মঙ্গলবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৯, ৩০ আশ্বিন ১৪২৬

সোনালি ধান কাটলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার

ফরহাদ খান, নড়াইল | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৩:৩০ পিএম

সোনালি ধান কাটলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার

নড়াইল : সোনালি ধান কেটে আবারো তাক লাগিয়ে দিলেন নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার)।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সকাল ৭টার দিকে ধানকাটা শুরু করেন। জেলা পুলিশ লাইন্সের ২০ শতক পতিত জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেন তিনি। ২ মাস ২১ দিন পর ধানগুলো কেটে সংরক্ষণ করেন এ পুলিশ কর্মকর্তা। এছাড়া ধানগুলো মাড়াই করেন তিনি।

এ সময় পুলিশ সুপারের সঙ্গে ধান কেটে ও মাড়াইয়ের কাজে সহযোগিতা করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরফুদ্দীন, পুলিশ সুপারের ছেলে যশোর ইংলিশ স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইজুম সালেহীন সামির, মেয়ে নড়াইল সরকারি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিহা মুবাশ্বিরা রোজসহ নড়াইল পুলিশ লাইন্স স্কুলের ছাত্রছাত্রী, পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ। পুলিশ সুপারের এ ধরণের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ফেসবুকেও বিভিন্ন ধরণের উৎসাহমূলক মন্তব্য করেছেন বিভিন্ন পেশার মানুষ।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, গত ২২ ফেব্রুয়ারি পুলিশ লাইন্সের অনাবাদি জমিতে ধান রোপন করা হয়। এই ২০ শতক জমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে অনাবাদি পড়ে ছিল। পুলিশ লাইন্সের কোনো জমি যাতে অনাবাদি অবস্থায় পড়ে না থাকে, সে লক্ষ্যে জমিতে ধান চাষাবাদ করেছি। এদিকে কৃষি কাজে আন্তরিকতা সৃষ্টিতে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ধানকাটা ও মাড়াইয়ের কাজ করা হয়।

পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্রছাত্রীরা যেন কৃষি কাজের প্রতি আন্তরিক হয়, এ লক্ষ্য নিয়ে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কৃষি কাজ করছি। তিনি আরো বলেন, কোনো কাজ অবহেলা বা অবজ্ঞার নয়। তাই পুলিশ লাইন্সের পতিত জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় এনেছি। এর আগে শাক-সবজিসহ বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষরোপন করেছি।

জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি লাঙ্গলের গুটি হাতে, গরু দিয়ে ২০ শতক জমি চাষ করে ধান রোপন করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। সেই সময় পুলিশ সদস্যদের তোলা হালচাষের ছবিগুলো ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের আলোচনায় উঠে আসে ‘কৃষিবান্ধব পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন’ এর কথা।  

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শহরের দক্ষিণ নড়াইলে পুলিশ লাইন্সে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের পর প্রায় আট বিঘা জমি পতিত ছিল। জঙ্গল ও আগাছায় পূর্ণ ছিল বেশির ভাগ পতিত জমি। গত বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সুপার হিসেবে নড়াইলে যোগদানের পর থেকে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এর মধ্যে তিন বিঘা জমিতে পেঁপে, বেগুন, টমেটো, ফুলকপি, বাঁধাকপি, লাউ, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ ও মরিচসহ শাক-সবজি লাগিয়েছেন তিনি।

এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির ৫০০ আম গাছ লাগিয়েছেন। এ বছর গাছগুলোতে থোঁকায় থোঁকায় ঝুলছে আম। এছাড়া পুলিশ লাইন্স পুকুর, ট্রাফিক অফিস পুকুর ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের পুকুরে গত বর্ষা মওসুমে রুই, কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ১৩ হাজার মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। এসব মাছ পুলিশ লাইন্স মেসের পুলিশ সদস্যরা বিনামূল্যে খেয়ে থাকেন। এতে খাবার খরচ কম হচ্ছে মেসে খাওয়া পুলিশের সদস্যদের।

এছাড়া পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে ৩০ বছরের নর্দমা পরিষ্কার করে ‘পুলিশ মৎস্য অ্যাকুরিয়াম’ প্রতিষ্ঠা করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এখানে দেশি প্রজাতির বিলের মাছের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ রয়েছে। এর চারিদিকে পেঁপেসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। শোভা পাচ্ছে হরেক রকম ফুল।

এ ব্যাপারে নড়াইল প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের এ ধরণের কৃষি, মৎস্য, সবজি, ফলজ, বনজ ও ওষুধি গাছ রোপন আমাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। দেশের প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি অফিসের পতিত জমি বা চত্বরে এ ধরণের কৃষি কাজের উদ্যোগ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। এতে অফিস চত্বরে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মশা, মাছিসহ জীবাণুর উপদ্রব কমবে।

পাশাপাশি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্টরা বিনামূল্যে টাটকা শাক-সবজি, ফলমূল ছাড়াও বিভিন্ন কৃষি পণ্য হাতের কাছে পাবেন। এমনকি আর্থিক ভাবে লাভবানও হওয়ার সুযোগ রয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় বলেন, কৃষিবান্ধব পুলিশ সুপারের এ ধরণের মহতি কাজকে স্বাগত জানাই। তার এ কাজ অন্যদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা যোগাবে।

এদিকে পেশাগত কাজেও সুনাম ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। ইতোমধ্যে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার আমাদা, চরদৌলতপুর, পারমল্লিকপুর, সরুশুনা, বাড়িভাঙ্গা খাল, লাহুড়িয়া, কোটাকোল, কালিয়া উপজেলার কলাবাড়িয়া, যাদবপুর, রঘুনাথপুর, সদরের তারাশি, শড়াতলা, চৌগাছা, হোগলাডাঙ্গার বিরোধ মীমাংসাসহ জেলার বিভিন্ন অঞ্চলের ১৫৩টি বিরোধ মীমাংসা করে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে এনেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় বা পুলিশের রেঞ্জ পর্যায়ে নড়াইলকে প্রথম মাদকমুক্ত জেলা ঘোষণার লক্ষ্যে মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক’-সেবা (পিপিএম) পেয়েছেন তিনি। গত ৪ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার দিকে রাজারবাগে পুলিশ সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনকে এ পদক তুলে দেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই