সোমবার, ১৯ নভেম্বর, ২০১৮, ৫ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫

‘সুশাসন না থাকলে ব্যাংকিং খাত টিকবে না’

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ নভেম্বর ২০১৮, বুধবার ১০:৫৫ পিএম

‘সুশাসন না থাকলে ব্যাংকিং খাত টিকবে না’

ঢাকা: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেছেন, দেশের ব্যাংকগুলো যত ভালো করুক না কেন, যতই নতুন নতুন পণ্য নিয়ে আসুক না কেন, এখানে সুশাসন না থাকলে ব্যাংক খাত টিকে থাকতে পারবে না।

তিনি বলেন, সুশাসনকে আগামী দিনগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

বুধবার (৭ নভেম্বর)  বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টে (বিআইবিএম) দুই দিনব্যাপী ৭ম বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন-২০১৮ (এবিসি-২০১৮) এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ফজলে কবির।

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর বলেন, গত কয়েক দশকে বিশ্বে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। এই পরিবর্তন শুধু রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নয়, অর্থনীতিতেও এসেছে। তাই আমাদের সামনে তাকাতে হবে। পেছনের আর্থিক সমস্যাগুলোর দিকে তাকিয়ে লাভ নেই।

অনুষ্ঠানে দেশের ব্যাংকগুলোর ঋণ, আমানত, বাণিজ্যিক কার্যক্রম ও মানবসম্পদ পর্যালোচনার তথ্য ও গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সেখানে ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের দক্ষতা নিয়ে বলা হয়, কোনও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক শতভাগ স্কোর অর্জন করতে পারেনি।

এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দক্ষতার মানদণ্ডে দেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলো এগিয়ে রয়েছে। পিছিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত (সরকারি) ব্যাংকগুলো। দেশে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো দক্ষতায় সবচেয়ে এগিয়ে। তবে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মধ্যে জনতা ব্যাংক তুলনামূলকভাবে অন্য তিন ব্যাংকের থেকে এগিয়ে রয়েছে দক্ষতায়। জনতা ব্যাংকের পরে দক্ষতায় ভালো অবস্থানে রূপালী ব্যাংক। আর সবচেয়ে পিছিয়ে সোনালি ব্যাংক। তৃতীয় স্থানে রয়েছে অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড।

দেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে –এমন বিদেশি খাতের ব্যাংকগুলো দক্ষতায় সবচেয়ে এগিয়ে। উল্লেখিত সময়ে দেখা যায়, সাউথ ইস্ট ব্যাংক সবচেয়ে বেশি দক্ষ। এরপর রয়েছে এবি ব্যাংক ও ব্র্যাক ব্যাংক। আর ইসলামী ব্যাংকগুলোর মধ্যে এক্সিম ব্যাংক সর্বোচ্চ দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে।

দুই দিনব্যাপী এ বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলন শেষ হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। এবারের বার্ষিক ব্যাংকিং সম্মেলনে চারটি প্ল্যানারি সেশনে ২২টি প্রবন্ধ উপস্থাপিত হবে। দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ, ব্যাংকার, গবেষক এবং শিক্ষার্থীরা এসব সেশনের আলোচনায় অংশগ্রহণ করছেন। দুই দিনের সম্মেলনে দেশি- বিদেশি অংশগ্রহণকারী থাকছেন।

২০১২ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের সবচেয়ে বড় এ অনুষ্ঠানটি আয়োজন করছে বিআইবিএম। এবার সপ্তম ব্যাংকিং সম্মেলন। প্রথম দিনের একটি সেশনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো নিয়ে একটি গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান বিআইবিএম-এর মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেন, বিগত দিনগুলোতে আমাদের ব্যাংকিং খাতে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উদ্ভাবনী কার্যক্রমে নানা নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। তবে সামনের দিনগুলোকে আমাদের সম্ভাবনা ও ঝুঁকির দিকগুলো অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। এসময় ব্যাংকিং খাতের খেলাপি ঋণ, একক গ্রাহককে বড় আকারের ঋণ দেয়াকে ২০১৭ সালে ব্যাংক খাতের সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় ছিল।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue