মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ, ২০২০, ১৭ চৈত্র ১৪২৬

আবু সাইয়িদ ও মন্টুর নেতৃত্বে কমিটি

সুতোয় ঝুলছে গণফোরাম

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ মার্চ ২০২০, রবিবার ০৪:৫৬ পিএম

সুতোয় ঝুলছে গণফোরাম

ঢাকা: গণফোরাম খণ্ডিত হতে সময়ের ব্যাপার মাত্র। বলা চলে সুতোয় ঝুলছে ড. কামালের দলটি। ড. কামাল হোসেনকে ‘শিশু’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন তারই অনুসারীরা। দলে চর ঢুকেছে বলেও মন্তব্য করেন। ইতোমধ্যে বহিষ্কার-পাল্টা বহিষ্কারের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ মার্চ) কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিপক্ষে অনাস্থা জানিয়েছে একাংশ। ওই অংশের মুখপাত্র হলেন অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। আর নেতৃত্বে থাকছেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ ও মোস্তফা মহসিন মন্টু।

শনিবার (১৪ মার্চ) বিকালে জরুরি এক বর্ধিত সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান গত কমিটির নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, যিনি এই বর্ধিত সভার সভাপতি হন। এর মধ্য দিয়ে অনানুষ্ঠানিকভাবে খণ্ডিত হলো গণফোরাম। তবে কেউই ভাঙনের ঘোষণা দিতে নারাজ। নিজ নিজ পক্ষে অবস্থান নিয়ে দলের মালিকানা দাবি করছে। মতিঝিলে দলীয় কার্যালয় দখলে নিয়েছে আবু সাঈদ ও মন্টুর লোকজন।

সভা শেষে আবু বলেন, এই সভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, এখন দলীয় ঐক্য রক্ষা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য মুখপাত্র হিসেবে অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা গণফোরামের দীর্ঘদিনের মাঠ পর্যায়ের নেতা-কর্মী হিসেবে জাতীয় শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনকে আহ্বান জানাচ্ছি, অনতিবিলম্বে দলের সব প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে দলকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা ও দলীয় ঐক্য রক্ষার উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

এই বর্ধিত সভা আগামী দুই সপ্তাহের জন্য মুলতবি করা হয় বলে জানিয়ে অধ্যাপক সাইয়িদ বলেন, আমরা আশা করছি এ সময়ের মধ্যেই এই সমস্যার সমাধান হবে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আজ অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে যে, দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি ড. কামাল হোসেন যিনি বাংলাদেশের সংবিধান প্রণেতা তাকে সামনে রেখে কিছু উচ্চাভিলাষী, কুচক্রীমহল দলে তাদের ব্যক্তি স্বার্থ চরিতার্থে অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে দীর্ঘ ১০ মাস কেন্দ্রীয় কমিটির সভা আহ্বান করেননি। ফলে দলের ভেতর উপদল, বহিষ্কার, পাল্টা বহিষ্কারের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের নেতাকর্মীদের  বিভ্রান্ত ও হতাশাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দলটির সাংগঠনিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ধ্বংস করছে।

সেক্ষেত্রে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক রেজা কিবরিয়ার অবস্থা কী জানতে চাইলে সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন, আমি বলতে চাই দীর্ঘ ১১ মাস যাবৎ উনি (রেজা কিবরিয়া) সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয়, উনি দলের কোনো পর্যায়ের সভা এবং মাঠপর্যায়ের মিটিং ডাকতে পারেননি। একজন সমন্বয়ক অর্থাৎ একজন সাধারণ সম্পাদকের যে দায়িত্ব সেটা উনি পালন করতে পারেননি। বরং উনি অভ্যন্তরীণ কোন্দলে জড়িয়ে পড়েছেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে বহিষ্কার এবং পাল্টা বহিষ্কার উনি নিজেও হয়েছেন।

উনি নিজেই দল ভেঙে দিলেন, নিজেই উনি আহ্বায়ক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হয়ে গেলেন। স্বঘোষিত একই ব্যক্তি সব করছেন। উনি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

তিনি বলেন, ড. কামাল হোসেন সাহেবকে কিছু বললে উনি বলেন যে, আমি ভাই কিছু জানি না। উনাকে তো জানতে হবে, উনি সভাপতি, প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট, সবার শ্রদ্ধার পাত্র, এখনো আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি, তাকে আমাদের মাথার ওপরে রাখতে চাই। এখনো আহ্বান জানাচ্ছি দলের প্রবীণ নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে সংকট উত্তরণ ঘটান।

গত ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি কি আপনারা বৈধ বলছেন কি না প্রশ্ন করা হলে মন্টু বলেন, আহ্বায়ক কমিটিতে যারা আছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি বলছি এটা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে হয়েছে, আমাদের গঠনতন্ত্রের কোনো ধারা মোতাবেক এটি হয়নি।

শনিবার (১৫ মার্চ) বিকালে মতিঝিলে পুরাতন ইডেন হোটেলে গণফোরামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সদ্য গঠিত ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির বাদপড়া নেতাদের জরুরি বর্ধিত সভা হয়। এতে কুমিল্লা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রামসহ ১২ জেলার প্রতিনিধি ছাড়াও আগের কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু নেতারা অংশ নেন।

গত কমিটির নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাইয়িদের সভাপতিত্বে প্রেসিডিয়াম সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিকের পরিচালনায় বর্ধিত সভায় কেন্দ্রীয় নেতা আসাদুজ্জামান, আব্দুুল আউয়াল, নীলুফার ইয়াসমীন শাপলা, কুমিল্লার আব্দুস সাত্তার পাঠান, ময়মনসিংহের রায়হান উদ্দিন, গাজীপুরের কাজী রফিক, চট্টগ্রামের রতন ব্যানার্জি, ব্রাক্ষণবাড়িয়ার তরিকুল হক, অঙ্গসংগঠনের যুব গণফোরামের নাসিরউদ্দিন, মাহবুব উল্লাহ মধু, ছাত্র ঐক্য ফোরামের সানজিদ রহমান শুভ, ঢাকা মহানগরের কামাল উদ্দিন সুমন, সাহাবুদ্দিন বক্তব্য রাখেন।

ড. রেজা কিবরিয়ার নেতৃত্বের কঠোর সমালোচনা করে তার অবিলম্বে অপসারণের দাবিও জানান বক্তারা। তারা বলেন, বয়সের কারণে ড. কামাল হোসেন শিশুসুলভ। তাকে বুঝিয়ে সম্পূর্ণ কায়দায় হঠকারী সব সিদ্ধান্ত নিয়েছে ড. রেজা কিবরিয়া। একটি অদৃশ্য অপশক্তি গণফোরামের ওপর ভর করেছে। একে দল থেকে অপসারণ করতে হবে। সে কোনো এজেন্সির চর।

কোনো কোনো বক্তা ড. কামাল হোসেনের বেইলি রোডের বাসার সামনে অবস্থান করে বিষয়টি সুরাহা করার দাবি রাখেন সভায় উপস্থিত নেতাদের কাছে। বর্ধিত সভায় অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরীও  ড. রেজা কিবরিয়ার সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন। এই বর্ধিত সভায় সর্বসাকুল্যে ৪০/৫৫ জন  উপস্থিত ছিলেন।

নেতাদের পাল্টাপাল্টি বহিষ্কারের এক সপ্তাহের মাথায় গত ১২ মার্চ গণফোরামের ৭১ সদস্যের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন ড. কামাল হোসেন, যেখানে ঠাঁই হয়নি দলটির তিন পরিচিত মুখ অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, মোস্তফা মহসিন মন্টু ও অধ্যাপক আবু সাইয়িদের।

নতুন ওই কমিটির সভাপতি আছেন কামাল হোসেনই আর রেজা কিবরিয়াকে করা হয়েছে সাধারণ সম্পাদক।

সোনালীনিউজ/এমটিআই