রবিবার, ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

নিউমোনিয়ার ওপর সচেতনতা বাড়ানোর বৈশ্বিক দিবসে বিশেষজ্ঞরা

২০৩০ সাল নাগাদ এক কোটির বেশি শিশু মৃত্যুর শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ নভেম্বর ২০১৮, মঙ্গলবার ১২:০৪ পিএম

২০৩০ সাল নাগাদ এক কোটির বেশি শিশু মৃত্যুর শঙ্কা

ঢাকা : ফুসফুসের প্রদাহজনিত রোগ নিউমোনিয়ার কারণে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছরই প্রাণ হারাচ্ছে গড়ে নয় লাখ শিশু। অপুষ্টি, হাম, ভিটামিনের অভাব, পরিবেশ দূষণ, অপর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধপানসহ নানা কারণে আশঙ্কাজনকহারে বাড়ছে রোগটির প্রাদুর্ভাব।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, এখন থেকে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হলে রোগটিতে আক্রান্ত হয়ে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিশু মারা যাবে।

বিশ্বব্যাপী নিউমোনিয়ার ওপর সচেতনতা বাড়ানোর বৈশ্বিক দিবস উপলক্ষে সোমবার (১২ নভেম্বর) বিশেষজ্ঞরা এমন হুশিয়ারি দেন। জন্স হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয় ও সেভ দ্য চিলড্রেনের করা গবেষণার ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত দেখা যায় উন্নত দেশগুলোতে মারাত্মক ধরনের ফুসফুস সংক্রমণ মূলত বয়স্কদের আক্রান্ত করে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে লাখ লাখ শিশু প্রাণঘাতী এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০১৬ সালেও এই রোগে আক্রান্ত হয়ে সারাবিশ্বে ৮ লাখ ৮০ হাজার শিশু মারা যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী দশকের শেষ নাগাদ পাঁচ বছরের কম বয়সী ১০ কোটি ৮ লাখের বেশি শিশু নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যাবে।

গবেষণাটির আলোকে তারা বলছেন, ফুসফুসের প্রদাহজনিত এই রোগটি দক্ষিণ এশিয়া ও সাব-সাহারা অঞ্চলের শিশুদের বেশি আক্রান্ত করবে। এই সময়ের মধ্যে নাইজেরিয়া ও ভারতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে ১৭ লাখ শিশু, পাকিস্তানে সাত লাখ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোতে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ শিশু অকালে প্রাণ হারাতে পারে।

বিশ্বব্যাপী এটি প্রায়ই দুর্বল ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের আক্রান্ত করে। প্রতিবছর ম্যালেরিয়া, ডায়রিয়া ও হামের আক্রান্ত হয়ে মোট যত শিশু মারা যায়, নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চেয়েও বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটে।

তবে গবেষকরা বলছেন, সহজেই এই রোগটিকে প্রতিরোধ করা সম্ভব। চলমান প্রতিষেধক কার্যক্রম জোরদার করে, কমদামি অ্যান্টিবায়োটিকস ও শিশুদের জন্য সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতের মাধ্যমে বাঁচানো যেতে পারে কমপক্ষে ৪১ লাখ শিশুর জীবন। সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়। তবে শুরুতে শনাক্ত করা গেলে তা নিরাময় করা সম্ভব।

এ বিষয়ে সেভ দ্য চিলড্রেনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন ওয়াটকিনস বলেন, রোগটি আসলে চূড়ান্ত দারিদ্র্যের বহিঃপ্রকাশ। গ্রাম ও শহরের বস্তিতে বাস করা এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরাই এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার বেশি ঝুঁকিতে থাকে। তবে দুঃখের বিষয়, বিভিন্ন দেশের সরকার, দাতা সংস্থাগুলো এই তথ্য যথাযথভাবে প্রকাশ করে না।

বাংলাদেশে নিউমোনিয়ার চিত্র : বাংলাদেশেও বায়ুবাহিত এই রোগে প্রতিবছর এক লাখের বেশি মানুষ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। যার মধ্যে ৫ বছরের নিচের ২০ হাজারের বেশি শিশু মারা যায়।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি শিশুকে ছয় মাস বয়স পর্যন্ত শুধু বুকের দুধ খাওয়ানো হয় তবে শিশুর নিউমোনিয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে। তাছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে এবং সুস্থ শিশুকে আক্রান্ত শিশুর কাছে থেকে দূরে রাখলে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব।

সোনালীনিউজ/এমটিআই