সোমবার, ১৪ অক্টোবর, ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নিন

সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৬, সোমবার ১১:০৩ এএম

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ব্যবস্থা নিন

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে নানা প্রতিকারের কথা শোনা গেলেও তার প্রতিফলন হচ্ছে সামান্যই। চালকদের দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর প্রবণতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না। তার নির্মম খেসারত দিতে হয় যাত্রীসাধারণকে। গত শুক্র ও শনিবার দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আহত হয়েছে অনেক।

মহাসড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মহাসড়কে দ্রুতগতির যানবাহনের পাশাপাশি শ্লথগতির যানবাহন চলছে অবাধে। মহাসড়কে দুর্ঘটনার এটিও একটি অন্যতম কারণ। শুক্র ও শনিবারের তিনটি দুর্ঘটনাই ঘটেছে বাসের সঙ্গে হিউম্যান হলার ও নছিমনের। মহাসড়কগুলোতে দ্রুতগতি ও শ্লথগতির যানবাহনের জন্য আলাদা কোনো লেন নেই। ফলে কমগতির এসব যানবাহনও মহাসড়কের মাঝামাঝিতে চলে আসে। স্থানীয়ভাবে চলাচলকারী হিউম্যান হলার বা নছিমনের মতো যানবাহনের চালকদের বৈধ কোনো লাইসেন্স নেই। এ ছাড়া দ্রুতগতির যানবাহনও অনেক সময় তুলে দেয়া হয় অদক্ষ চালকের হাতে। যাদের অনেকের ট্রাফিক আইন সম্পর্কে কোনো ধারণা নেই। আবার মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে ফিটনেসবিহীন অসংখ্য গাড়ি অবাধে চলাচল করছে, যা তারা দেখেও না দেখার ভান করে। বলতে গেলে এসব অনিয়মের কারণে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাচ্ছে না।   

সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। আরেকটি পরিসংখ্যান বলছে, দেশের ৪০ শতাংশ চালকের কোনো বৈধ লাইসেন্স নেই। আদালত থেকে পাঠ্যপুস্তকে ট্রাফিক আইন অন্তর্ভুক্ত করে গাড়িচালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পর্যন্ত নির্ধারণ করার আদেশ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু সে আদেশ আদৌ বাস্তবায়িত হয়নি। এ আদেশ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যে ধরনের উদ্যোগ নেয়া উচিত ছিল, তার ছিটেফোটাও আমরা দেখছি না। যে কারণে সড়ক-মহাসড়কে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। দেশে যন্ত্রচালিত বাহনের সংখ্যা বাড়ছে। দ্রুততর যাতায়াতব্যবস্থা নিশ্চিত করতে এসব বাহন এ মুহূর্তে তুলে দেয়া যাবে না। ধীরগতির হলেও এসব যানবাহন যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। কাজেই সমস্যাটি নিয়ে নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। সড়ক-মহাসড়কে ধীরগতির যানবাহনের জন্য আলাদা লেন করা এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। তাতে সড়ক দুর্ঘটনা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত হবে। তবে প্রশিক্ষিত চালকের সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে সব ধরনের যানবাহনের ফিটনেস। সেই সঙ্গে প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কড়া নজরদারি। 

আমরা চাই সড়ক-মহাসড়কে মানুষের জীবন নির্বিঘ্ন হোক। নিরাপদ হোক মানুষের যাতায়াত। এক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেয়া চলবে না। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে। 

সোনালীনিউজ/ঢাকা