বুধবার, ২১ আগস্ট, ২০১৯, ৬ ভাদ্র ১৪২৬

স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ইউপি সদস্য আটক

ক্রীড়া প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১১ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ০৬:৩৮ পিএম

স্কুলছাত্রকে গাছে বেঁধে নির্যাতন, ইউপি সদস্য আটক

ছবি সংগৃহীত

ঝালকাঠি: ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে  দুই স্কুলছাত্রকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ব্লেড দিয়ে তাদের মাথাও ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে তাকে ঝালকাঠি আদালতে পাঠানো হয়।

নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান (১৪) বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের এবং রিফাত হোসেন জয় (১৪) একই গ্রামের আবদুল কুদ্দুস হাওলাদারের ছেলে। তারা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।

এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে সোমবার রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ আটজনকে আসামি করে মামলা করেন।

নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল অভিযোগ কেন্দ্রে কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়িতে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রোববার সকালে সজিব হোসেন খান ও রিফাত হোসেন জয়কে আটক করেন শাহ আলম।

পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে নির্যাতনের নির্দেশ দেন। কনস্টেবল শাহ আলম ব্লেড দিয়ে জয়ের মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেন। এসময় তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পুরো ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন স্থানীয় লোকজন। এ সময় চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র জয় জানায়, গত রোববার রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্য শাহআলম ব্লেড দিয়ে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেন।

জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান, আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি।

সিদ্ধাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। আমি তাদের আটক করিনি কিংবা মারধরও করিনি। আমি ঘটনাটি শুনেছি মাত্র। এলাকার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার জয়ের বাবা মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে। ঝালকাঠি প্রতিনিধি

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআই

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue