শুক্রবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬

হলি আর্টিজানের রায় আজ, কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২৭ নভেম্বর ২০১৯, বুধবার ০৯:৩৬ এএম

হলি আর্টিজানের রায় আজ, কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে রাজধানী

ঢাকা : রাজধানীর গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে তিন বছর আগে সংঘটিত ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলা মামলার রায় আজ। সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান এ রায় ঘোষণা করবেন। পুরান ঢাকার সদরঘাটে মহানগর দায়রা জজ আদালত ভবনের পঞ্চম তলায় অবস্থিত এ ট্রাইব্যুনালে গত ১৭ নভেম্বর মামলাটির যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হওয়ার পর বিচারক রায় ঘোষণার এ দিন ঠিক করেন।

এ রায় ঘিরে ইতোমধ্যে পুরান ঢাকার আদালতপাড়ায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া গুলশান, বারিধারার কূটনীতিকপাড়ায়ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে; দেশজুড়ে নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কাবস্থা।

সিটিটিসি ও র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে নাশকতার সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। তবে নিরাপত্তাশঙ্কার সার্বিক দিক বিবেচনায় রেখে সতর্কতার সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। জঙ্গিগোষ্ঠী রায়ঘিরে যেন কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইউনিফর্মধারী পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও।

আজকের রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন আরও একটি কারণে। তাদের ধারণা, জঙ্গিগোষ্ঠী মনে করতে পারে, রায়ের দিন কোনো নাশকতা বা সহিংস কা- ঘটালে গণমাধ্যমে অনেক বেশি কাভারেজ পাওয়া যাবে। তাই তারা মারাত্মক ঝুঁকিও নিতে পারে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও তাই প্রস্তুত যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায়।

আজকের রায় ঘোষণা কেন্দ্র করে মঙ্গলবার থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তা-প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ-র‌্যাব। গতকাল মঙ্গলবারই পুরান ঢাকার আদালতপাড়ার নিরাপত্তা জোরদার শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আদালত ও এর আশপাশের পুরো এলাকায় নিরাপত্তা তল্লাশিও শুরু করা হয়েছে।  আজ সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে আর্চওয়ে, মেটাল ডিটেকটর ও ডগ স্কয়াড মোতায়েন থাকবে। পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াত টিমের সদস্যদেরও মোতায়েন করা হবে।

এ ছাড়া র‌্যাব পুলিশের বিপুলসংখ্যক সদস্য ছাড়াও সাদা পোশাকে চালানো হবে গোয়েন্দা নজরদারি। রায়ঘিরে রাজধানীসহ সারাদেশের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ঢাকার কূটনীতিকপাড়া-গুলশান, বনানী, বারিধারার নিরাপত্তায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই।

রায়ের দিন আদালতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে চিঠি দিয়েছে পুলিশ। আদালতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রায়ের দিন আদালত প্রাঙ্গণে বহিরাগত ব্যক্তিদের চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারিতে রাখা হবে। এ ছাড়া সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দায়িত্বরত পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমপির এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, ‘মঙ্গলবার রাত থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে আদালতপাড়ায়। এ ছাড়া আসামি আনা-নেওয়ার জন্য বিশেষ স্কটের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

এদিকে গত রবিবার রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হওয়া জেএমবির আমির আবু রায়হানের কিছু অনুসারী রাজধানীতে জঙ্গি হামলার চেষ্টা করতে পারে বলে সতর্ক করে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে বার্তা পাঠিয়েছে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। এই বার্তা পেয়ে গতকাল সন্ধ্যার পরই রাজধানীতে টহল জোরদার করা হয়।

কেরানীগঞ্জ ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সেখান থেকেই বিশেষ পাহারায় ৮ আসামিকে আজ আদালতে আনা হবে।

হলি আর্টিজান হামলায় ১৭ বিদেশি নাগরিকসহ ২৩ জন নিহত হয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতের ওই হামলায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের বিপজ্জনক বিস্তার। এ ছাড়া বেরিয়ে আসে শুধু নিম্ন বা মধ্যবিত্ত নয়, উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জঙ্গিবাদে জড়ানোর বিষয়টি। হামলায় সরাসরি যে পাঁচজন অংশ নিয়েছিল, তাদের সবাই ছিল উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী। মূলত বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র প্রমাণ করতেই এ হামলা হয়েছিল। ওই জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্বজনরা আশা করছেন, আজ আদালতে আসামিদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির রায় আসবে।

রাষ্ট্রপক্ষ, মামলার তদন্তকারী সংস্থাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাও একই আশা প্রকাশ করছেন। রায় শুনতে নিহতদের স্বজনসহ ওই হামলায় যেসব দেশের নাগরিক নিহত হয়েছিলেন, সেই দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা আদালতে উপস্থিত থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

আজকের রায় সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর গোলাম সারোয়ার খান (জাকির) বলেন, আশা করছি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হবে। এ ছাড়া সঙ্গে কয়েকটি ধারায় যাবজ্জীবন সাজাও তিনি প্রত্যাশা করছেন বলে জানান।

অন্যদিকে মামলার আসামি র‌্যাশ, রিগ্যান, খালেদ ও হাদিসুর রহমান সাগরের আইনজীবী মোহাম্মাদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, মামলাটি মূলত আসামিদের স্বীকারোক্তিনির্ভর। স্বীকারোক্তিগুলোও পরস্পরকে সমর্থন করেনি যার ওপর ভিত্তি করে সাজা দেওয়া যেতে পারে।

২০১৬ সালের ১ জুলাই গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গিরা হামলার পর ৪ জুলাই রাতে গুলশান থানার এসআই রিপন কুমার দাস ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধনী ২০০৩) ৬(২)/৭/৮/৯/১০/১২/১৩ ধারায় অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলার পর দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম বিভাগের পরিদর্শক হুমায়ূন কবিরকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি এক বছর ১৯ দিন পর ২০১৮ সালের ২৩ জুলাই আদালতে ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

চার্জশিটে নর্থ-সাউথ ইউনিভার্সিটির সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম এ ঘটনায় জড়িত নয়, মর্মে তাকে অব্যাহতির আবেদন করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলেও ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর ‘অপারেশন থান্ডারবোল্টে’ নিহত হামলাকারী রোহান ইবনে ইমতিয়াজ, মীর সামেহ মোবাশ্বের, নিবরাস ইসলাম, শফিকুল ইসলাম উজ্জ্বল ও খায়রুল ইসলাম পায়েল নিহত হওয়ায় তাদের নাম চার্জশিটে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

এ ছাড়া পরবর্তীকালে র‌্যাব-পুলিশের অভিযানে তামিম আহমেদ চৌধুরী, নুরুল ইসলাম মারজান, সারোয়ান জাহান মানিক, তানভীর কাদেরী, বাশারুজ্জামান ওরফে চকলেট, রায়হান কবির ওরফে তারেক, মেজর (অব) জাহিদুল ইসলাম ওরফে মুরাদ ও মিজানুর রহমান ওরফে ছোট মিজান নিহত হওয়ায় তাদের নামও চার্জশিটে অব্যাহতির আবেদন করা হয়।

সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট চার্জশিট আমলে গ্রহণ করে ওই সময় পলাতক থাকা দুই আসামির (পরে গ্রেপ্তার) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন অনুযায়ী হাসনাত করিমকে এবং মৃত ১৩ জনকেও অব্যাহতি দেন। একই বছর ২৬ নভেম্বর আদালত ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করে বিচার শুরু করেন।

এর পর ওই বছর ৩ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছর ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত ৪৬ কার্যদিবসে ট্রাইব্যুনাল চার্জশিটের ২১১ সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করে রাষ্ট্রপক্ষে সাক্ষ্যসম্পন্ন হয়। এর পর চলতি বছর ৩০ অক্টোবর আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। সেখানে সব আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে কেউ মৌখিক ও লিখিত বক্তব্য ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেন।

এর পর গত ৬ নভেম্বর থেকে দুই কার্যদিবসে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২৭ নভেম্বর রায়ের দিন ধার্য হয়। চার্জগঠন থেকে যুক্তিতর্ক পর্যন্ত মোট ৫২ কার্যদিবসে মামলার বিচার সম্পন্ন হয়।

মামলার আসামিরা হলেন-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার হাজারবিঘি চানপুর গ্রামের মৃত হোসেন আলীর ছেলে মো. মিজানুর রহমান ওরফে বড় মিজান (৬২), নওগাঁ জেলার মান্দা থানার সাবাইহাট কাঞ্চনপুর গ্রামের মো. আব্দুস সালাম সরদারের ছেলে আসলাম হোসেন সরদার ওরফে মোহন ওরফে রাশেদ ওরফে আবু জাররা ওরফে র‌্যাশ (২২), হাদিসুর রহমান সাগর, বগুড়া জেলার সদর থানার ইসলামপুর গ্রামের মৃত রেজাউল হকের ছেলে রাকিবুল হাসান রিগ্যান ওরফে রাইফউল ইসলাম ওরফে রাফি ওরফে রিপন ওরফে হাসান (২২), গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মালঞ্চা গ্রামের মৃত ওসমান গণি ম-লের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব ওরফে রাজীব গান্ধী ওরফে সুভাষ ওরফে শান্ত ওরফে টাইগার ওরফে আদিল ওরফে জাহিদ (৩৪), কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানার সাদিপুর কাবলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম শেখের ছেলে আব্দুস সবুর খান ওরফে হাসান ওরফে সোহেল মাহফুজ ওরফে হাতকাটা মাহফুজ ওরফে মুসাফির ওরফে জয় ওরফে নাসরুল্লাহ (৩৫), জয়পুরহাট জেলার সদর থানার কাদোয়া কাড়াপাড়া গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে মো. হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর ওরফে সাদ বিন আবু ওয়াক্কাস ওরফে আবু আল বাঙালি ওরফে আমজাদ ওরফে তৌফিক (৩৭), রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল হাকিম মাস্টারের ছেলে মো. শফিকুল ইসলাম খালেদ ওরফে খালিদ ও বগুড়া জেলার নন্দীগ্রাম থানার শেখের মাড়িয়া গ্রামের মৃত নাসির উদ্দিন সরদারের ছেলে মো. মামুনুর রশীদ ওরফে রিপন (৩২)।

সব আসামিই কারাগারে রয়েছেন। এরা সরাসরি হামলার সময় উপস্থিত ছিলেন না। তবে হামলার পরিকল্পনা, অর্থ সংগ্রহ, অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলাকারীদের প্রশিক্ষণ এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপে জড়িত ছিলেন।

হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড বেকারিতে হামলার প্রধান পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারী ছিলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক তামিম চৌধুরী। মূলত তার দিকনির্দেশনাতেই গুলশানে বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই জঙ্গি হামলা হয়। বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে জঙ্গিরাষ্ট্র প্রমাণ করতেই এ হামলা হয়েছিল।

অন্যদিকে অধিকসংখ্যক বিদেশি মারতে পারলে বহির্বিশ্বের নজরকাড়া যাবে এই চিন্তা থেকেই গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্ট বেছে নেওয়া হয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলা চালায় নব্যধারার জেএমবির প্রশিক্ষিত পাঁচ জঙ্গি। তারা রেস্তোরাঁর ভেতরে দেশি-বিদেশি নাগরিক নৃশংসভাবে হত্যা করে। আর জঙ্গিদের মোকাবিলা করতে গিয়ে অভিযানের শুরুতেই দুই পুলিশ কর্মকর্তা বনানী থানার ওসি সালাউদ্দিন এবং ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. রবিউল করিম নিহত হন। হামলায় অংশ নেওয়া পাঁচ জঙ্গি পরের দিন সকালে সেনাবাহিনীর কমান্ডো অভিযানে নিহত হয়। রাজধানীর বসুন্ধরার একটি ভাড়া বাসা থেকে তারা হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা করতে আসে।

হামলার আগে ওই পাঁচ জঙ্গির অস্ত্র হাতে ছবি তোলা হয়। সেই রাতের জঙ্গি হামলায় নিহত ১৭ বিদেশির মধ্যে ইতালির ৯ জন, জাপানের ৭ ও ভারতের একজন নাগরিক ছিলেন।

হলি আর্টিজান রেস্তোরাঁয় হামলার মধ্য দিয়ে তামিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন জঙ্গিরা বাংলাদেশের জঙ্গিবাদের ইতিহাসে নৃশংস কালো অধ্যায়ের সূচনা করে। বাংলাদেশের নিরাপত্তা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ন হয়। পরবর্তীকালে এ ঘটনার তদন্তে উঠে আসে জঙ্গিবাদের সঙ্গে উচ্চবিত্ত পরিবারের উচ্চশিক্ষিত সন্তানদের জড়িত হওয়ার অজানা অধ্যায়।

এ ঘটনা ভাবিয়ে তোলে সব মহলকে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর টানা অভিযানে একে একে নিহত হতে থাকে প্রশিক্ষিত জঙ্গিরা। ধরাও পড়তে থাকে। পর্যায়ক্রমে ধ্বংস হতে থাকে জঙ্গিদের আস্তানা। পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানে নিহত হয় গুলশান হামলার প্রধান মাস্টারমাইন্ড তামিম চৌধুরীসহ আরও বেশ কয়েকজন।

হলি আর্টিজান মামলার রায় কেন্দ্র করে র‌্যাব সতর্কাবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির মহাপরিচালক (ডিজি) বেনজীর আহমেদ।  মঙ্গলবার র‌্যাব সদর দপ্তরে হলি আর্টিজান মামলার রায় সামনে রেখে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

বেনজীর আহমেদ বলেন, রায়ের কথা মাথায় রেখে আমরা আজকে থেকেই সতর্কতা অবস্থানে রয়েছি। আগামীকাল (আজ) রায়ের দিন আমাদের বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। আমরা যতদিন প্রয়োজন মনে করব, ততদিন এই নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। জঙ্গিরা যেন কোনো ধরনের ধ্বংসাত্মক কাজ না করতে পারে সে জন্য সব সময় সতর্ক থাকি। আমরা অনেক কাজ করি কিন্তু কখনো জঙ্গিবাদ থেকে আমাদের দৃষ্টি সরাই না।

তিনি আরও বলেন, হলি আর্টিজানের পর বাংলাদেশে যতবার জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে, আমরা তা নস্যাৎ করে দিয়েছি। তাদের বারবার প্রতিহত করেছি। হলি আর্টিজনের পর আমরা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত জিরো টলারেন্স নীতিতে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। হলি আর্টিজানের ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০৯ জঙ্গিকে আমরা আটক করেছি।

এখন পর্যন্ত ২৫ জঙ্গি আমাদের সঙ্গে গোলাগুলিতে নিহত হয়েছে। তিনি বলেন, পবিত্র কোরআন ও কোরআনের আয়াতের অপব্যাখ্যা করে জঙ্গিরা মানুষকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার জন্য যে চেষ্টা করছিল, এটি রোধ করার জন্য কিন্তু পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের সঠিক ব্যাখ্যা আমরা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি।

সোনালীনিউজ/এএস

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue