মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১৯, ১০ বৈশাখ ১৪২৬

সেই হাসির ব্যাখ্যা দিলেন শাজাহান খান

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৫ এপ্রিল ২০১৯, সোমবার ১০:০৭ পিএম

সেই হাসির ব্যাখ্যা দিলেন শাজাহান খান

ঢাকা:  গত বছরের ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুর পর তৎকালীন মন্ত্রী শাজাহান খানের যে হাসি ক্ষোভের আগুন জ্বালিয়েছিল, তা দীর্ঘ নয় মাস পর সেই হাসির ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন ওই হাসির পেছনে ছিলো ‘সাংবাদিকদের উসকানি’।

সোমবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ১৪ দলের এক আলোচনা সভায় শাজাহান খান বলেন, আজকে আমি ওই দিনের হাসির ব্যাখ্যাটা দিতে চাই। আসলে ওই দিন আমি সাংবাদিকদের জন্য হেসেছিলাম। ৬৮ বছর পর মোংলা বন্দরের জট ছুটতে যাচ্ছে-এই কথা বলার সময় হঠাৎ করে একজন সাংবাদিক আমাদের প্রশ্ন করল-আপনার আস্কারায় আজকে সড়কে দুই শিক্ষার্থীর প্রাণ গেছে।

তিনি আরো বলেন, আমার নাকি আস্কারা? এই কথায় আমি একটু হেসেছিলাম। তাছাড়া আমি একটু বেশি হাসি দেই। তবে এই হাসির জন্য উস্কানি দিয়েছে সাংবাদিকরা।

শাজহান খানের হেসে হেসে উত্তর দেওয়ার ভিডিও ইন্টারনেটে সামাজিকে যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পরদিন তার পদত্যাগসহ সড়কে নিরাপত্তার দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সারাদেশের শিক্ষার্থীরা। নয় দিন প্রায় অচল ছিল ঢাকার সড়ক।

ওই অবস্থায় পরে শাজাহান খান ক্ষমা চেয়েছিলেন।

এ সময় বক্তব্য শেষ করেন শাজাহান খান। তখন সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম শাজাহানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘আপনাকে (শাজাহান) কেউ বিতর্কিত বলেননি। কেউ হয়তো আপনার হাসিকে বিতর্কিত বলে থাকতে পারেন।’

এরপর আবারও ফ্লোর নেন শাজাহান খান। বলেন, ‘আজ আমাকে হাসির ব্যাখা দিতেই হবে। আমি তো এমনিতে বেশি হাসি, প্রবলেম হলো এইটা। হাসা যদি দোষ হয় তার জন্য আমি দুঃখিত। কিন্তু কী প্রেক্ষাপটে আমি হাসছি? সেটাও সাংবাদিকদের প্রশ্নের কারণে। দুর্ঘটনার কথা তখন আমি জানিও না।’

তিনি বলেন, ‘৬৮ বছর পর আমরা মংলাবন্দরে ক্রেন দিচ্ছি, এ সংবাদে আমরা আনন্দিত। সেখানে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে, আপনি কী বলবেন? আপনাদের অনুরোধ করব, পুরো ফুটেজটি আবারও দেখার জন্য। আমি উত্তরে বললাম, দুর্ঘটনার জন্য যদি কোনো ড্রাইভার দায়ী হয় আমরা তার কোনো প্রতিবাদ করবো। তখন আরেকজন সাংবাদিক বললো, আপনার আশকারা পেয়ে ড্রাইভাররা এমন (বেপরোয়া) হয়েছে! তখন স্বাভাবিকভাবে একটু হাসি আসে। আর আমি একটু হাসিও। আসলে আমার হাসার জন্য উস্কানি দিয়েছেন এই সাংবাদিক বন্ধুরা।’

উল্লেখ্য, গত বছর ২৯ জানুয়ারি জাবালে নূর পরিবহনের দুই বাসচালকের রেষারেষির জেরে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। এরপরই নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে আসে।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম