সোমবার, ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

হিজড়াদের নামায আদায়ের বিধান

ধর্মচিন্তা ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ২২ জুলাই ২০১৯, সোমবার ১০:৩৮ এএম

হিজড়াদের নামায আদায়ের বিধান

হাশরের মাঠে পুরুষ রা এক দিকে বসবে আর মহিলারা আর এক দিকে বসবে, তবে হিজড়াদের ব্যাপারে কিছু বলা নাই। হিজড়াদের ব্যাপারে কোরআনের কোন আয়াত বা হদিস আছে কিনা ??

আমি আসলে নবী (সাঃ) এবং আল্লাহর এই ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট বানী শুনতে চাচ্ছিলাম।

উত্তর

بسم الله الرحمن الرحيم

হিজড়া সম্প্রদায় আল্লাহ তাআলারই বান্দা বা বান্দি। তারা আল্লাহ তাআলারই সৃষ্টি। তারাও আশরাফুল মাখলুকাত তথা সৃষ্টির সেরা জীব।

তাদের ব্যাপারে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তারাও মানুষ। আমাদের মতই মানুষ। তবে যেমন অনেক মানুষের শারিরিক ত্রুটি থাকে। এটিও তাদের তেমনি একটি ত্রুটি। এ ত্রুটির কারণে উক্ত ব্যক্তি মনুষত্ব থেকে বেরিয়ে যায় না। বরং অন্যান্য প্রতিবন্ধিদের মতই তারা আরো বেশি স্নেহ, মমতা ও ভালবাসা পাবার অধিকার রাখে। তাদের ঘৃণা নয় ভালবাসা ও স্নেহ দিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে দেয়া উচিত। তাদের সাথে দুর্ব্যবহার করা, খারাপ মন্তব্য করা মারাত্মক গোনাহের কাজ। যেকোন মুসলমানকে গালি দেয়া যেমন পাপ তাদের গালি দেয়া তার চেয়ে বেশি পাপ। কোন মুসলমানকে তাচ্ছিল্য করা যেমন পাপ তাদেরকে তাচ্ছিল্য করা এর চেয়ে কম পাপ নয় বরং আরো বেশি পাপ। কারণ তাদের এ দুর্বলতার কারণে তাদের ঠাট্টা করা মানে হল আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিকে ঠাট্টা করা। আল্লাহর সৃষ্টিকে হাসি তামাশার বিষয় বানানো। তাই এটি খুবই গর্হিত গোনাহের কাজ।

মৌলিকভাবে ইসলামে পুরুষ ও নারীকেই গণ্য করে থাকে। আর যারা উভলিঙ্গ হয়ে থাকেন তারাও মূলত হয় নারী হোন বা পুরুষ হয়ে থাকেন। তাই তাদের ব্যাপারে আলাদা কোন বিধান আরোপ করা হয়নি। যে উভলিঙ্গের অধিকারী ব্যক্তির মাঝে যেটি বেশি থাকবে, তিনি সেই প্রজাতির অন্তর্ভূক্ত হবেন। তাই তাদের ব্যাপারে আলাদা কোন বিধান আরোপ হবার প্রয়োজনই।

রাসূল সাঃ এ ব্যাপারে বলেন,

أن عليا رضي الله عنه : سئل عن المولود لا يدري أرجل أم امرأة فقال علي رضي الله عنه يورث من حيث يبول

হযরত আলী রাঃ রাসূল সাঃ কে প্রসূত বাচ্চা যে পুরুষ নারী তা জানা যায় না তার বিধান কি? জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূল সাঃ জবাব দিলেন যে, সে মিরাস পাবে যেভাবে প্রস্রাব করে। {সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১২৯৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩০৪০৩, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১৯২০৪}

হিজড়াদের ক্ষেত্রে বিধান হল তাদের নারী বা পুরুষের যে কোন একটি ক্যাটাগরিতে ফেলতে হবে। রাসূল সাঃ এ ব্যাপারে একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেটা হল, দেখতে হবে হিজড়ার প্রস্রাব করার অঙ্গটি কেমন? সে কি পুরুষদের গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? না নারীদের মত গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? গোপনাঙ্গ যাদের মত হবে হুকুম তাদের মতই হবে। অর্থাৎ গোপনাঙ্গ যদি পুরুষালী হয়, তাহলে পুরুষ। যদি নারীর মত হয়, তাহলে নারী। আর যদি কোনটিই বুঝা না যায়। তাহলে তাকে নারী হিসেবে গণ্য করা হবে। সেই হিসেবেই তাদের উপর শরয়ী বিধান আরোপিত হবে।

হিজড়াদের ভিতর যাদের দেখতে পুরুষের মত । গোপনাঙ্গ যাদের সুধু সমস্যা তারা জামাতে নামায পরতে পারবে। যাদের মেয়েদের মত বুক আছে তারা মেয়েদের হুকুমে পরবে। যাদের সুধু গোপনাঙ্গ সমস্যা আর সব ঠিক আছে তারা পুরুষের হুকুমে পরবে। জামাতে নামায পরতে পারবে।

সুতরাং ইসলামে হিজড়াদের ব্যাপারে কিছু বলা নাই বলাটা মুর্খতা বৈ কিছু নয়।

আসসালামুওয়ালাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ ওয়া বারকাতুহ্

হিজড়রাদের ইবাদত সম্পর্কে আল্লাহ এবং তার রাসূল সাঃ কি বলেন ? ওনারা মারা গেলে ওনাদের দাফন কাফন সম্পর্কে ইসলামের বিধান কি ? দয়া করে সহীহ হাদিস অনুসারে জবাব দিয়ে আমাদেরকে বাধিত করবেন ।

জবাব

وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

بسم الله الرحمن الرحيم

কুরআন বা হাদীসে সুষ্পষ্ট কোন বিধান এ ব্যাপারে বর্ণিত হয়নি। তবে ফুক্বাহায়ে কেরাম মূলনীতির আলোকে উক্ত বিষয়টির সমাধান বের করেছেন।

ইবাদতের হুকুম ও বিধানের ক্ষেত্রে নারী-পুরুষ যেমন কোন পার্থক্য নেই। তেমনি পার্থক্য নেই হিজড়াদের বেলায়ও। মৌলিকভাবে মানুষ দুই শ্রেণীর হয়, এক হল নারী। দ্বিতীয় হল পুরুষ। সকল প্রকার ইবাদতের ক্ষেত্রে উভয়ের জন্যই সমান বিধান, কিছু কিছু মাসআলা ছাড়া। আর ইবাদত আদায়ের পদ্ধতিতে নারী পুরুষের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। যা সবার কাছেই স্পষ্ট।

আর হিজড়াদের ক্ষেত্রে বিধান হল তাদের নারী বা পুরুষের যে কোন একটি ক্যাটাগরিতে ফেলতে হবে। রাসূল সাঃ এ ব্যাপারে একটি মূলনীতি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। সেটা হল, দেখতে হবে হিজড়ার প্রস্রাব করার অঙ্গটি কেমন? সে কি পুরুষদের গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? না নারীদের মত গোপনাঙ্গ দিয়ে প্রস্রাব করে? গোপনাঙ্গ যাদের মত হবে হুকুম তাদের মতই হবে। অর্থাৎ গোপনাঙ্গ যদি পুরুষালী হয়, তাহলে পুরুষ। যদি নারীর মত হয়, তাহলে নারী। আর যদি কোনটিই বুঝা না যায়। তাহলে তাকে নারী হিসেবে গণ্য করা হবে।

.

সুতরাং দাফন করার সময় দেখতে হবে পুরুষের ক্যাটাগরিতে অন্তুর্ভূক্ত না নারীর? যেটার অন্তুর্ভূক্ত সে অনুযায়ী দাফন হবে। আর যদি কোন ক্যাটাগড়িতেই না পরে, তাহলে নারীর মত কাফন দাফন করা হবে। তবে এক্ষেত্রে ফুক্বাহায়ে কেরাম একটি পার্থক্যের কথা বলেন যে, এরকম হিজড়াকে গোসল দেয়া হবে না। বরং তায়াম্মুম করানো হবে, যদি রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয় থাকে, তাহলে সে তাকে তায়াম্মুম করাবে। না থাকলে অন্যরা হাতে পট্টি লাগিয়ে তায়াম্মুম করাবে।
.
أن عليا رضي الله عنه : سئل عن المولود لا يدري أرجل أم امرأة فقال علي رضي الله عنه يورث من حيث يبول
.
হযরত আলী রাঃ রাসূল সাঃ কে প্রসূত বাচ্চা যে পুরুষ নারী তা জানা যায় না তার বিধান কি? জিজ্ঞাসা করলেন। রাসূল সাঃ জবাব দিলেন যে, সে মিরাস পাবে যেভাবে প্রস্রাব করে। {সুনানে বায়হাকী কুবরা, হাদীস নং-১২৯৪, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩০৪০৩, মুসান্নাফ আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১৯২০৪}
.
فى الهداية- وإذا كان للمولود فرج وذكر فهو خنثى ، فإن كان يبول من الذكر فهو غلام ، وإن كان يبول من الفرج فهو أنثى ) { لأن النبي عليه الصلاة والسلام سئل عنه كيف يورث ؟ فقال من حيث يبول } وعن علي رضي الله عنه مثله .
.
ولأن البول من أي عضو كان فهو دلالة على أنه هو العضو الأصلي الصحيح والآخر بمنزلة العيب ( وإن بال منهما فالحكم للأسبق ) لأن ذلك دلالة أخرى على أنه هو العضو الأصلي ( وإن كانا في السبق على السواء فلا معتبر بالكثرة عند أبي حنيفة .
.
—— ( وإذا بلغ الخنثى وخرجت له اللحية أو وصل إلى النساء فهو رجل ) وكذا إذا احتلم كما يحتلم الرجل أو كان له ثدي مستو ، لأن هذه من علامات الذكران ( ولو ظهر له ثدي كثدي المرأة أو نزل له لبن في ثديه أو حاض أو حبل أو أمكن الوصول إليه من الفرج فهو امرأة ) لأن هذه من علامات النساء ( وإن لم يظهر إحدى هذه العلامات فهو خنثى مشكل (الهداية، كتاب الخنثى-2/201)
.
وفى الفتاوى الهندية- والخنثى المشكل المراهق لا يغسل رجلا ولا امرأة ولم يغسلها رجل ولا امرأة وييمم وراء ثوب —- والخنثى يكفن كما تكفن المرأة احتياطا- (الفتاوى الهندية- الباب الحادي والعشرون في الجنائز وفيه سبعة فصول الفصل الأول في المحتضر، الفصل فى التكفين-1/160-161)

তথ্যসূত্র

হেদায়া-২/৭০১

ফাতাওয়া তাতারখানিয়া-২০/১৯৬

নসবুর রায়াহ-৪/৪১৭

ফাতাওয়া আলমগীরী-১/১৬০-১৬১}

তাহতাবী আলা মারাকিল ফালাহ-৫৭৩

ফাতহুল কাদীর-১০/৫৪৮-৫৪৯

ফাতাওয়া শামী-৩/৯৯

আল বাহরুর রায়েক-২/৩০৫

বাদায়েউস সানায়ে-৬/৪১৮

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এসআই