বুধবার, ১৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১ কার্তিক ১৪২৬

সিআইডির অধীনে মাঠে নামবে সাইবার ইউনিট

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০২:০৩ পিএম

সিআইডির অধীনে মাঠে নামবে সাইবার ইউনিট

ঢাকা : সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুলিশের সাইবার সেন্টার এখন কার্যক্রম শুরু করার অপেক্ষায়।

সম্প্রতি সরকারের অনুমোদন পাওয়া পুলিশের সাইবার সেন্টার ইউনিট সিআইডির অধীনে কাজ শুরু করবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিআইডির সাংগঠনিক কাঠামোতে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো গঠন করতে বিভিন্ন পদে ৫৮৫টি পদ সৃষ্টি, ১০০টি যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগের প্রস্তাবটি যাচাই বাছাই করে ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে।

গত বছরের ১৬ জুলাই অর্থ বিভাগের ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অনুবিভাগ ৩৪২টি পদ ও ৪৯টি যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করতে সম্মতি দেয়। এসব পদের মধ্যে রয়েছে ডিআইজি ১টি, অতিরিক্ত ডিআইজি ২টি, পুলিশ সুপার ৩টি, অ্যাডিশনাল এসপি ৬টি, এএসপি ১৯টি, ইন্সপেক্টর ৬৫টি, এসআই (নিরস্ত্র) ১৩০টি, এএসআই ৩৯টি ও কনস্টেবলের ৭০টিসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। এসব পদে এরই মধ্যে সম্মতি পাওয়া গেছে। এরা সিআইডি পুলিশের অধীনে সাইবার অপরাধ দমনে কাজ করবে।

আইন যা বলে : তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইন, ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩)-এর ৫৪ ধারা অনুযায়ী, কম্পিউটার বা কম্পিউটার সিস্টেম ইত্যাদির ক্ষতি, অনিষ্ট সাধন যেমন ই-মেইল পাঠানো, ভাইরাস ছড়ানো, সিস্টেমে অনধিকার প্রবেশ বা সিস্টেমের ক্ষতি করা ইত্যাদি অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

৫৬ ধারায় বলা হয়েছে, কেউ যদি ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে এমন কোনো কাজ করেন, যার ফলে কোনো কম্পিউটার রিসোর্সের কোনো তথ্য বিনাশ, বাতিল বা পরিবর্তিত হয় বা এর উপযোগিতা হ্রাস পায় অথবা কোনো কম্পিউটার, সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা কোনো ইলেকট্রনিক সিস্টেমে অবৈধভাবে প্রবেশ করেন, তবে এটি হবে হ্যাকিং অপরাধ, যার শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড বা ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে কোনো মিথ্যা বা অশ্লীল কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে, যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয় অথবা রাষ্ট্র বা ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, তাহলে এগুলো হবে অপরাধ। এর শাস্তি সর্বোচ্চ ১৪ বছর কারাদণ্ড এবং সর্বনিম্ন ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ১ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা।

এ ব্যাপারে সিআইডি পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি শফিকুল ইসলাম বলেন, সাইবার অপরাধের ঘটনা বাড়ছে। কিন্তু সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ইউনিট এতদিন ছিল না। সাইবার ইউনিটটির কার্যক্রম শুরু করা গেলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য কমানো যাবে। এ ছাড়া জঙ্গিরাও বিভিন্ন অনলাইনে তৎপর রয়েছে। জঙ্গি দমনেও সাইবার ইউনিট কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আমি মনে করি।

এদিকে ইউটিউব, মোবাইল ফোন, ই-মেইল, ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এসব অপরাধ বাড়ছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে অপরাধের শিকার ৫৩ ভাগই নারী। এছাড়া ১৯-৩৫ বছর বয়সের লোকজনই সবচেয়ে বেশি সাইবার অপরাধের শিকার হচ্ছেন।

স্বচ্ছ ধারণার অভাব, লোকলজ্জা আর ভয়-ভীতির কারণে সাইবার অপরাধের শিকার ৭০ ভাগ ব্যক্তিই আইনের সহায়তা নেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিশন, বিভাগ ও ইউনিট। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার হেল্প ডেস্ক ও ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং পুলিশের পাঁচটি ইউনিটে সাইবার অপরাধ নিয়ে প্রতিদিন শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে। আর এ-সংক্রান্ত মামলার তদন্তে ত্রুটি থাকায় মোট মামলার অধিকাংশই খারিজ হয়ে যাচ্ছে।

বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০  কোটিরও বেশি। এর মধ্যে ৭০ ভাগই ঝুঁকিতে আছেন। ব্যবহারকারীদের মধ্যে ২০ ভাগ কোনো না কোনোভাবে সাইবার অপরাধের সঙ্গে জড়িত। আর মাত্র ১০ ভাগ ব্যবহারকারী সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতন। দেশে বর্তমানে ফেসবুক ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি। আর সাইবার অপরাধের ৭৫ ভাগ অভিযোগই ফেসবুককেন্দ্রিক। ইন্টারনেটের মাধ্যমে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হওয়া ৪৯ শতাংশই স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী।

শুধু ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছেই সাইবার অপরাধ নিয়ে বছরে অভিযোগ জমা পড়ে ২০ হাজারেরও  বেশি। এর মধ্যে মহানগর পুলিশের ‘হ্যালো সিটি’ অ্যাপসের মাধ্যমেই অভিযোগ জমা পড়ে ৬ হাজারের বেশি। তথ্য ও  যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের সাইবার  হেল্প  ডেস্কেও বছরে ১০ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে অভিযোগকারীদের প্রায় সবাই সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা মামলা না করেই প্রতিকার চান।

সোনালীনিউজ/এমটিআই