বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬

সেই আলোচিত ওসি বদরুল এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০১৭, শুক্রবার ০৮:৪৫ পিএম

সেই আলোচিত ওসি বদরুল এখন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়

ব্রাহ্মণবাড়িয়া:  কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নানান অপকর্মের মাধ্যমে আলোচিত পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম তালুকদার ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যোগদান করেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসা, মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি আর গুমের ভয় দেখিয়ে ভৈরব থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সূত্রমত, ওসি বদরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যেকোনো থানায় পদায়ন পাওয়ার জন্য চেষ্টা তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। এজন্য জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী এক নেতাকে ধরেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, আলোচিত এই পুলিশ কর্মকর্তা যেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কোনো থানায় পদায়ন না পান সেজন্য একটি গোয়েন্দা সংস্থা থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।

ভৈরবের ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, আলোচিত ওসি বদরুল বিভিন্ন সময়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি, গুম আর ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে চাদাঁবাজি করেছেন। যা ছিল তার নিত্যদিনের ঘটনা। ভৈরবে প্রায় চার বছর ওসি থাকাকালীন মাদক আর যৌনব্যবসায় জড়িতদের সহায়তা করে গেছেন। বিভিন্ন আবাসিক হোটেল থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এসব ঘটনায় ক্ষুব্ধ ছিল ভৈরবের সাধারণ মানুষ। সে সময় ভৈরব থানায় পুলিশের ওপেন হাউজ-ডে অনুষ্ঠানে ওসি বদরুলের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ করেন ‘ভৈরব মাদকমুক্ত সমাজ চাই’ আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল। প্রকাশ্যে অভিযোগ করায়, কাজলকে আটক করে মাদকসহ আদালতে চালান দিয়েছিলেন ওসি বদরুল। এ নিয়ে ভৈরবে সামাজিক সংগঠনগুলো তার বিরুদ্ধে আন্দোলন ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছিল। পরবর্তীতে কাজল জামিনে মুক্তি পেয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

গেল বছরের (২০১৬) ১০ আগস্ট গুমের ভয় দেখিয়ে ভৈরবের মুক্তিযোদ্ধা শাহজাদা মিয়ার ছেলে কাঠ ব্যবসায়ী আশরাফুল আলম বিজনের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি বদরুল। চাঁদা না দেয়ায় তাকেও মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করেন। আদালত থেকে জামিন পেয়ে গেল ৩ জানুয়ারি বিজন কিশোরগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল আদালতে ওসি বদরুলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

পরবর্তীতে অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউল হক ওসির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। নানা অপকর্ম আর অনিয়মের কারণে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি ভৈরব থেকে প্রত্যাহার হন আলোচিত ওসি বদরুল।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ভৈরবের ব্যবসায়ী বিজন বলেন, ‘আমাকে গুমের ভয় দেখিয়ে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল ওসি বদরুল। তা আমাদের কাছে রেকর্ড আছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভৈরবের একজন ওয়ার্কসপ মালিক বলেন, ‘আমার কাছ থেকে কাজ করে টাকা না দেয়ায় আমি থানায় গিয়ে তার কাছে পাওনা টাকা চাই। এতে তিনি আমাকে গালিগালাজ করে থানা থেকে বের করে দেন।’

ওই ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ওই ওসির নামের আগেই তো ‘বদ’ শব্দ আছে। আবার কখনো যদি তার সামনে যাই তাহলে মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করবেন বলেও হুমকি দিয়েছেন।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, ভৈরব থানা থেকে প্রত্যাহারের পর বিভিন্ন মাধ্যমে তদবির করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বদলি হয়ে এসেছেন ওসি বদরুল। এর আগে ২০১২ সালে এই জেলার সীমান্তবর্তী কসবা থানার ওসি ছিলেন বদরুল। সে সময়ে মাদক ব্যবসায়ী চক্রের সঙ্গে তার ছিল আর্থিক সখ্যতা। এর মাধ্যমে তিনি বিতর্কিত হয়েও ওঠেন।

বিশ্বস্ত সূত্রমতে, গেল ২০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ওসি বদরুলের পদায়নের পর থেকেই জেলা আওয়ামী লীগের এক নেতার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন। ইতোমধ্যে সেই নেতার সঙ্গে তার ৩০ লাখ টাকার একটি রফাদফা হয়েছে বলে গুঞ্জন উঠেছে।

ওসি বদরুলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কোনো থানায় পদায়ন না করার জন্য গোয়েন্দা সংস্থার সুপারিশ থাকার পরেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশে তার বদলি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। পুলিশ সুপার যখন পুরো জেলার মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন তার মধ্যেই ‘মাদকবান্ধব’ ওসির এ জেলায় আগমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

ওসি বদরুল নিজেই যেখানে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সেখানে পুলিশ সুপারের মাদকবিরোধী ভূমিকা কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত ওসি বদরুল আলম তালুকদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। মুক্তিযোদ্ধাপুত্র আশরাফুল আলম বিজনের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে প্রশ্ন করলে ওসি বদরুল বিজনকে ভৈরবের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী হিসেবে উল্লেখ করেন। এছাড়া ‘ভৈরব মাদকমুক্ত সমাজ’ আন্দোলনের আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ কাজলের অভিযোগও মিথ্যা বলে দাবি করেন।

এসব বিষয়ে জেলা পুলিশের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ওসি বদরুলের বিষয়ে অভিযোগ কানে এসেছে। এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এইচএআর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue