বুধবার, ১৭ জুলাই, ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

সিংড়ায় যুগান্তর পত্রিকা পুড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

নাটোর সংবাদদাতা | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার ০৬:২৪ পিএম

সিংড়ায় যুগান্তর পত্রিকা পুড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা

ছবি : সোনালীনিউজ

নাটোর : জেলার সিংড়ায় যুগান্তর পত্রিকা আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে পত্রিকা পুড়ানো হয়েছে বলে জানান শিক্ষার্থীরা।

জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ আতঙ্কে অভিভাবকরা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ সংবাদকে মিথ্যা সংবাদ আখ্যা দিয়ে সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের আঙিনায় এ পত্রিকা পুড়ায় ওই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

যুগান্তরের সংবাদে বলা হয়, নাটোরের সিংড়ার বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুলের গণিত শিক্ষক ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানি, ভোগান্তি, হুমকি প্রদানসহ বিভিন্ন অভিযোগ করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলের ১৩ শিক্ষার্থী এবং ১১ অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক ফজলুর রহমানকে অপসারণ ও কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তারা।

উল্লেখ্য, অভিযোগপত্রে সাক্ষরিত ১৩ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে বন্ধন নামের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্র বলেন, ওই ১৩ জনের মধ্যে আমারও নাম আছে, আসলে আমি জানিই না কেন আমার সাক্ষর নিয়েছে, শুধু বললো তোমাকে এখানে সাক্ষর করতে হবে, তাই করেছি।

এ রকম অবস্থা হবে আমি জানলে তো সাক্ষর করতাম না।

সাজিদ সাদিন নামের ১০ম শ্রেণীর এক ছাত্র বলেন, ফজলুর স্যারের বিরুদ্ধে একটা মিথ্যা অভিযোগ এটা, আমরা চাই এর সুষ্ঠু তদন্ত।

শহিদ শাহরিয়ার দীপ নামের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্র ও হুমায়ুন আহমেদ নামের ৯ম শ্রেণীর এক ছাত্র বলেন, আমরা ছোট থেকেই স্যারের কাছে পড়াশোনা করছি, কখনো কোন খারাপ আচরণ করেনি। একটি মহল এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার জন্য মিথ্যাচার করছে, আমরা চাই স্যার সুনামের সাথে আবার স্কুলে ফিরে আসুক।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ৯ম শ্রেণীর দুই ছাত্রী জানান, ফজলুর স্যারের কাছে অনেকদিন যাবৎ পড়াশোনা করি, কখনো কোনো খারাপ আচরণ লক্ষ করিনি। যারা স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে তারা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে স্কুলের ফাঁকা রুমে আড্ডা দেয়। স্যার বারণ করায় তারা মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

উল্লেখ্য, সিংড়া পৌরসভার মাদরাসা মোড় এলাকায় গড়ে উঠেছে দ্বিমিক কোচিং সেন্টার। সরকারিভাবে কোচিং বন্ধের নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসনকে বৃদ্ধা আঙ্গুলি দেখিয়ে সেখানে চলছে রমরমা কোচিং বাণিজ্য। পৌরসভার বিভিন্ন সুনাম ধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই কোচিং সেন্টারে পড়াশোনা করেন। কোচিং সেন্টারের পরিচালক মারুফ ওলি তিলকের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক এটি পরিচালনা করে আসছে।

অভিযোগকারী শিক্ষার্থীদের অধিকাংশ এই কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়েন। ক্লাস চলাকালীন সময়েও বিয়াম স্কুলের সেই শিক্ষার্থীরা কোচিং এ পড়েন এমন অভিযোগও রয়েছে।

জানা যায়, শিক্ষার্থীদের অভিযোগের ড্রাফট এখানের পরিচালকের পরামর্শে করা হয় এবং তিনিই নিজের কোচিং সেন্টারের স্বার্থে একজন সুনামধন্য শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ লিখে দেন। এখানেই অভিভাবকদের উদ্বুদ্ধ করেন তিনি। এদিকে বিয়ামের পাশেই অবস্থিত রেনেসাঁ অক্সফোর্ড কিন্ডার গার্ডেন স্কুল এর অধ্যক্ষ যুগান্তরের সাংবাদিক সাইফুলের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে সংবাদটি রং মাখিয়ে প্রকাশ করা হয়।

একজন অভিভাবক জানান, বিয়াম স্কুলের পাশেই রেনেসোঁ স্কুল অবস্থিত, রেনেসাঁর অধ্যক্ষ যুগান্তরের সাংবাদিক সাইফুলের ছাত্র-ছাত্রী কম, বিয়াম স্কুলের কোনো বদনাম হলেই তার ইনজয়। সে আমাকেও অনেকদিন বলেছে আপনার সন্তানকে আমার স্কুলে দেন। বিয়াম স্কুলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলেই সাংবাদিক সাইফুল খুব ইন্টারেস্ট পায়। এজন্যই সে এই সংবাদটি রং মাখিয়ে প্রকাশ করেছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সুশান্ত কুমার মাহাতো বলেন, এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার ভূমিকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে এলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue