বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

স্বামী স্ত্রীর মধুর ভালোবাসায় সুখের ঠিকানা

ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার ১১:০১ এএম

স্বামী স্ত্রীর মধুর ভালোবাসায় সুখের ঠিকানা

ঢাকা: ইসলামে স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক অত্যন্ত পবিত্র ও মধুর। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতি মধুর ভালোবাসা সংসারে এনে দেয় সুখের ঠিকানা। উত্তম স্ত্রী আর উত্তম স্বামী দুনিয়া ও আখেরাতেও তারা সফলকাম।

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্ত্রীদেরকে অনেক ভালোবাসতেন। ভালোবাসায় ছিল না কোনো মিথ্যা, বেহায়াপনা বা অশ্লীল কিছু, ভালবাসা ছিল পবিত্র যা আমাদের জন্য আদর্শ।

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন ‘তোমরা ওই পর্যন্ত জান্নাতে যেতে পারবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত মুমিন হও, আর ততক্ষণ পর্যন্ত মুমিন হতে পারবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত একে অপরকে ভালোবাস।’ 
 
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে ঘরে স্বামী ও স্ত্রী এক সাথে তাহাজ্জুদ এর নামায পড়বে, সে ঘরে জীবনে কোনো দিন অশান্তি হবে না’। (বুখারি ও মুসলিম)। 

রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘যে স্বামী তার স্ত্রীকে এক লোকমা ভাত খাইয়ে দিবে, আল্লাহ ওই স্বামীর ছগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন এবং যে স্ত্রী তার স্বামীকে এক লোকমা ভাত খাইয়ে দিবে আল্লাহ ওই স্ত্রীর ছগীরা গুনাহগুলো মাফ করে দিবেন এবং প্রতি লোকমার বিনিময়ে ১০০০ নেকি উভয়ের আমলনামায় দান করবেন।’ (মুসলিম শরীফ) 

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে ঘরে স্বামী ও স্ত্রী একই প্লেটে খাবার খাবে যতক্ষণ খাবার খেতে থাকবে ততক্ষণ তাদের আমলনামায় সওয়াব লিখা হয়।’ (তিরমিজি) 

রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘স্বামী ও স্ত্রী যখন একই বিছানায় শয়ন করে বা বসে অথবা গল্প করে অথবা হাসি খুশি কথা বলে তখন প্রতিটা মিনিটে এবং স্বামী স্ত্রীর প্রতিটা কথাতে প্রতিটা সেকেন্ডে তাদের আমল নামায় ১০ টা করে নেকি লিখা হয়।’ (আবু দাউদ) 
 
মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে স্ত্রী তার স্বামীকে সকালে ঘুম থেকে জাগিয়ে পবিত্র করে ফজরের সালাতে মসজিদে পাঠিয়ে দেয়, ওই স্ত্রীর প্রতি স্বামীর অন্তরে আল্লাহর তরফ থেকে ভালোবাসার নুর পয়দা হয়।’ (বুখারি শরিফ) 

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে স্বামী তার স্ত্রীকে একবার চুমু দিবে এবং যে স্ত্রী তার স্বামীকে একবার চুমু দিবে, প্রতিটা চুমুর বিনিময়ে ১০০ নেকি তাদের আমলনামায় লিখা হয়।’ (মুসনাদে আহমদ) 

মহানবী (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে স্বামী তার স্ত্রীর নিকট গমন করে এবং শারীরিক মিলনের আগে দুই রাকাত নামাজ পড়ে নেয় ও রাসূল (সা.) এর সুন্নত মতো স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক মিলন করে তাদের প্রতিবার মিলনে একটি উট কুরবানি করার সওয়াব তাদের উভয়ের আমল নামায় লিখা হয়।’ (বায়হাকী) 

‘যে স্বামী তার স্ত্রীকে কোরআনের এলেম শিখাবে এবং নিজেও শিখবে এবং সে অনুযায়ী আমল করবে আল্লাহপাক মৃত্যুর পর তাদেরকে জান্নাত দান করবেন।’ 

রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘যে সন্তান তার পিতামাতার ভরণ পোষন করবে বা সেবা করবে এবং নিজ স্ত্রীর ইজ্জতের হেফাজত করবে তাদের জীবনের সব গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে।’ (মুসলিম শরীফ) 
 
মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে স্ত্রী তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া সেবা করবে সে স্ত্রীর নিজের শরীরের ওজনের সমান সোনা ছদকা দান করার সওয়াব তার আমল নামায় প্রতিদিন লিখা হয় ৷ আর যে স্বামী তার স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া তার সেবা করবে সে স্বামীর শরীরের ওজনের সমান সোনা দান করার সওয়াব তার আমলনামায় লিখা হয়।’ (আবু দাউদ)

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে স্বামী স্ত্রী উভয়ে একে অপরের দিকে তাকিয়ে মিষ্টি হাসি দিবে, তাদের প্রতিটা হাসিতে তাদের আমলনামায় ১০ টা করে নেকি দেয়া হয়।’ (আবু দাউদ) 

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যে স্বামী ঘরের বাহিরে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী ও সন্তানদেরকে সালাম করে বাসা থেকে বের হয় এবং যখন বাহির থেকে এসে আবার সালাম করে অথবা স্বামী বাসায় আসলে বা বাহিরে যাওয়ার সময় স্ত্রী তার স্বামীকে সালাম করে সে ঘরে কখনো শয়তান প্রবেশ করতে পারে না এবং সব সময় রহমত ও বরকত নাজিল হতে থাকে, কখনো ঝগড়া বিবাদ হবে না সে ঘরে।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)

মহানবী (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন কোনো পুরুষ বিয়ের সময় তার স্ত্রীকে কালেমা পড়ে কবুল বলে দোয়া করলো তখন সেই সময় হতে মৃত্যু পর্যন্ত তাদের আমলনামায় সওয়াব লিখা হয়।’ (মুসলিম)

হে আল্লাহ্! প্রতিটি মুসলিম পরিবারকে কবুল করুন। (আমিন)

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই