মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭

২১ তম বিবাহবার্ষিকীতে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে যা লিখলেন মাধুরী দীক্ষিত

বিনোদন ডেস্ক  | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৭ অক্টোবর ২০২০, শনিবার ০৬:৪৮ পিএম

২১ তম বিবাহবার্ষিকীতে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে যা লিখলেন মাধুরী দীক্ষিত

ঢাকা : বলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাধুরী দীক্ষিত আজ ১৭ অক্টোবর, ১৯৯৯ সালের এই দিনে সাতপাকে বাঁধা পড়েন শ্রীরাম নেনের। আজ তাদের ২১তম বিবাহ বার্ষিকী।  

এদিকে ২১ তম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষে স্বামী শ্রীরাম নেনের উদ্দেশ্য নিজের  ইনস্ট্রাগ্রাম একটি পোস্ট দিয়েছেন মাধুরী। যেখানে তিনি লিখেছেন, ‘আমার স্বপ্নের মানুষের সঙ্গে আরো একটি রোমাঞ্চিত বছর পূর্ণ করলাম আজ। আমরা অন্যদের চাইতে খু্ব আলাদা কিন্তু তোমাকে পেয়ে আমি খুবই সুখী। শুভ বিবাহ বার্ষিকী রাম।’ 
 
যেভাবে পরিচয় হয় শ্রীরাম নেনের মাধুরীর 

শ্রীরাম নেনের সঙ্গে প্রথম সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে সিমি গারেওয়ালের চ্যাট শো ‘রঁদেভু উইথ সিমি গারেওয়াল'-এ মাধুরী জানিয়েছিলেন ‘ওটা ছিল এমন একজনের সঙ্গে দেখা করা যে আমাকে জানত না। তাই আগে থেকে কোনও দেখনদারি ছিল না। ও দেখাতেই বলেছিল- চলো বাইকে করে পাহাড়ে যাই, আমি যে গত ২০ বছর অন্তত বাইক চড়িনি.. সে বলল ঠিক আছে চলো আমি রেডি। 
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত দন্ত চিকিত্সক ডাঃ শ্রীরাম নেনের কোনও ধারণাই ছিল না মাধুরীর জনপ্রিয়তা, তাঁর স্টারডম সম্পর্কে। এই জনপ্রিয়তা সম্পর্কে নেনে প্রথম টের পান তাঁদের বিয়ের রিপেশন পার্টিতে। যদিও একাধিক হাই-প্রোফাইল ব্যক্তিদের মধ্যে কেবল অমিতাভ বচ্চনকেই চিনতে পেরেছিলেন মাধুরীর স্বামী। অপর কোনও বলিউড তারকাকেই তিনি চিনতেন না।

১৯৯৯ সালে বিয়ের পর উজ্জ্বল ফিল্মি কেরিয়ারে ইতি টেনে বিয়ের পর স্বামীর সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পারি দেন মাধুরী।সেখানে হাউস ওয়াইফ হিসাবেই কেটেছে মাধুরীর জীবনের বেশ কিছু বছর। বিয়ের পর দেবদাস (২০০২) ছবিতে অভিনয় করেছিলেন মাধুরী। এরপর পাঁচ বছরের লম্বা বিরতি। 

হাউজ ওয়াইফ হিসাবে নিজের জীবন সম্পর্কে তিনি জানান, ‘বরের জন্য সকাল সাড়ে পাঁচটায় উঠে ব্রেকফাস্ট বানাতাম। উনি সকাল সকাল তৈরি হতে সার্জারির জন্য বার হতেন, আমি তারপর একটু ঘুম দিতাম। তারপর আমার বাড়ির সব কাজ সমালানো। প্রত্যেকটা মিনিট দুর্দান্ত ভাবে কেটেছে আমার হাউস ওয়াইফ হিসাবে’।

মাত্র পাঁচ মাসের চেনা-জানার পরেই বিয়ের সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলেছিলেন মাধুরী। অভিনেত্রীর কথায় ‘হয়ত আমার জনপ্রিয়তা আমার  সম্পর্কে বাধা হয়ে উঠত যদি এদেশের কাউকে আমি বাছতাম (জীবনসঙ্গী হিসাবে)। ওর আমাকে নিয়ে কোনও ধারণা ছিল না। আমি আর আমার শাশুড়ি বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেছিলাম আমার পপ্যুলার ছবি ওকে দেখাতে।কিন্তু ওর সেই নিয়ে কোনও আগ্রহ ছিল না। বলত চল না অন্য কিছু করি, বাইরে যাই..খেতে যাই’।

কী কারণে এই ডেনটিস্টের প্রেমে পড়েছিলেন মাধুরী?  ‘ওর মধ্যে অনেক কিছু জিনিস আছে যেগুলো একদম আমার মতো। আবার কিছু জিনিস আমার থেকে সম্পূর্ন বিপরীত। ওর প্রচন্ড অ্যাডভেঞ্চারাস-যেটা আমি নই।কিন্তু ওর সঙ্গে সব কিছু করতে রাজি ছিলাম...কিছু একটা ছিল’, অকপট উত্তর মাধুরীর।

দেখতে দেখতে সাফল্যের সঙ্গে দাম্পত্য জীবনেরও ২১ বছর পার করে ফেলেছেন এই জুটি। দুই ছেলে অরিন ও রায়ানকে নিয়ে সুখের সংসার মাধুরী-শ্রীরামের। 

তাঁদের সুখী দাম্পত্য জীবনের চাবিকাঠিটা কী? ‘আমরা কোনওদিনও একে অপরকে বদলানোর চেষ্টা করিনি। যেটা বিয়ের পর অনেকেই একে অপরকে করে থাকে। ভালো-মন্দ সবটা মিলিয়েই আমি ওকে ভালোবাসি। আমারও দোষ-গুণ সবকিছুই ও মেনে নিয়েছে’।

উল্লেখ্য, অবোধ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রেখেছিলেন মাধুরী দীক্ষিত৷

সোনালীনিউজ/এএস