বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২০, ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭

সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত গ্রামীণ জনপদ

নরসিংদী প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ নভেম্বর ২০১৯, সোমবার ০৪:১৪ পিএম

সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত গ্রামীণ জনপদ

নরসিংদী : চারদিকে সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে নরসিংদীর পলাশ উপজেলার গ্রামীণ জনপদ। শুরু হয়ে গেছে আমন ফসলকে ঘরে তোলার কাজ। কৃষক-কৃষানিরা এখন দারুণ ব্যস্ত ফসল তোলাকে কেন্দ্র করে। উপজেলার গ্রামগুলোতে কেবল সোনালী ধানের হাতছানি। আমনের আবাদ হয়েছে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি।

পলাশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, এ বছর পলাশ উপজেলায় ৩ হাজার ৫৯০ হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধান চাষাবাদ হয়েছে। ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩.৯০ মেট্রিকটন।

গত বছরের তুলনায় এবছর এই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছে কৃষি কর্মকর্তা। উপজেলার চরসিন্দুর ও গজারিয়া ইউনিয়নে সবচেয়ে বেশি আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। এর মধ্যে চলতি মৌসুমে ব্রি-৪৯, ৫১ ও ব্রি ৫২ জাতের ধান বেশি চাষ হয়েছে।

কিছু কিছু এলাকায় ব্রি-, ৬২ ও বিনা- ৭ জাতের ধানের ধান ও আবাদ করা হয়েছে । উচ্চ ফলনশীল ব্রি- ৪৯ ও ৫২ জাতের ধান চাষে আগ্রহ বাড়াতে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে উপজেলার কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে বলে জানান কৃষি অফিস।

‘ও মা, অঘ্রাণে তোর ভরা ক্ষেতে আমি কি দেখেছি মধুর হাসি‘ এমন নয়ন জুড়ানো সোনালী ধানের আভায় ভরে উঠেছে ফসলের মাঠ। পল্লী কবির ভাষায় বলা যায়, আমার বাড়ি যাইও ভ্রমর বসতে দেব পিঁড়ে জল পান যে করতে দেব শালি ধানের চিড়ে...।

ইতিমধ্যে উপজেলার অনেক এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়েছে। চারদিকে সবুজের সমারোহ আর সোনালী ধানের মৌ মৌ গন্ধ জানান দিচ্ছে নবান্নের বার্তা। বাঙ্গালীর চিরায়ত উৎসবের মধ্যে নবান্ন উৎসব একটি। পিঠা-পায়েস, পুলি-ফিরনি, নতুন ধানের চিড়া আর বিন্নি ধানের খই ইত্যাদি তৈরিতে গ্রামীণ বধূরাও ব্যস্ত থাকেন ফসল ঘরে তোলার পর থেকে। বাড়িতে নতুন আত্মীয়-কুটুম আর নবান্নের উৎসবে মাতোয়ারা।
কৃষকদের মতে এবার বাম্পার ফলন হয়েছে, যা প্রত্যাশা করা হয়েছে তার চেয়ে বেশি ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে হতাশা রয়েছে ধানের ন্যায্যমূল্য নিয়ে। ন্যায্যমূল্যে ধান বিক্রি করতে পারলে তাদের এ হাসি দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

শ্রমিক খরচ, সার, পানি, কীটনাশকসহ আনুষঙ্গিক খরচে হিমশিম খেতে হয় কৃষকদের। তার উপর ধানের ন্যায্যমূল্য না পেলে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়ায়। তাই কৃষকদের দাবি, সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে খোলা বাজারে ধান সংগ্রহ করুক।

পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর বিঘা প্রতি আমনের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকরা জমিতে সময় উপযোগী ওষুধ প্রয়োগ করায় এ বছর ধানে তেমন কোন পোঁকার আক্রমণ দেখা যায়নি।

তাই ফলনও ভাল হয়েছে। ধানের দাম নিয়ে কৃষকদের কোন প্রকার দুশ্চিন্তা না করার কথা জানিয়ে তিনি আরো জানান, সরকার ন্যায্য মূল্যে কৃষকদের ধান কিনে নিবে। ইতিমধ্যে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের তালিকা তৈরী করা হয়েছে। ১ মন ধান ১ হাজার ৫০ টাকা ধরে সরকার কৃষকদের কাছ থেকে ক্রয় করবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ ৩ হাজার কেজি পর্যন্ত ধান বিক্রি করতে পারবে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই