শনিবার, ২৪ আগস্ট, ২০১৯, ৯ ভাদ্র ১৪২৬

৪০ হাজার কোটি টাকার চামড়া রপ্তানির লক্ষ্য

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৭ আগস্ট ২০১৯, বুধবার ০২:৩০ পিএম

৪০ হাজার কোটি টাকার চামড়া রপ্তানির লক্ষ্য

ঢাকা : পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির চামড়া রপ্তানির মাধ্যমে ৪০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন চামড়া খাতের ব্যবসায়ীরা।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে চামড়া রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

কোরবানির চামড়া পাচার রোধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। কোরবানির চামড়া যাতে কোনো অবস্থাতেই পাচার না হতে পারে, সে জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ বিভাগ সজাগ রয়েছে বলে জানা গেছে।

মৎস্য ও পশুসম্পদ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এবার দেশে এক কোটির ওপর গরু, ছাগল ও ভেড়া কোরবানি হবে।

আর দেশে সারা বছরে আহরিত চামড়ার প্রায় অর্ধেক সংগৃহীত হয়ে থাকে কোরবানির পশুর চামড়ার মাধ্যমে। চামড়ার গুণগত মান উন্নত হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য এবং ফিনিশড লেদারের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

এ বছর কোরবানির চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে চামড়া খাতের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকের এ বছরের দাম নির্ধারণ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বৈঠকে বাণিজ্য সচিব উপস্থিত ছিলেন।

দাম নির্ধারণী বৈঠকে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এবার গরুর চামড়ার দাম রাজধানীতে প্রতি বর্গফুট ৪৫-৫০ টাকা। রাজধানীর বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। খাসির চামড়ার দাম হবে সারা দেশে ১৮ থেকে ২০ টাকা। আর বকরির চামড়ার দাম সারা দেশে ১৩ থেকে ১৫ টাকা।

এবার চামড়ার দাম কম হওয়ার আশঙ্কা নেই জানিয়ে টিপু মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় কোনো বাজারেই চামড়ার দাম কমেনি। কাজেই দাম কমার কোনো প্রশ্নই আসে না। বৈঠকে চামড়া ব্যবসায়ীরা দেশীয় বাজারে চামড়ার ভালো দাম পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ করেন এবং চামড়া রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন। সভায় বাণিজ্য সচিব মফিজুল ইসলাম বলেন, দেশীয় বাজারে ভালো দামের পাশাপাশি চামড়া রপ্তানি বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে সরকার।

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) এবং বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার গুডস ম্যানুফকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএফএলএমইএ) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের ফিনিশড চামড়ার বড় বাজার ইতালি, জার্মানি, ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) বিভিন্ন দেশ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের চামড়া থেকে তৈরি ব্যাগ, হ্যান্ডব্যাগ জাতীয় পণ্যের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হচ্ছে চীন।  তবে পাশাপাশি সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, হংকং, জাপান এবং ইইউভুক্ত ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, স্পেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাংলাদেশের চামড়া থেকে তৈরি বিভিন্ন রকম ব্যাগ জাতীয় পণ্য রপ্তানি হয়। আর বাংলাদেশের চামড়ায় তৈরি জুতার সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার হচ্ছে জার্মানি।

এ ছাড়া বাংলাদেশের চামড়ার জুতা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, পোল্যান্ড, স্পেন এবং  যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বিপুল পরিমাণে রপ্তানি হয়। পাশাপাশি জাপান, কোরিয়া এবং রাশিয়াতেও বাংলাদেশি চামড়ার ব্যাগ ও জুতার চাহিদা রয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ থেকে ফিনিশড চামড়া (পাকা চামড়া) ও জুতার পাশাপাশি এখন ট্রাভেল ব্যাগ, বেল্ট, মহিলাদের হ্যান্ডব্যাগ ও মানিব্যাগ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চামড়ার তৈরি নানা ফ্যান্সি পণ্যেরও চাহিদা রয়েছে। বাংলাদেশে বেশ কিছুসংখ্যক হস্তশিল্পজাত প্রতিষ্ঠান এসব পণ্য তৈরি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে বলে জানা গেছে।

চামড়া রপ্তানি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বাংলাদেশের চামড়া চাহিদা বেশি।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চামড়া রপ্তানি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন,  সরকারের সহযোগিতায় আমরা রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য কাজ করছি। এবারের কোরবানির সময় প্রাপ্ত চামড়া রপ্তানি করে ৪০ থেকে ৪৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিশ্বের বিভিন দেশ্নে  ১৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের চামড়া রপ্তানি হয়েছে। যদিও এ  লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানির পরিমাণ সাড়ে ১০ শতাংশ কম। একই অর্থবছরে চামড়াজাত পণ্য রপ্তানির  লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ কোটি ডলার। রপ্তানি হয়েছে ২৪ কোটি ৭৩ লাখ ডলার। এ ক্ষেত্রেও লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রপ্তানির পরিমাণ ২৭ শতাংশ কম। আর জুতা রপ্তানি  হয়েছে ৬০ কোটি ৭৯ লাখ ডলার মূল্যের। তবে জুতা রপ্তানিতে রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ৬০ কোটি ডলারের চেয়ে ৭৯ লাখ ডলার বেড়েছে, অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ১ শতাংশের বেশি রপ্তানি হয়েছে।

জানা গেছে, চামড়াশিল্পের উন্নয়নে ও রপ্তানি বৃদ্ধিকল্পে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

শিগগির এ টাস্কফোর্স গঠন হচ্ছে। এ শিল্পের উন্নয়নে এবং রপ্তানি বাড়াতে চামড়া শিল্পনগরীগুলোকে আরো কার্যকর করা এবং নতুন রপ্তানি বাজার অনুসন্ধানের কাজটি তদারক করবে এ টাস্কফোর্স। উন্নত ও  সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে এ টাস্কফোর্স সমন্বিতভাবে কাজ করবে বলেও জানা গেছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই