রবিবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭ আশ্বিন ১৪২৬

স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে দিল যুবলীগ নেতা

পিরোজপুর প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৩ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার ০৯:৫০ পিএম

স্কুলছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও ফেসবুকে দিল যুবলীগ নেতা

পিরোজপুর: জেলার নাজিরপুরে ৬ষ্ঠ শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগে মোয়াজ্জেম শিকদার (৪৫) নামে এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৩ মে) বিকেলে উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোয়াজ্জেম শিকদার উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর খানের ভাগ্নে রিফাত আল মামুন (১৬) কর্তৃক ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে যৌন হয়রানির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় ওই ছাত্রীর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন নাজিরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া।

থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই ভিডিওটি ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার ও তার সহযোগীরা রিফাত আল মামুনের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার বুধবার (২২ মে) রাতে তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে ‘১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি’র ভাগ্নের কাণ্ড দেখুন’ লিখে একটি ২৫ সেকেন্ড ও একটি এক মিনিট ৩ সেকেন্ডের ভিডিও আপলোড করেন।

ঘণ্টাখানেক পরে তিনি ওই পোস্ট ডিলেট করলেও ভিডিও দুটি ম্যাসেঞ্জারসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। ঘটনার পর থেকে এ নিয়ে ওই এলাকায় তোলপাড় চলছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার সেখমাটিয়া ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জাহাঙ্গীর খানের ভাগ্নে রিফাত আল মামুন স্থানীয় একটি স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে তাদের ঘরে নিয়ে যৌন হয়রানি করে। এ সময় যৌন হয়রানির ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার ও তার সহযোগীরা রিফাতের কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে মোয়াজ্জেম শিকদার তার ফেসবুক আইডিতে ওই ভিডিও আপলোড করে।

ঘটনার বিষয়ে কথা হলে রিফাত আল মামুন ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনার জন্য সে অনুতপ্ত। তবে কে বা কারা ভিডিওটি ধারণ করেছে সে বিষয়ে তার কিছুই জানা নেই বলে দাবি করে।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যুবলীগ নেতা মোয়াজ্জেম শিকদার চাঁদা দাবির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, একটি সত্য ঘটনা আমি পোস্ট করেছি। এখানে দোষের কিছু দেখছি না।

আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর খান বলেন, মেয়ের পক্ষ থেকে যেহেতু কোনো অভিযোগ আসেনি, তাই আমার ভাগ্নে নিরপরাধ। যারা ভিডিওটি ছড়িয়ে দিয়েছে তারা অপরাধ করেছে। মেয়ের পরিবার তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেছেন।

পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকারিয়া জানান, ওই ছাত্রীর নানার লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue