎপাদনের রেকর্ড। আমাদের জানা মতে মাঠ পর্যায়ে বর্তমানে সাড়ে ৬ লাখ মেট্রিক টন লবণ মজুদ আছে।

যা গত বছরের লবণ, এর মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ মেট্রিকটন স্থানীয় পর্যায়ে আর ২ লাখ মেঃটন মিল এবং সরকারি পর্যায়ে। তবে গত বছর বিদেশ থেকে লবণ আমদানী হওয়ায় মাঠ পর্যায়ে বেশ কিছু লবণ অবিক্রিত রয়ে গেছে।

তিনি জানান কয়েকদিন আগে কুতুবদিয়া গিয়ে দেখেছিলাম সেখানে ৭০% চাষী মাঠে নেমে গেছে। এবং সদরের চৌফলদন্ডিতে গিয়ে দেখা গেছে যে পরিমান চাষী নামার কথা সে পরিমান নামেনি। সব মিলিয়ে জেলায় ৪০%চাষী মাঠে নেমেছে। যেহেতু এখন মৌসুম শুরু হয়েছে আসা করি চাষীরা সময়মত মাঠে নামবে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে লবণের ন্যায্য দাম পাওয়ার জন্য সরকার আরো বেশ কিছু পদক্ষেপ নেবে বলে জানা তিনি।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue